😔জীবন মানে যুদ্ধ 😔
শাহনাজ বেগম, বয়স চল্লিশের কোঠায়, তিন সন্তানের মা। তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। গ্রামে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে সন্তানদের নিয়ে জীবন যাপন করছেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর শুরু হল প্রকৃত যুদ্ধ। সংসারে টাকা নেই, চারপাশে মানুষের সহানুভূতির বদলে করুণা মেশানো দৃষ্টি।
প্রথম বছরেই বৃষ্টিতে জমি নষ্ট হয়ে গেল। ভাত জুটত না, সন্তানদের কখনো আধপেটা, কখনো না খেয়েই ঘুমোতে হত। কিন্তু শাহনাজ প্রতিদিন মাগরিবের পর সন্তানদের নিয়ে মসজিদের পাশে বসে দোয়া পড়তেন—
"হে আল্লাহ, তুমি তো অন্নদাতা, আমাদের রিজিক দাও, কিন্তু হালাল দাও।"
কিছু লোক এসে বলল—
"তুমি আবার বিয়ে করো, নাহলে বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার।"
শাহনাজ দৃঢ়ভাবে বললেন,
— "আমার সন্তানদের কাছে আমি শুধু মা না, বাবা-ও হব। যত কষ্ট হোক, আমি হালাল পথে উপার্জন করব।"
একদিন হাটে গিয়ে দেখলেন, মহিলারা শাক-সবজি বিক্রি করছে। তিনি নিজের আঙিনায় লাউ, ডাঁটা, পুঁইশাক লাগালেন। অল্প অল্প করে বিক্রি শুরু করলেন।
প্রথম দিনে আয় হল মাত্র ৭০ টাকা। বাড়ি ফিরে সন্তানদের বললেন,
— "দেখো, এই টাকাই আজকের যুদ্ধের জয়।"
সবচেয়ে বড় ছেলে রাকিব পড়াশোনায় ভালো ছিল, কিন্তু টাকা না থাকায় স্কুল ছাড়ার কথা ভাবছিল। শাহনাজ তাকে বললেন,
— "বাবা, তুমি পড়াশোনা করো, আমি ভোরে শাক তুলব, বাজারে বিক্রি করব। আল্লাহ চাইলে তোমার হাতে কলম থাকবে, কাস্তে নয়।"
দিনে শাক-সবজি বিক্রি, রাতে সেলাইয়ের কাজ—এভাবেই চলতে লাগল যুদ্ধ।
একদিন বাজারে এক এনজিও কর্মকর্তার চোখে পড়ে যায় শাহনাজের পরিশ্রম। তারা তাকে ৫ হাজার টাকা মূলধন দিলেন, যাতে তিনি ছোট ব্যবসা বাড়াতে পারেন।
শাহনাজ বললেন,
— "এ টাকা আমার পরিশ্রমের সাথে আল্লাহর রহমত।"
দুই বছরের মধ্যে তার ব্যবসা এতটাই বাড়ল যে, তিনি শুধু নিজের সন্তানদের পড়াশোনা চালালেন না, গ্রামের আরও দুই এতিম শিশুর পড়াশোনার খরচও দিলেন।
আজ শাহনাজের বড় ছেলে রাকিব মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে সে মায়ের হাত চুমু খেয়ে বলল,
— "আম্মা, তুমি শিখিয়েছো—জীবন মানে যুদ্ধ, আর যুদ্ধ জেতা যায় আল্লাহর ওপর ভরসা, ধৈর্য ও হালাল পথে পরিশ্রম দিয়ে।"
শাহনাজের চোখ ভিজে গেল, আর মনে মনে পড়লেন—
❤️নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।" (সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬)❤️
✍️ Ripon Khan ✍️
জীবন মানে যুদ্ধ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
65
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating