দুপুরের রোদটা আজ যেন একটু বেশি ঝলমলে। কিন্তু তার মধ্যেও শহরের ব্যস্ততায় হারিয়ে গেছে একজোড়া চোখ—যে চোখ প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থাকে পুরনো রেলস্টেশনের ধারে, ঠিক যেখানে একদিন দাঁড়িয়ে ছিল হিয়া।
রিফাত এখন আর কারও জন্য অপেক্ষা করে না, কেবল হিয়ার জন্যই করে। পাঁচ বছর আগের সেই বসন্ত বিকেলে হঠাৎ করেই হারিয়ে গিয়েছিল হিয়া—না কোনো চিঠি, না কোনো ফোনকল, শুধু একটা ছোট্ট নীল খাম, যাতে লেখা ছিল:
"আমি থাকবো না রিফাত... কিন্তু তুমি থেমো না। ভালো থেকো।"
রিফাত থামেনি, কিন্তু চলেওনি। সে আটকে আছে ঠিক সেদিনের মতোই—হিয়ার শেষ হাসির মধ্যে, শেষ ছোঁয়ার মধ্যে, আর শেষ কথার মধ্যেই।
প্রতিদিন বিকেল চারটায়, সে যায় সেই রেলস্টেশনে। সে জানে হিয়া আসবে না। তবুও এক ধরনের আশার মৃত্যু দেখতে দেখতে, সে নিজেকে মেরামত করে।
একদিন হঠাৎ করে, ঠিক বিকেল চারটা পাঁচে, একটা ট্রেন এসে থামে। ভিড়ের মধ্য থেকে একজোড়া চোখ তাকায় তার দিকে। চোখদুটি যেন হিয়ার মতো। কিন্তু না, এটা হিয়া না। হিয়ার মতো অনেকেই আসে, অনেকেই যায়। কেউ থাকে না।
রিফাত জানে, হিয়া যদি বেঁচেও থাকে, তার কাছে ফিরবে না। কারণ যে হারিয়ে যায় স্বেচ্ছায়, সে আর ফেরে না ভালোবাসার খোঁজে।
তবুও...
সে অপেক্ষা করে।
এই অপেক্ষাটাই তার ভালোবাসা।
একদিন হঠাৎ, রেলস্টেশনের পুরনো বেঞ্চটার নিচে একটা চিঠি পায় রিফাত। তাতে লেখা:
"আমি তো ফিরতে চেয়েছিলাম... কিন্তু ফিরে এসে দেখেছিলাম, তুই বদলে গেছিস। আমার জায়গায় তোর নতুন কোনো অপেক্ষা বসে আছে। তাই আর ডাকিনি। তুই ভালো থাকিস, হারানো হিয়া।"
রিফাত চিঠিটা ধরে বসে থাকে অনেকক্ষণ। তার চোখে জল নেই, শুধু নিঃশ্বাস ভারী। সে বুঝতে পারে, মানুষ হারায় না—হারিয়ে ফেলে তার ভেতরের কাউকে। আর সেই হারানো মানুষটাই হয়তো সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে আপন।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। চলে আসে স্টেশন ছেড়ে। এবার আর ফিরে তাকায় না।
হিয়াকে সে আর খোঁজে না, কারণ সে জানে— হারানো হিয়া আর ফিরে আসে না।
হারানো হিয়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
44
Views
4
Likes
0
Comments
0.0
Rating