ফাগুনের সোনালী রোদ্দুর পড়ছে গ্রামটির মাটিতে, যেখানে সবুজ পাতার নরম শব্দ আর পাখির কূজন মিশে এক মধুর সুর গড়ে তোলে। গ্রামের ছোট্ট ঘরগুলোতে মিষ্টি মিষ্টি হাসি আর প্রাণের ঝলকানি ভরপুর। সেই গ্রামের এক কোণে বাস করত রিফাত আর লাবণ্য, দুইটি হৃদয় যার মধ্যে ছিল ফাগুনের মতোই এক জাদুকরী ভালোবাসা।
রিফাত ছিল গ্রামের স্কুলের শিক্ষক। তার চোখে ছিল অদম্য স্বপ্ন আর মন ছিল পরিষ্কার যেমন এই গ্রামের নীল আকাশ। লাবণ্য, গ্রামের সেই কোমল মেয়ে, যার হাসি যেন ফাগুনের ঝরা মাধুরীর মতো মনকে ছুঁয়ে যায়।
ফাগুন এলেই দুজনের জন্য যেন জীবনের সব রং হয়ে উঠে। প্রতিদিন দুপুরবেলা তারা মিঠাই নিয়ে বসত গাছের ছায়ায় গল্প করত, সপ্ন আঁকত তাদের জীবনের, যেখানে তারা একসাথে বেড়ে উঠবে, একসাথে ঝড় পেরিয়ে যাবে।
কিন্তু জীবন কখনো সহজ হয় না। লাবণ্যর পরিবার একদিন শহরে যাওয়ার কথা বলল, উন্নতির খোঁজে। সেই বিদায়ের দিন বেজে উঠল হৃদয়ের এক মধুর ব্যথা।
“তুমি যেও না,” বলল রিফাত কাঁদতে কাঁদতে, “আমার ফাগুন থাকবে না তোমার ছাড়া।”
লাবণ্যও কাঁদল, বলল, “যাই না কেন, ফাগুনের মোহনায় আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে।”
দিন গড়াতে গড়াতে বছর কেটে গেল। শহরের ব্যস্ততা তাদের ছায়ায় ঢেকে ফেলেছিল। কিন্তু হৃদয় ছিল অমলিন, ফাগুনের সেই রঙিন স্বপ্নে আবদ্ধ।
একদিন গ্রামে ফিরে এল লাবণ্য, হাতে নিয়ে ছোট্ট ফুলের তোড়া, আর পাশে দাঁড়াল রিফাত। ফাগুনের ঝরা মেঘের নিচে তারা আবার মিশে গেল একসাথে, যেখানে কেবল ভালোবাসার গান বাজতো।
ফাগুনের মোহনায় বেঁচে থাকে তাদের ভালোবাসা, যেটা দূরত্বের পরেও হারায়নি কখনো।
ফাগুনের মোহনায়
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
38
Views
5
Likes
0
Comments
0.0
Rating