সত্যের মৃত্যু নাই

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সত্যের মৃত্যু নেই

রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলেও আকাশে মেঘ জমে আছে। গ্রামের নিরিবিলি রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছে এক বয়স্ক মানুষ—আলহাজ মকবুল হোসেন। তিনি গ্রামের সবার কাছে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু আজ তার চোখে অশ্রু।
কারণ, পরদিন তার জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই—একটা মিথ্যা মামলার শুনানি।

মকবুল হোসেন ছিলেন গ্রামের মসজিদের মোতাওয়াল্লি। বহু বছর ধরে তিনি মসজিদের তহবিল দেখাশোনা করতেন। হঠাৎ গ্রামের এক প্রভাবশালী নেতা, সাইফুল, মিথ্যা অভিযোগ করল—মকবুল সাহেব তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
প্রমাণ হিসেবে কিছু নকল কাগজ ও ভুয়া সাক্ষী হাজির করা হল। গ্রামের অনেকেই সাইফুলের ভয়ে চুপ রইল।
বাড়িতে ফিরেই স্ত্রী জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— "এই বয়সে এত লজ্জা! মানুষ কী বলবে?"
মকবুল শান্ত স্বরে বললেন,
— "মানুষ যা খুশি বলুক, আল্লাহ জানেন আমি নির্দোষ। আর আল্লাহর কাছে ধৈর্যই আমার একমাত্র পুঁজি।"

মামলা চলতে লাগল। একের পর এক শুনানিতে সাইফুল তার প্রভাব খাটিয়ে মকবুলকে দোষী প্রমাণের চেষ্টা করল। এমনকি স্থানীয় সংবাদেও তার নামে কটাক্ষ ছাপা হতে লাগল।
তখন মকবুলের ছেলে রায়হান বিদেশ থেকে ফোন করল,
— "আব্বা, আমি টাকাপয়সা দিয়ে সব চুপ করিয়ে দেব।"
মকবুল রাগে বললেন,
— "না বাবা, সত্য বিক্রি হয় না। আল্লাহর ন্যায়বিচারে আমার ভরসা আছে।"
এভাবেই ৬ মাস কেটে গেল। একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধা—মরিয়ম নানি—হঠাৎ মকবুল সাহেবের বাড়িতে এলেন। হাতে একটি পুরনো খাতা।

তিনি বললেন,
— "বাবা, আমি তখন মসজিদে ঝাড়ু দিতে যেতাম। একদিন সাইফুল নিজ হাতে হিসাবের খাতা বদলাচ্ছিল, আর আসল খাতা আলমারিতে রেখে দিচ্ছিল। আমি ভয় পেয়ে মুখ খুলিনি, কিন্তু আল্লাহ আমার বিবেককে শান্তি দেয়নি। এই নাও আসল খাতা, যা তোমাকে বাঁচাবে।"
মকবুল সাহেব চোখ ভিজিয়ে বললেন,
— "আপনি আল্লাহর রহমত হয়ে এসেছেন মা।"

পরের শুনানিতে আসল খাতা ও মরিয়ম নানির সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হল। সব প্রমাণ উল্টে গেল। বিচারক রায়ে বললেন,
— "মকবুল হোসেন নির্দোষ। বরং সাইফুল প্রমাণ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত।"
আদালত কক্ষের ভেতর স্তব্ধ নীরবতা নেমে এল। সাইফুল মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল।
মকবুল সাহেব সিজদায় পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
— "হে আল্লাহ, তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, সত্যকে রক্ষা করবে। আজ তা আমি নিজের চোখে দেখলাম।"
গ্রামে ফেরার পর সবাই তাকে অভ্যর্থনা জানাল। কিন্তু তিনি শুধু বললেন,
— "ভুলে যেও না, সত্যকে মেরে ফেলা যায় না। হয়তো দেরি হয়, কিন্তু আল্লাহর আদালতে সত্যেরই জয় হয়।"

🍁শিক্ষা:
মিথ্যা যত শক্তিশালী মনে হোক, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তা টিকে থাকতে পারে না।
ধৈর্য ও তাকওয়া সত্যের সবচেয়ে বড় সহায়ক।
ন্যায়বিচারের দেরি হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তা অবশ্যম্ভাবি।🍁

✍️ Ripon Khan ✍️
68 Views
1 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: