কে ছিলো আড়ালে — পর্ব ৩: অন্ধকারের মুখোমুখি, আলোর সন্ধান
রিমার জীবন এখন যেন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চলছে। আরাফের অতীত থেকে আসা অদৃশ্য ছায়া তার প্রতিটি সুখের মুহূর্তে এসে অন্ধকার মাখিয়ে দিচ্ছে। তার স্বামীর আচরণ ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে—কখনো দূরে সরে যাচ্ছে, কখনো আবার খুব কাছে আসার চেষ্টা করছে, কিন্তু মনোযোগ যেনো অন্য কোথাও।
দিন যত গড়িয়ে যাচ্ছে, রিমার মনে সন্দেহ ও ভয় জমতে থাকে। সে ভাবতে পারে না কেন আরাফ তার সঙ্গে পুরোপুরি খোলাখুলি হয় না। তার অজানা অতীতের ঝলকগুলো যেনো একটা অন্ধকার ঘর, যার দরজা সে পেতে পারে না।
একদিন সন্ধ্যায়, মসজিদ থেকে ফেরার পথে রিমার সঙ্গে দেখা হয় এক অচেনা মানুষের। তার চোখে ছিলো গভীর কিছু বার্তা, কথা বলতে গিয়েই সে বলল—
"আপনি যদি সত্যিই জানতে চান, তবে আমাকে অনুসরণ করুন। কিছু কথা আছে যা আপনাকে জানতে হবে।"
রিমার হৃদয়ে ভয়ের ছাপ থাকলেও, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সে সেই ব্যক্তির পেছনে পেছনে চলে যায়। তারা পৌঁছে এক গোপন আবাসিক এলাকায়, যেখানে অজানা নথি ও পুরনো কাগজপত্রের মধ্যে দিয়ে রিমাকে জানানো হয়—
"আরাফের অতীত অনেক গভীর, অনেক কঠিন। সে শুধু তোমাকে নয়, নিজের আত্মাকেও লুকিয়ে রাখে। কিন্তু সময় এসেছে সব কিছু প্রকাশ করার। তুমি ধৈর্য্য ধরো, আল্লাহ তোমার সহায় হবেন।"
রিমার চোখে অশ্রু ঝরে এলো। সে বুঝতে পারল, এই যাত্রায় সে একা নয়। আল্লাহর সাহায্য নিয়ে, সে অন্ধকার থেকে আলোর পথ খুঁজে বের করবে।
পরদিন, আরাফের সঙ্গে রিমার একান্ত কথোপকথনে উঠে আসে তার জীবনের এক গোপন অধ্যায়—
"রিমা, আমি তোমাকে আগে সব জানাইনি, কারণ ভয়ে তোমাকে হারানোর ভয় ছিলো। আমার অতীতে এমন কিছু ঘটনা আছে যা আমাকে বারবার ভেঙে দেয়। কিন্তু আমি তোমার পাশে থাকতে চাই, তোমার আস্থা পাইতে চাই।"
রিমার হৃদয় পুড়তে লাগলো। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিলো, যেকোনো সমস্যা যদি আল্লাহর পথে ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়, তাহলে তা জয় করা যায়। সে বললো—
"আমরা যদি আল্লাহর পথে চলি, তাহলে কোনো কঠিনতা স্থায়ী হয় না। আমাদের উচিত ধৈর্য, বিশ্বাস এবং একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করা। আমি তোমার পাশে আছি, আরাফ।"
তবে রিমার জীবন এখন শুধুই আরাফের অতীতের ধাঁধা নয়, পারিবারিক ও সামাজিক চাপেরও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আরাফের ছোট ভাই রফিকের সন্দেহ আর রিমার প্রতি কু-নজর তাদের সংসারে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করছে—
"তুমি আমাদের সংসারের জন্য ঠিক কেউ না। তোমার কারণে আমাদের ভাই বিপদে পড়ছে,"— রফিকের এই কথাগুলো রিমার আত্মবিশ্বাসে আঘাত করে।
তবে রিমা হার মানে নি। সে জানে, ইসলাম তাকে শিখিয়েছে— ধৈর্য্য, ক্ষমাশীলতা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে যেকোনো সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব। তাই সে নিয়মিত নামাজে মনোযোগ দেয়, কোরআনের আয়াত মুখস্থ করে ও দোয়া করে।
এক রাতে, রিমা যখন তার নেমাজ পড়ছিলো, হঠাৎ মনে হলো আল্লাহ তাকে কিছু বলছে— এক গভীর শান্তি আর শক্তি অনুভব করলো সে। সে মুখে উচ্চারণ করলো—
"ইয়া আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দাও, আমাকে শক্তি দাও। আমি চাই তোমার নির্দেশে চলতে। আমাকে বুঝতে সাহায্য করো, আমাকে তোমার পথে অটল রাখো।"
তারপর সে আবার কোরআনের সেই আয়াতগুলো পড়ল—
“আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৩)
“সত্যিকারের বিজয় ধৈর্য্যের মধ্যেই নিহিত।” (সুন্নাহ)
এরপর দিনগুলোতে আরাফ নিজেকে আরও অনেকটাই খুলতে শুরু করে। সে তার অতীতের কিছুমাত্র দুঃখ ও ভুল ভ্রান্তি শেয়ার করে, কিন্তু পাশাপাশি সে তার বদলের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করে। রিমা বুঝতে পারে, তার স্বামী শুধু একজন মানুষ, যাকে আল্লাহর সাহায্য ও মানুষের ভালোবাসার মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব।
তোমরা ধৈর্য ধরো, কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
— (সূরা আল-আমর, আয়াত ১৭)
“ক্ষমাশীল হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।”
— (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৫৩)
গল্পের শেষে, রিমা তার অন্তরের গভীর থেকে প্রার্থনা করে—
"হে আল্লাহ, তুমি আমার ভরসা, আমার শক্তি। তুমি আমার পথ প্রদর্শক। আমার ওপর তোমার রহমত বর্ষিত করো, যেন আমি তোমার নির্দেশিত পথে অটল থাকতে পারি।"
পরবর্তী পর্বের সূচনা:
আরাফের অতীতের অন্ধকার অধ্যায়ের সম্পূর্ণ উন্মোচন।
রিমার ও আরাফের সম্পর্কের টেকসই মেরামত।
পরিবার ও সমাজের চাপ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা ও প্রয়োগ।
✍️ Ripon Khan ✍️
কে ছিলো আড়ালে
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
45
Views
2
Likes
0
Comments
0.0
Rating