কক্সবাজারের অদৃশ্য ছায়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
সন্তানদের বহুদিনের অনুরোধে অবশেষে আমরা ঠিক করলাম কক্সবাজার ঘুরতে যাব। আমি, আমার স্বামী সমির, আর আমাদের দুই সন্তান—দিপাংশু আর আয়ান। সমুদ্রের ধারে হোটেল বুক করলাম, যেন সারাদিন জলের শব্দ উপভোগ করা যায়।
প্রথম দিনটা বেশ ভালোই কেটেছিল। বিকেলে সবাই মিলে সৈকতে হাঁটছিলাম, বাচ্চারা খেলছিল বালিতে। সূর্য ডুবার মুহূর্তে হঠাৎ আমি একা একটু দূরে চলে যাই—শুধু একটু নিঃশ্বাস নিতে। ঢেউয়ের শব্দ, ঠাণ্ডা হাওয়া...সব কিছু শান্ত, কিন্তু কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল।
ঠিক তখনই একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল—পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে! ঘুরে দেখি, কেউ নেই। ভাবলাম হয়ত ভুল দেখছি।
রাতে হোটেলে ফিরে আসার পর থেকেই দিপাংশু কান্না শুরু করল। বলল, “মা, এক আঙ্কেল আমাকে ডেকেছিল বালির নিচ থেকে। বলছিল, ‘আমার সঙ্গে খেলবে?’” আমরা ভেবেছিলাম ওর কল্পনা, হয়ত খুব ক্লান্ত হয়ে গেছে।
পরদিন সকালে আমরা আবার সৈকতে গেলাম। বাচ্চারা দূরে খেলছিল। হঠাৎ দেখি আয়ান কোথায় নেই! সবাই পাগলের মতো খুঁজতে লাগলাম। প্রায় ১০ মিনিট পর, অনেক দূরে একজায়গায় পেলাম ওকে—উঁচু বালির ঢিবির পাশে দাঁড়িয়ে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সাগরের দিকে।
আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। ও শুধু বলল, “মা, ওই আঙ্কেল আবার বলছিল, এবার আম্মুকেও নিয়ে আয়...”
আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। রাতে আমার স্বামী হোটেলের রিসেপশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এই জায়গায় কি এরকম কিছু ঘটেছিল?” এক বয়স্ক কর্মচারী নিচু গলায় বললেন, “এই জায়গাটার পাশে কয়েক বছর আগে এক বাবা আর ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। সমুদ্র নাকি তাদের টেনে নিয়েছিল। অনেকে বলে, শিশুরা ওদের ছায়া দেখে...”
সে রাতেই আমার স্বপ্নে এল এক পুরুষ কণ্ঠ—“তোমাদের পরিবার ঠিক আমার মতো... আমাকেও ছিল স্ত্রী আর সন্তান। তোমরা যদি থেকে যাও... আমরা আবার এক পরিবার হতে পারি।”
সকালে আর দেরি করিনি। দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে রওনা হয়ে গেলাম শহরের দিকে। যাওয়ার সময় হঠাৎ বালির দিকে চোখ গেল—আরশি দাঁড়িয়ে, হাত নেড়ে বলছে, “ওই আঙ্কেল বলছে, আমরা আবার আসব কি না...”
চুপ করে বসে আছি এখন, বাচ্চারা ভালো আছে, স্বামীও হাসিখুশি। কিন্তু রাতে ঘুমাতে গেলে এখনো ঢেউয়ের শব্দের মাঝে কানে ভেসে আসে সেই কণ্ঠ—“আবার আসবে তো?”
গল্পে:দোলন দাস দিয়া
74
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating