তুমি আর আমি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বরাদ্দের মতো জীবনের প্রতিটি দিন কাটে গাজিয়াবাদের ছোট্ট একটি আবাসিক এলাকায়।
সেখানে বাস করে ফয়েজা বেগম, ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা।
তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক, মা গৃহিণী।
ফয়েজার স্বপ্ন খুব সাধারণ — ভালো মানুষ হওয়া, ভালো চাকরি পাওয়া, আর তার ছোট ভাই-বোনদের জন্য ভালো জীবন গড়ে তোলা।

একই এলাকার একটি বাসায় থাকে রিয়াজ খান, ২৩ বছর বয়সী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
তার পরিবার ঢাকাই শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী। রিয়াজ শহরের নতুন আবাসনে কাজ করেন, কিন্তু প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা তার জীবনের নানা গল্প মিশে থাকে রাস্তাঘাটে, পাড়া-মহল্লায়।


---

তাদের পরিচয় হয় তখন, যখন ফয়েজা আর রিয়াজ একদিন পাড়ার মসজিদের পাশে বসে দোয়া করতে দেখে একে অপরকে।
ফয়েজা দোয়া শেষ করে, হঠাৎ রিয়াজ বলল—
– “আপনি খুব সুন্দর দোয়া পড়েন।”
ফয়েজা একটু লজ্জায় হাসল,
– “আপনিও... মনে হয় হৃদয় থেকে প্রার্থনা করেন।”

এই অদ্ভুত আলাপ থেকে শুরু হলো তাদের বন্ধুত্ব।
দিন দিন বাড়তে লাগল কথাবার্তা, শেয়ার করতে লাগল জীবন ও স্বপ্নের গল্প।

রিয়াজ বলল,
– “আমি স্বপ্ন দেখি একটা জায়গার, যেখানে মানুষ ভালোবাসা দিয়ে গড়ে ওঠে, নয় তো কোনো বর্হিভূততা বা বিভাজন।”
ফয়েজা বলল,
– “আমিও চাই আমার স্কুলের শিশুরা এমন একটা পৃথিবীতে বড় হোক, যেখানে তারা ভালোবাসার মাঝে বেড়ে উঠবে।”


---

তাদের সম্পর্ক ছড়িয়ে পড়ল আশেপাশের মহল্লায়।
কিন্তু কিছু মানুষ মেনে নিতে পারল না,
– “ছেলে আর মেয়ের বন্ধুত্বের মধ্যে কি এতো গভীরতা থাকে?”
– “তোমরা কি ওদের ভালোবাসার গল্প শুনছো?”
– “না, আমরা তো সমাজের কথা ভাবি।”

সেখানে শোনা গেল কটুক্তির শব্দ—
– “মেয়েটা আর ছেলেটা কি এক ধর্মের?”
– “না, তারা তো অন্য দুই সম্প্রদায়ের।”

ফয়েজা মনের ভেতর কাঁদল, কিন্তু মুখে কিছু বলে উঠল না।
রিয়াজ বলল,
– “আমরা তাদের কথা নয়, আমাদের কথা ভাবি।”


---

একদিন সন্ধ্যায়, তারা মসজিদের পাশে চুপচাপ বসে ছিল।
রিয়াজ বলল,
– “তুমি জানো, আমাদের ধর্ম তো শেখায় ভালোবাসা।”
ফয়েজা বলল,
– “হ্যাঁ, কিন্তু মানুষ মনে করে ধর্ম মানেই বিভাজন।”
রিয়াজ হাতটা বাড়িয়ে ধরল ফয়েজার হাত।
– “আমরা সেই বিভাজন ভেঙে দিব।”


---

তাদের প্রেমের গল্পটা ছিল ছোটো,
কিন্তু গভীর।
শ্রদ্ধার আলোয় জ্বলজ্বল করতো তাদের জীবন।

কিন্তু একদিন সমাজের চাপে, তাদের পরিবার চাপ দিল—
“তোমাদের এই সম্পর্ক চলবে না।”
তাদের বলল,
“বিবাহ হওয়া উচিত একই সম্প্রদায়ের মাঝে।”

ফয়েজা আর রিয়াজ একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিল—
তারা এই সমাজের ভাঙা বেড়া পেরিয়ে একসাথে বাঁচবে,
অবশ্যই, তবে তাদের ভালোবাসা যেন কখনো ঘাঁটা না পায়।


---

বছর দুয়েক পর, তারা বিয়ে করল।
একটি ছোটো মসজিদে, যেখানে সবাই সম্মিলিত হয়েছিল।
তাদের ভালোবাসা ছিল জীবনের নতুন সূচনা।

ফয়েজা বলল,
– “আমাদের ভালোবাসা শুধু আমাদের নয়,
এই সমাজকে দেখানোর জন্য যে,
ভালোবাসা ধর্মের বাইরে।”
105 Views
7 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: