তোমার নীড়ে ফেরার কথা ছিল তবে ফিরবো না কোনদিন! জানি তোমার আমার মিলন কখনো হবে! মিলন তো দুরের কথা তোমার সাথে কখনো দেখা ও হবে না। তোমার সামনে যাইবার তোমারে দেখবার ইচ্ছে অনেকখানি তবুও পূর্ণ হবে না এই অনিবার্য অপেক্ষা।
৫ মাস আগে এক মায়াবতীর সাথে পরিচয় হয়েছিল। মায়াবতী বললে ভুল হবে সে আমার চোখে বিষন্ন রকমের সুন্দরতম মায়াবী, এপিটাফের রাজকন্যা! মায়াবী তার হাসি, মায়াবী তার চোখ.. তার চোখ ছিল অনেক নেশায় ভরা তার চোখে তাকালেই বুকের মধ্যে কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় আমার। তার মায়াবী চেহারা দেখলেই পরাণ খানি ঠান্ডা হয়ে যাইতো।
সেই এপিটাফের রাজকন্যার সাক্ষাৎ হয়নাই আমার।আমাদের কখনো দেখা হয়নাই!!!
আমাদের পরিচয় হয়েছিল কোন একটা অ্যাপের মাধ্যমে।সিনেমার মতো পরিচয় পর্ব না হলেও অনেকটা নাটকিয় ছিল।
শুরু হয়েছিলো টুক টাক কথা দিয়ে
আস্তে ধিরে তার সবকিছু জানতে পারলাম তার বিষয়ে আর অবাক হয়েছি ওরও লেখালেখির শখ আছে। তারপর তার পরিবার সম্পর্কে তার পরিবার চৌধুরী বংশের আরো অনেক কিছু ইত্যাদি ইত্যাদি।
সবকিছুর পর সেই অসাধ্য সত্যটি সামনে আসলো মানে সে আমার দুই বছরের বড় এতো দিনে কারো সাথে কথা বলতে আমার ছোট্ট মন সায় দিলো তাও আবার সে সিনিয়র আহ!এই দুঃখ আমি কারে বলি আসলে সবই কপাল। সবকিছু এলোমেলো লাগতেছিল তারপর একদিন তারে প্রশ্ন করলাম আমতা আমতা করে অনেক ভণিতার পর আচ্ছা তুমি কি আসলেই মেয়ে?
এই কথা শুনার পর সে তো রাগে ফায়ার যদি তার সাথে আমি থাকতাম আমি জ্বইলা পুইড়া ছাউ হইয়া যাইতাম।
তারপর সে তার মনে মনে হয়তো বলছিল- জ্বী না আমি হিজরা প্রাণী যা বেটা যা ইচ্ছা কর। বহু কষ্টে সে নিজের রাগ নিয়ত্বণ করে বলে আমি ভূত,এই কথা শুনার পর আমি বললাম যা যানতে চাইছি বললেইতো হয়।
তখন সে রাগে ফুইলা বললো কইতাম না যেতা মনে করার করইন আসলে তারএকটু গার ত্যারামীর রোগ আছে তাই।
আমরা কিন্তু খুবই ফাস্ট ছিলাম কথা বলার দুই দিনের মাথায় তুমিতে চলে এসেছিলাম বুঝতে হবে আজ কালকের জেনারেশন বলে কথা। জুনিয়র আর সিনিয়রের মধ্য নণষ্টপ কথা হতো।
সে একটা শর্ত রেখে দিলো যে আমরা ফ্রেন্ড হয়ে কথা বলবো কারণ বলা যায় না কাব কাহা দীল আযাতা হে। তো শর্ত অনুসারে কথা হত অনেক আমাদের ভালোই সময় যাইতো। প্রতিটা মূহুর্তে কথা হইতো আমাদের। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও ওরে সময় দিতাম।
সে অনেক ভদ্র আর ভালো ভালো টাইপ ছিল, আমাদের কথা বলতে বলতে একটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল এখন সেই পুরনো রোগে ধরেছে মানে কথা না হলে ভালোলাগতো না যেদিন কথা হইতো না সেদিন মনে হতো পুরাটা দিন বৃথা।
মায়া খারাপ জিনিস অভ্যাস ও খারাপ হুম।
তারপর...
আমি ভীষণ ইমোশনাল টাইপের আগে তো ভালোই ছিলাম যখন প্রথম প্রথম কথা হতো আমাদের কিন্তু পরে কি হইলো জানি না। নিজের মধ্যে আমি নিজে থাকতে পারিনা এই বেলা ভালো তো ঐবেলা খারাপ।
এই ভালো খারাপ লাগার মাঝে সিনিয়রের সাথে কথা বলা কম করে দিই। ভয় লাগতো যদি যা তা বলে দিই।
একদিন এত্ত ইমোশনাল হইছিলাম যে ওরে শুধু বলতাম এ ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে পারি দিবো! অনেক কষ্ট নিয়ে ছিলাম সেদিন এত্ত করে আমার মনের কথা প্রকাশ করছি যে সে বিরক্ত হয়ে যায় আর কথা বলবে না যদি আমি এই আজগুবি কথা বাদ না দিই!! তো কি করার সেদিন এত্ত কষ্টের মাঝে ছিলাম যে অনুভূতি গুলো ওর কাছেই প্রকাশ করি আর সে শান্তনা তো দিলোই না আরো ১হাজার মাইলের লম্বা কষ্ট দিয়ে গেলো মনে!!
সেদিন ভূপৃষ্ঠ থেকে উড়তে উড়তে আর উড়তে পারি নাই নিজের পরিবারের কথা ভাইবা।
একদিকে দুনিয়ার সকল নকল অনুভূতি আর একদিকে মা-বাবা, ছোট ভাই, বোনের অসহায় মুখগুলো ভেসে আসতেছিলো।
মায়ের চিৎকার ভরা কান্নার আওয়াজ মনে আসতেই এক নিমিষেই চলে আসছিলাম ভূপৃষ্ঠে।
আর সিনিয়র এর সাথে কিছু কথা বলেই ওরে ব্লক দিছিলাম প্রথমবারের মতো।
ভাবতেছিলাম যে আমার দুঃখের সময় পাশে না থাকলো সে সুখের সময় থাকবে কেনো।
ওরে সেদিন অনেক বার বলছিলাম আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছে করে না। আর সে সান্ত্বনা না দিয়ে আজগুবি কথা বাদ দিতে বলে!!!
ভাবতেই কেমন অবাক লাগে..
মানুষ মানুষের দুঃখের সময় পাশে থাকে না সেদিন বুজেছিলাম।
পরের দিন সে ব্লক খুলতে রিকুয়েষ্ট করলে আনব্লক করি। তারপর আর ঠিক মতো কথা হয়নাই আমাদের..
সে থাকুক তার মতো আমার সাথে কথা বললে তো আজগুবি কথা শুনতে হবে।
ভয় লাগে যদি আরো একদিন আজগুবি কথা বলে ফেলি!!
******
মেঘাচ্ছন্ন আকাশে হালকা হালকা জোছনা ভরা রাত মিটিমিটি তারার আলোয় ভেসে উঠেছে! রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে নিচে দেখি একটা ডায়েরিটা পড়ে আছে। অন্যের পারসোনাল জিনিস দেখা মোটেই ভালো না তবুও এই ওয়েদাররে ডায়েরিতে কি লিখা আছে পড়তেই পারি।
সামনে তাকাতেই দেখি সামনে লাম্প পোস্টের আলো পাশে একটা বেঞ্জ।
আর কিছু না ভেবে বসে পড়ি আর পড়তে শুরু করে দিলাম।
এই জোছনা ভরা রাতে জোনাকির আলোর মাঝে যদি ১০০০ পৃষ্ঠার লেখা কোনো বই কুড়িয়ে পাইতাম তবে সেটা শেষ করে তারপর উঠতাম।
তারপরের পৃষ্ঠাতে কোনো কিছু লেখা নাই সাদা পৃষ্ঠা অনেক গুলো বাকি আছে। গল্পটা আরো লম্বা হইতে পারতো। পৃষ্ঠা গুলো উলট পালট করেও কিছু পেলাম না। গল্পটার শেষ কি হইতো বা শেষ কি হবে এটা জানার ইচ্ছে হইতেছিলো অনেক।
এখানেই শেষ কি গল্পটা? না এভাবেই হারিয়ে যায় কিছু নিশ্বাস্থ ভালোবাসা? অবহেলায় অযত্নে!?
সবকিছু পৃষ্ঠা এপার ওপার করতে করতে তার পরের পৃষ্ঠাতে কিছু লেখা....
জানো...
তোমাকে নিয়ে ভাবলেই কেন যেন চোখের কোনায় জমে ওঠে একফোঁটা অশ্রু। বুকের ভেতর এক অজানা ব্যথা, যা কেবল তোমার জন্যই। তুমি ছিলে অন্য সবার চেয়ে আলাদা, বিশেষ। তুমি ছিলে আমার হৃদয়ের খুব কাছের, একদম গভীরে থাকা মানুষ। তোমার স্মৃতি, তোমার হাসি, তোমার স্পর্শ-সব যেন এখনও মনে হয় কালকের কথা। অথচ সেই সব স্মৃতি আজ আমাকে একা করে তোলে। আমি আজও প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি, তুমি যেন ভালো থাকো। তোমার নতুন শহর, নতুন জীবনের নতুন মানুষ-সবকিছু যেন তোমার জন্য সুখ বয়ে আনে। তবে, আমার চোখের কোনায় জমে থাকা এই অশ্রু যেন কোনো অভিশাপ হয়ে তোমাকে ছুঁতে না পারে। তোমার জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসা, আর প্রার্থনা। ভালো থেকো তুমি, যেখানে আছো, যার সঙ্গে থাকবা। তুমি সুখেই থাকো নতুন কোনো শহরে, নতুন কোনো গল্পে, নতুন কোনো মায়ায়। _তবুও একটা দীর্ঘশ্বাস রয়ে যায়-তুমি আর আমি, আমরা এক হয়ে উঠতে পারলাম না।
ফেরার পথে
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
31
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating