অন্ধকারের রহস্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ঢাকার অন্ধকার রাস্তায় হিমশিম খেতে খেতে এগিয়ে যাচ্ছিল ডিটেকটিভ রাফায়েল খান। সারাদিনের ক্লান্তি আর বৃষ্টির ঠাণ্ডা তাকে বারবার কাঁপাচ্ছিল। কিন্তু তার চোখে কোনো ক্লান্তি নেই। বরং অগ্নি, অদম্য এক ইচ্ছার স্ফুলিঙ্গ। একটা ধোঁয়াটে রাত্রিতে তার সামনে হাজারো প্রশ্নের মায়া জড়িয়ে আছে।

ঢাকার সিআইডি অফিস, যেখানে প্রতিদিন আসে দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া সব জটিল ও গোপনীয় অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব। সেখানে কাজ করতেন রাফায়েল। দীর্ঘ এক দশক ধরে অপরাধের মুখোমুখি হয়ে আসা, নিজের জীবন ঝুঁকি দিয়ে সত্যের খোঁজে বেড়ানো এক সাহসী অফিসার।

কিছুদিন ধরে শহরে চলছিল এক রহস্যজনক খুনের সিরিজ। যারা মারা যাচ্ছিলেন, সবাই বড় বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দুনিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। কেউ বলতে পারছিল না তাদের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতা, কেউ না বুঝে হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছিল।

রাফায়েল ও তার সহকারী, তরুণ ও মেধাবী অফিসার রিয়া রহমান, এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন।

“রাফায়েল, এটা শুধু খুনের ঘটনা নয়,” রিয়া বলল, “এই সিরিজের পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। আর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা কেউ কেউ দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বা রাজনৈতিক লেনদেনে জড়িত।”

রাফায়েল চিন্তায় পড়ল, “তাহলে আমাদের এই ঘটনার পিছনে কারা থাকতে পারে? এবং উদ্দেশ্য কী?”

তারা প্রথম যেখান থেকে শুরু করল, সেটি ছিল একটি ব্যবসায়ীর বাড়ি— যেখানে তার শেষ সময় কাটানো হয়েছিল। তদারকির ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এক ভদ্রলোক গোপনে বাড়ির ভিতরে ঢুকেছে। নাম জানা যায়নি।

তদন্তের প্রথম ধাপেই জানা গেল, দেশের সবচেয়ে বড় অবৈধ অর্থ লেনদেনের একটি চক্র এই ব্যবসায়ীর সাথে জড়িত ছিল।

একদিন রাতে, রাফায়েল অফিসে বসে থাকা অবস্থায় তার ফোন বেজে উঠল। ফোনে গোপন সূত্রের থেকে খবর এল,
“আপনার টিমের একজন সদস্য রনি নিখোঁজ হয়েছে। তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনুন।”

রাফায়েল হৃদয় ভেঙে গেল। রনি, তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সদস্য, যিনি তাজা তথ্য সংগ্রহের কাজে বের হয়েছিল, ফিরে আসেনি।

এই ঘটনার পর পুরো টিমের মনোবল কমে গেল, কিন্তু রাফায়েল জানত, তারা থেমে থাকতে পারে না।

তদন্তের এক পর্যায়ে তারা গোপন সত্তার ছক দেখতে পেল। রাজনৈতিক এক গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, যার হাত আছে এই খুনের পিছনে।

এক সন্ধ্যায়, রাফায়েল এক অন্ধকার গলিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির পিছু নিতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসে হাজির হলো— তার পরিবার কেউ তাকে বিশ্বাস করছে না। সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে তারা।

“আমার ওপর বিশ্বাস রাখো, আমি সত্যি বলতে চাই,” সে বলল রিয়াকে।

তারা দুজনে একসাথে ঝুঁকি নিয়ে রহস্যের গভীরে ঢুকল। নিজের জীবন বিপন্ন করে রাফায়েল পেল এক গোপন নথি, যেখানে দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ ছিল।

এক রাতে তারা সেই নথি নিয়ে পালাতে গেলে, একদল কালো পোশাকধারী দুষ্কৃতিকারী তাদের ওপর হামলা চালাল। গুলির শব্দে রাতটা জুড়ে কেঁপে উঠল। রাফায়েল নিজের শারীরিক ক্ষত সত্ত্বেও গোপন নথি সুরক্ষিত রাখল।

শেষমেষ সিআইডির সাহসী তদন্ত দলের প্রচেষ্টায়, সেই গোপন চক্র ভেঙে পড়ল, যারা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল।

দেশের মানুষ পেল শান্তি। বিচার হল সঠিক পথে।
রাফায়েল জানল— এটা একটা ছোট যুদ্ধ, দেশকে রক্ষা করার লড়াই চলবে চিরকাল।
56 Views
6 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: