রাম-সীতা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অনেক আগের কথা, যখন আকাশ ছিল নীলিমার অন্তহীন, আর পৃথিবীর মাটিতে হেঁটে চলত দেবদেবী ও অসুর-দেবতা, তখন এক রাজ্য ছিল আনন্দপুর। আনন্দপুর রাজ্যের রাজা দশরথ ছিলেন এক মহৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসক, যাঁর রাজত্বে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের পরিবেশ বিরাজ করত।

রাজা দশরথের চার পুত্রের মধ্যে রাম ছিলেন সবচেয়ে বুদ্ধিমান, সাহসী এবং ন্যায়ের দৃষ্টান্ত। রাজ্যের সব মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করত আর ভালোবাসত। রাম ছিলেন শুধু রাজপুত্রই নয়, তিনি ছিলেন সবার আশা ও মুক্তির প্রতীক।

রামের সঙ্গী ছিলেন লক্ষ্মণ ও ভাগীরথ, তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী ও রক্ষক। তারা একসঙ্গে রাজ্যের জন্য কাজ করত, আর রাজা দশরথ তাঁদের প্রতি গর্বিত থাকত।

এই রাজ্যের এক প্রান্তে ছিল এক সুন্দর ও পবিত্র বন, যেখানে বাস করত এক অসাধারণ মেয়ে—সীতা। সীতা ছিলেন ধৈর্য, সততা এবং নিষ্ঠার প্রতীক। তিনি ছিলেন ধরণীর কন্যা, মাটির সুরক্ষা আর ভালোবাসার আদর্শ। তার সৌন্দর্য ছিল অমলিন, আর হৃদয় ছিল স্বচ্ছ জলের মতো।

একদিন, রাম বনভোজন করতে বের হলেন। সীতা সেই বনেই গাছের ছায়ায় বসে ছিল। যখন তাদের চোখে চোখ পড়ল, তখন যেন সময় থমকে গেল। রাম বুঝলেন সীতা হলেন সেই মেয়েটি যাকে তিনি সারাজীবন খুঁজছেন। সীতাও দেখলেন রামকে, যিনি ছিলেন তার স্বপ্নের রাজপুত্র।

তাদের ভালোবাসা ছিল পবিত্র, এমনকি আকাশের নীলিমাও ঈর্ষান্বিত হয়েছিল তাদের জন্য। তারা বাগান থেকে ফুল তুলে দিলেন একে অপরকে, যেন সেই ফুলেই ছিল তাদের জীবনের সঙ্গীত।

কিন্তু সেই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হল না। দুঃখের একটি ছায়া তাদের মাঝে প্রবেশ করল—দূরন্ত দানব রাবণ, যিনি প্রতিপক্ষের রাজ্য ধ্বংস করে নিজের রাজত্ব বিস্তৃত করার জন্য ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছিল।

রাবণ সীতাকে বন্দী করল, নিজের অন্ধকার দুর্গে নিয়ে গেল। সীতা যেন তার বন্দিদশায় থাকাকালীনও আলো হয়ে রইলেন।

রাম তাঁর ভাই লক্ষ্মণ ও বুদ্ধিমান হনুমানকে নিয়ে রাবণের দুর্গে হামলার প্রস্তুতি নিলেন। সেই যুদ্ধ ছিল এক মহাকাব্য, যেখানে ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই ছিল কেন্দ্রীয়।

যুদ্ধের মাঝে, হনুমান সীতাকে সন্ধান করে তাঁর মুক্তির জন্য প্রাণপণে লড়াই করল। রামও নিজের জীবনের সমস্ত শক্তি দিয়ে রাবণের সঙ্গে লড়ালেন।

শেষ পর্যন্ত, রাম রাবণকে পরাজিত করলেন, আর সীতাকে উদ্ধার করলেন। তারা ফিরে এল রাজ্যে, যেখানে ছিল আনন্দ আর শান্তির রাজত্ব।

তাদের ভালোবাসার গল্প ছিল যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে সঞ্চারিত, যাকে কেউ কখনো ভুলতে পারেনি।
83 Views
7 Likes
1 Comments
4.5 Rating
Rate this: