প্রাচীন কাল থেকে বাংলার মানুষের মনে ছিল এক বিশেষ দিন — মহালয়া। এই দিনটিকে মানত, কারণ এই দিন থেকে শুরু হত দুর্গাপূজার আয়োজন, আর বাতাসে মিশত মন্ত্রের সুর।
কিন্তু একবারের কথা, বহু বহু বছর আগে, বাংলার এক শান্ত গ্রামে বাস করত মণি নামে এক বৃদ্ধ যাজক। মণি ছিলেন এক অনুপ্রাণিত মানুষ, যিনি দেবী দুর্গার প্রতি গভীর ভক্তি করতেন। তিনি প্রতিদিন পূজা করতেন, মন্ত্রপাঠ করতেন এবং গ্রামের মানুষকে ধর্ম ও প্রকৃতির মাঝে সেতুবন্ধন করার শিক্ষা দিতেন।
মণির মনে ছিল এক গভীর বিশ্বাস, যে দেবী দুর্গা আমাদের রক্ষা করেন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে, এবং মহালয়ার দিন সেই শক্তি সর্বাধিক জাগ্রত হয়।
একবার গ্রামে আসল এক বিশাল অন্ধকার মেঘ, যা শুধু প্রকৃতির নয়, এক ধরনের অশুভ শক্তির প্রতীক ছিল। গ্রামের মানুষ ভয় পেল, কারণ তাদের জানামতে অন্ধকার যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, ততই শত্রুরা আগ্রাসী হয়।
মণি বিশ্বাস করলেন, এই অন্ধকারকে দূর করতে হলে মহালয়ার পূজা আরও শক্তিশালী ও নিবেদিত করতে হবে। তিনি গ্রামবাসীদের জড়ো করলেন, মন্ত্রপাঠের জন্য প্রস্তুতি নিতে বললেন।
মহালয়ার ভোরে, যখন সূর্য অস্তমিত হচ্ছিল আর প্রভাতের কুয়াশায় প্রকৃতি ঘুমাচ্ছিল, মণি আর গ্রামের সবাই একসাথে বসে দেবী দুর্গার মন্ত্রপাঠ শুরু করল।
তাঁদের কণ্ঠে মন্ত্রের সুর ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে, আর সেই সুরে মেঘ যেন ভেঙে গেল। আলো ফিরে এলো, অশুভ শক্তি দূরে সরে গেল।
গ্রামের সবাই বুঝল, মহালয়া শুধু পূজার শুরু নয়, এক শক্তি যা অন্ধকারকে হারাতে পারে।
মণির ভক্তি আর নেতৃত্বে সেই দিন থেকে মহালয়া হয়ে উঠল বাংলার মানুষের প্রাণের উৎসব, যেখানে ধর্ম, বিশ্বাস আর প্রকৃতির মিলন ঘটে।
মহালয়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
42
Views
4
Likes
0
Comments
0.0
Rating