সেদিন নদীকে দেখে মনে হচ্ছিল, সে যেন আমার জীবনের শেষ আলো… আর আমি ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি।
আকাশে কালো মেঘ। বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ, আর দূরে বজ্রপাতের পর বৃষ্টির স্রোত নেমে আসছে শহরের গায়ে। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আমি দাঁড়িয়ে, হাতে ভেজা এক খাম—যেটা নদীকে দেওয়ার জন্য লিখেছিলাম, কিন্তু জানি, দেব না।
নদী আসছে ধীরে ধীরে। সাদা শাড়ির ভেতর কাঁপছে তার ভেজা শরীর, চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে গালে। চোখে এক অদ্ভুত ক্লান্তি—যেন সে সারাজীবন কেঁদে এসেছে, আর আজও থামেনি।
আমরা মুখোমুখি দাঁড়ালাম।
শব্দহীন মুহূর্তে শুধু বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, আর আমাদের হৃদয়ের ভাঙনের আওয়াজ।
আমি বলতে চেয়েছিলাম—
"ফিরে আসো, নদী… এই পৃথিবী তোমাকে কষ্ট দিক, কিন্তু আমায় ছেড়ে যেও না।"
কিন্তু ঠোঁট নড়ল না। কারণ আমি জানি, সে ফিরবে না।
ট্রেনের সিটি বাজল।
নদী ধীরে ধীরে পেছনে সরল, তারপর জানালার ধারে উঠে দাঁড়াল। শেষবার তাকাল আমার দিকে—সেই দৃষ্টি, যেখানে ছিল হাজার বছরের প্রেম, হাজার রাতের অশ্রু, আর এক মুহূর্তের মৃত্যু।
ট্রেন চলতে শুরু করল।
আমি স্থির দাঁড়িয়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছি—যেন আমার শরীরটাও আজ ভেঙে যাচ্ছে ভেতর থেকে।
ভেজা চিঠিটার কালি ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে,
যেমন আমাদের গল্পটাও মুছে যাচ্ছে ভাগ্যের নিষ্ঠুর হাতে।
হঠাৎ দূরে নদীর মুখে একটুকরো কাঁপা হাসি… আর আমি দেখলাম, তার আঙুলে পরানো লাল পাথরের আংটিটা নেই।
আমার বুকের ভেতর হাহাকার উঠল—
সে কি শেষ মুহূর্তে কিছু বলতে চেয়েছিল?
না কি… সে এখনও আমার?
ভুলে যাওয়া ভালোবাসা ( পাঠ ১)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
67
Views
3
Likes
1
Comments
1.0
Rating