দেবদাস

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
দেবদাস — এই নামটা যেন এক দীর্ঘশ্বাস, এক চিরন্তন অভিমান।
সে এক ছেলেবেলা থেকে শুরু, যেখানে দেবদাস আর পার্বতী— একসাথে বড় হয়ে ওঠা দুই প্রাণ, একই উঠোনে হেসে খেলে জীবন গড়ে তোলা। দেবদাস ছিল জমিদারবাড়ির ছেলে, আর পার্বতী, ওরফে পারো, ছিল পাশের বাড়ির— এক রূপবতী, বুদ্ধিমতী মেয়ে, যার চোখে দেবদাসই ছিল স্বপ্নের রাজপুত্র।

ছোটবেলা থেকেই তাদের মাঝে ছিল এক অদৃশ্য বাঁধন। কেউ বলেন ভালোবাসা, কেউ বলেন বন্ধুত্ব। তবে পারো বুঝত— এই টানটা ভালোবাসার। দেবদাস, একটু লাজুক, একটু অহংকারী — অনুভব করলেও কখনো মুখ ফুটে বলেনি কিছুই।

সময় গড়িয়ে গেলো। কলকাতায় পড়তে গেল দেবদাস। বছরের পর বছর কেটে গেল। পারো বড় হলো, পরিণত হলো এক অপূর্ব নারীতে। সে অপেক্ষা করলো— চিঠি আসবে, দেবদাস আসবে, বলবে, “পারি, আমি তোকে ভালোবাসি।”

কিন্তু দেবদাস এলেও, কথা এল না। চুপচাপ, দ্বিধাগ্রস্ত দেবদাস মুখ ফিরিয়ে নিল। সমাজ, জাত-পাত, মান-অভিমান সব কিছুর বেড়াজালে সে পড়ে গেল। পারো ভেঙে পড়লেও আত্মসম্মান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিল— সে আর অপেক্ষা করবে না। পরিবার তার বিয়ে ঠিক করে দিল এক ধনকুবের, বয়সে অনেক বড় হলেও সামাজিক মর্যাদায় উঁচু।

পারো বিয়ে করল। কিন্তু হৃদয়ে ছিল শুধু দেবদাস।

এদিকে দেবদাস— মদে ডুবে নিজেকে ধ্বংস করতে লাগলো। সে বুঝতে পারল— সে পারোকে ভালোবাসে, ভীষণভাবে। কিন্তু তখন অনেক দেরি। একদিন, হঠাৎ এক নির্জন রাতে সে পারোর বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ায়— শেষ দেখা, শেষ বিদায়ের আশায়।

কিন্তু পারো— আর দেখা করল না। এক উচ্চমর্যাদার ঘরের বউ হয়ে, সে কেবল জানালার ফাঁক দিয়ে দেখল— কাঁপতে থাকা এক অসুস্থ দেবদাস, যাকে ভালোবেসেছিল হৃদয়ের শেষ বিন্দু দিয়ে।

সেই রাতেই দেবদাস চিরঘুমে ঢলে পড়ে পারোর দরজার সামনেই।

সেই দরজা, যেটা একসময় খোলা ছিল, আজ বন্ধ ছিল চিরতরে।
ভালোবাসা ছিল, স্বীকৃতি ছিল না। সময় ছিল, সাহস ছিল না।
এভাবেই, দেবদাস রয়ে গেলো ইতিহাসের এক চিরন্তন নাম,
ভালোবাসা আর অসম্পূর্ণতার অনন্ত প্রতীক।
36 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: