সেদিন দেখা হয়েছিল......

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সেদিন হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গিয়েছিল।
ঠিক যেন সেই পুরনো দিনের মতো—যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল কলেজ ক্যাম্পাসে, গাছতলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটা বই হাতে।

অনন্যা তখন সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছে, আর আরিয়ান ছিল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মাথায় ছেলেমানুষি, আর মুখে সবসময় একটা উদাস হাসি।

প্রথমবার দেখে ভালো লেগেছিল, কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলেনি। দিন পেরোলো, মাস গড়ালো, একদিন হঠাৎ করেই ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে মুখোমুখি।

— “তোমার নামটা জানব?”
— “অনন্যা। আর তোমার?”
— “আরিয়ান।”
তারপর শুরু। গল্প, হাঁটাহাঁটি, চোখে চোখ পড়া—আর একদিন, বিকেলে পড়ন্ত রোদে, আরিয়ান বলে ফেলে,
— “তুমি আমার প্রতিদিনের অপেক্ষা।”

অনন্যা চুপ করে ছিল সেদিন। বলার মতো শব্দ হয়তো ছিল না, শুধু মনটুকু ধীরে ধীরে গলে গিয়েছিল।

তারা ভালোবেসেছিল। খুব গভীরভাবে। যেন কেউ কারো নিঃশ্বাস।

তবে জীবনের সব গল্প তো একসাথে লেখা যায় না।

স্নাতক শেষ হতেই আরিয়ানের বাড়িতে বিয়ের কথা ওঠে। অন্য একজন মেয়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায় বিয়ে—বাড়ির পছন্দ।
আর অনন্যা? সে কিছু বলে না। শুধু এক চিঠি দিয়ে যায় আরিয়ানের ঘরের দরজায়—

“আমি তোমার পাশে থেকে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমার জন্য না হয় আজ আমি একটু দূরে থাকি। যদি ভালোবাসা সত্যি হয়, হয়তো একদিন আবার দেখা হবে। সেদিন হয়তো তুমি আর আমি—আমরাই হবো।”



বছর পেরিয়ে যায়। আরিয়ান বিয়ে ভেঙে দেয়—সে পারত না অন্য কাউকে ভালোবাসতে। কিন্তু ততদিনে অনন্যা পাড়ি জমিয়েছে অন্য শহরে।

সময় চলে যায়। স্মৃতি জমা হয় পুরনো ডায়রির পাতায়।

আর ঠিক সেই স্মৃতির মাঝেই—সেদিন দেখা হয়েছিল।

শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, এক বইমেলায়, তারা মুখোমুখি।
অনন্যা হালকা একটা শাড়ি পরে, কাঁধে একটা ব্যাগ, চুল খোলা।
আর আরিয়ান… চেনা সেই চোখ, তবু আজ অনেক পরিণত।

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর অনন্যাই বলল,
— “কেমন আছো?”
— “ভালো। আর তুমি?”
— “ভালো থাকার চেষ্টা করছি।”

তাদের চোখে জল ছিল না, অথচ কিছু একটা কাঁপছিল।

— “তুমি জানো, আমি তোমার লেখা চিঠিটা এখনও রেখেছি।”
— “জানি,” মুচকি হেসে বলল অনন্যা, “তুমি সবকিছু জমিয়ে রাখতে ভালোবাসো।”

চোখের কোণে অদৃশ্য কিছু জল জমছিল। চারপাশে এত মানুষ, এত শব্দ, তবুও যেন তারা ছিল নির্জন এক দ্বীপে।

আরিয়ান বলল,
— “তুমি জানো, আমি প্রতিদিন সেই পুরনো গাছটার নিচে যাই।”
— “তোমার জন্য?”
— “তোমার জন্য।”

অনন্যা কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে থাকে।

— “তুমি জানো,” সে আবার বলল, “তোমাকে হারিয়ে আমি কাউকেই আর ভালোবাসিনি।”

অনন্যা এবার হাসল, চোখ নামিয়ে বলল,
— “তোমার ভালোবাসা যথেষ্ট ছিল আমার সারাজীবনের জন্য।”

আরিয়ান কিছু বলতে চায়, কিন্তু গলার কাছে কিছু আটকে যায়।

সেদিন তারা আর বেশি কথা বলেনি।

শুধু দুজনেই জানত, কিছু ভালোবাসা শেষ হয় না। কিছু অপেক্ষা কখনোই বৃথা যায় না।

তারা চলে যায়, ভিন্ন পথে, কিন্তু হৃদয়ে রেখে যায় সেই পুরনো ভালোবাসা।

সেদিন দেখা হয়েছিল,
কিন্তু হৃদয় তো প্রতিদিনই দেখা করে।
64 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: