কে ছিলো আড়ালে
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
কে ছিলো আড়ালে — পর্ব ১: আকস্মিক বিয়ে, অজানা অধ্যায়
রিমার জীবন ছিলো সরল আর শান্ত। ছোট্ট গ্রামে বড় হওয়া, যেখানে প্রতিটি সকাল আল্লাহর নামের উচ্চারণ আর পাখিদের কুসুমের সুরে ভরে ওঠে। বাবা-মায়ের আদর্শ, মসজিদের ইমামের শিক্ষা, আর গ্রামের মানুষদের সাদাসিধে ভালোবাসা— এগুলো তার জীবনের সব থেকে বড় দিক ছিলো।
কিন্তু কখনো ভেবেও না, তার জীবনে এমন একটা দিন আসবে, যখন কোনো আগাম আলাপ ছাড়াই, আকস্মিক এক বিয়ে তার শান্তিপূর্ণ জীবনকে এক অন্য দিশায় নিয়ে যাবে।
শুধু তিন দিনের মধ্যে, অজানা এক পরিবারের তরফ থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। পরিবার আর রিমার স্বপ্নগুলো এক সঙ্গে না মিললেও, সমাজের অনিচ্ছাকৃত চাপ আর পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সে রাজি হয়।
তাকে বিয়ে দেওয়া হয় আরাফের সঙ্গে, যিনি শহরের একজন তরুণ, বাইরে থেকে দেখতে শান্ত, কথা বলতেও ভদ্র। কিন্তু সে ছিলো এক রহস্যময় মানুষ— তেমন মানুষের মতো হাসতেও পারতো না, চোখে যেনো গোপন কোনো কষ্ট লুকানো ছিলো।
বিয়ের দিন, রিমার অন্তরটা ভয়ে ভরে উঠেছিলো। সে বুঝতে পারছিলো— এই সম্পর্ক তার জীবনে এক নতুন অধ্যায় খুলবে, কিন্তু কী ধরনের তা সে বুঝতে পারছিলো না।
বিয়ের পরের প্রথম রাতে, যখন সবাই বিশ্রামে, আরাফ হঠাৎ করেই একান্তে রিমার কাছে আসলো। তার চোখে অদ্ভুত একটা চিন্তার ছাপ ছিলো—
“আমি জানি তুমি আমাকে বুঝতে পারবে না। আমার অতীত তোমার জন্য ঝুঁকি হতে পারে, কিন্তু আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না,” সে মৃদু কণ্ঠে বললো।
রিমা কিছু বলার চেষ্টা করলো, কিন্তু কথা আটকে গেলো। তার মনে হচ্ছিলো, সে যেনো এক অজানা যুদ্ধে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপেই বিপদ লুকিয়ে আছে।
দিনগুলো গড়িয়ে গেলো, আরাফের আচরণ হয়ে উঠলো আরো অদ্ভুত। মাঝে মাঝে সে দীর্ঘক্ষণ ঘরে একা থেকে বের হত না, ফোনে হঠাৎ অজানা নম্বরে কথা বলতো, আবার কখনো রাতে বারবার চোখ রঙা নিয়ে জেগে থাকতো।
রিমা তার পাশে থেকে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলো, কিন্তু স্বামীর মধ্যে সেই গোপন কথাগুলো তাকে ক্রমে ঘিরে ফেলতে লাগলো। একবার সে তার ফোনে দেখতে পায় এক বার্তা, যার শব্দগুলো তাকে মর্মাহত করে:
“তুমি আমাদের সঙ্গে থাকো না, নয়তো...।”
কেউ কে পাঠিয়েছে? কী জন্য? সে বুঝতে পারছিলো না, কিন্তু ভয় ও সন্দেহের সেল খুলে গেলো তার অন্তরে।
রিমা জানতো, এই জীবন তার জন্য সহজ হবে না। কিন্তু সে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলো—
"ইয়া আল্লাহ, আমাকে শক্তি দাও, আমাকে এই অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যাও। আমি আমার স্বামীর জন্য ভালোবাসা ও সহানুভূতি রাখতে চাই। আমাকে ধৈর্য দাও।"
সে প্রতিদিন তাওবা করলো, নামাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ালো, কোরআনের আয়াত মনে মনে পড়লো।
এক রাতে, যখন শহরের বাতাস ঠান্ডা, আর চারপাশে নীরবতা ছড়িয়ে ছিলো, রিমা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে। তার মনে হলো কেউ তাকে ডাকছে—
“রিমা...”
কিন্তু চারপাশে কেউ ছিলো না।
সে বুঝতে পারলো, এটি কোনো স্বপ্ন নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সংকেত। সে হঠাৎ নামাজের দিকে মন দিলো, চোখের জল মুছে নিয়ে আল্লাহর সাহায্য চাইলো।
পরদিন, তার সামনে এক নতুন সংকেত আসলো— আরাফের প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে একটি চিঠি যা গোপনে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা ছিলো:
"আরে, সাবধান হও, আরাফের জীবন এত সহজ নয়। তার অতীত তোমার জন্য ঝুঁকি হতে পারে। তুমি নিজেকে রক্ষা করো।"
রিমা মনে মনে ভাবলো, “এই ঝুঁকি আমার জন্য নয়, বরং এটা আমার পরীক্ষার এক অংশ। আমি হারব না। আল্লাহর সাহায্য থাকলে আমি সব পারবো।”
🍁 "আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করবে একটু ভয় এবং ক্ষুধায়, সম্পদ, প্রাণ এবং ফলমুলের অভাবে। যারা ধৈর্য রাখে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে, তাদের জন্য রয়েছে পরিতৃপ্তির প্রতিদান।"
— (সূরা বাকারা, আয়াত ১৫৫–১৫৬)🍁
রিমার জীবন শুরু হয়েছে কঠিন এক পরীক্ষা দিয়ে। সে জানে, আল্লাহর সাহায্য ও ধৈর্যের মাধ্যমে সে এই অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
পরের পর্বে দেখা যাবে:
আরাফের রহস্যময় অতীতের এক ঝলক।
রিমার পাশে কে থাকবে তার কঠিন পরীক্ষায়?
পরিবারে নতুন সংঘাত কি তাদের সংসারকে ধ্বংস করবে?
✍️ Ripon Khan ✍️
53
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating