মা একটু আগে খাটের উপর একটা পিংক কালারের শাড়ি রেখে গিয়ে বলে,
- শাড়িটা তারাতাড়ি পরে রেডি হয়ে নে আরশি। এক্ষুনি পাত্র পক্ষ এসে পরবে।
কিন্তু বি*ষণ্ন মনে চুপচাপ আয়নার সামনে বসে আছে আরশি। মামা ফ্রান্স থেকে ফিরেছেন আজ ৫ দিন হলো। তাই তার ছেলে মানে আরশির কাজিন রিদ ভাইয়ের সাথে তার বিয়ের কথাবার্তা বলতে। বিয়েটাও হয়তো খুব তারাতারি হয়ে যাবে।
গালে হাত দিয়ে গভির ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেলো আরশি। সব সময় মেয়েদের ক্ষেত্রেই কেন এমন হয়? মেয়েদেরকেই কেন সব ছেরে শশুর বাড়ি চলে যেতে হবে? ছেলেরা কেন শশুর বাড়ি যায় না? নিয়ম টা উল্টো হলে কি এমন ক্ষ*তি হতো?
ইশ' যদি এমন হতো,,,,
- এই রিদ তারাতারি পাঞ্জাবিটা পরে একধম ভদ্র ভাবে চুল আচড়িয়ে রেডি থাক। একটু পর তোকে পাত্রী পক্ষ দেখতে আসবে।
পাত্রী পক্ষের কথা শুনে মন খা*রাপ হয়ে গেলো রিদের।
নিরবে চোখের পানি মুছে, পাঞ্জাবি টা পরে ফিতা কেটে চুল আচড়িয়ে একধম ভদ্র ভাবে রুমে বসে আছে রিদ।
ওদিকে পাত্রি পক্ষ এসে গেছে ছেলে দেখতে। ওদের সাথে কিছুক্ষন কথা বলে রিদের মা রিদের বাবাকে বললো,
- যাও রিদকে নিয়ে আসো।
রিদের বাবা উঠে রিদেকে রুম থেকে বের তার হাতে ৬ টা শরবতের গ্লাস ও নাস্তা ভর্তি একটা ট্রে ধরিয়ে দিয়ে বললো, সবার সামনে যেতে।
রিদ চুপচার মাথা নিচু করে সবার সামনে ট্রে টা রেখে এক পাশে দাড়ালো। আরশির বাবা তাকে ধরে আরশির পাশে বসালো।
এক রাশ লাজুকতা নিয়ে নিচের দিকে চেয়ে আছে রিদ।
পাশ থেকে আরশির মা বলে,
- তো বাবা কেমন আছো?
রিদ ভদ্র ছেলের মতো মাথা নেড়ে জবাব দিলো,
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
আরশির মা একটু হেসে বলে,
- যদি কিছু মনে না করো, তাহলে তোমাকে কিছু প্রশ্ন করবো বাবা। কারণ তোমাকে সারা জীবনের জন্য আমার বাড়ির জামাই বানিয়ে নিয়ে যাবো, তাই একটু প্রশ্ন করার ছিলো।
রিদ নিচের দিকে চেয়ে থাকা অবস্থায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।
আরশির মা আবার প্রশ্ন করে,
- তুমি কোন ক্লাস অব্দি পড়েছো বাবা?
রিদ মিন মিন করে বললো,
- অনার্স কমপ্লিট। তবে আরো পড়ার ইচ্ছে আছে।
আরশির মা হেসে বলে,
- সমস্যা নেই আমার বাড়িতে গিয়েও পড়াশুনা করতে পারবে। তো তুমি ঘরের কাজ কর্ম সব পারো তো?
রিদ মাথা নিচু করে 'হ্যা' সুচক উত্তর দিলো। ঘর মোছা, পাতিল ধোয়া, থালা বাসন ধোয়া, কাপর কাচা এভ্রিথিং অল।
আরশির মা আবার প্রশ্ন করে,
- রান্না-বান্না কি কি পারো?
পাশ থেকে রিদের বাবা বলে,
- আমি ওকে মোটামুটি সব শিখিয়ে নিয়েছি। বাকিটা আপনাদের সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিবে।
আরশির মা আবার হেসে বলে,
- আচ্ছা সমস্যা নেই। তো বাবা একটু হেটে দেখাও তো।
রিদ লক্ষি ছেলের মতো এপাশ ও পাশ দুইবার হাটলে আরশির মা বলে,
- আচ্ছা আচ্ছা বসো।
রিদ আবার বসে গেলো। আরশির মা এক গাল হেসে বলে,
- আলহামদুলিল্লাহ ছেলে আমার পছন্দ হয়েছে। একধম ভদ্র ছেলে, আমার ঘরকে নিশ্চই আলোকিত করে তুলবে।
বলেই আরশির হাতে একটা রিং দিয়ে বলে,
- নে মা, এটা ওর হাতে পড়িয়ে দে।
আরশিও একটা ভাব নিয়ে রিদের আঙুলে রিং পড়িয়ে গিলো। মাথা নিচু অবস্থায় ল*জ্জায় লাল হয়ে গেলো রিদ।
ফাইনালি বিয়ের দিন চলে এলো। সারা বাড়ি সাজানো হয়েছে ঝাকঝমক পূর্ণ ভাবে। ওদিকে রিদ রুমে বসে হাটুতে মুখ গুজে কাঁন্না করে যাচ্ছে।
তার বাবা রুমে প্রবেশ করে দেখে রিদ কাঁদছে। ছেলের পিঠে হাত রেখে সে বলে,
- কাঁদিস না বাবা। প্রত্যেক ছেলেকেই একদিন নিজের বাড়ি ছেরে শশুর বাড়িতে চলে যেতে হয়। এটাই নিয়ম। বাস্তবতাকে মানিয়ে নিতে হয়। যেমন আমিও এসেছি।
রিদ বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
- আমি তোমাদের ছেরে যাবো না বাবা। আমি তোমাদের ছারা কিভাবে থাকবো?
বাবা তাকে শান্তনা দিতে বলে,
- আমরা দু'দিন পর পর তোকে দেখতে যাবো বাবা।
ফাইনালি বিয়েটা সম্পন্ন হলো তাদের। স্টেজে আরশির পাশে মাথা নিচু করে বসে আছে রিদ। পাশে আরশি হাসি মুখে নানান পোস নিয়ে ছবি তুলতে ব্যাস্ত। এদিকে রিদের ভেতর টা আজ জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। বাবা-মা সবাইকে ছেরে চলে যেতে হবে আজ।
বিদায় মুহুর্তে বাড়িতে কাঁন্নার রোল পড়ে গেলো। রিদ তার বাবাকে ধরে কাঁদছে আর বাবা তাকে ধরে কাঁদছে। বিদায়ের মুহুর্তটা খুবই কষ্টের। ওদের বাবা ছেলের কাঁন্না দেখে আশে পাশের সবার চোখে পানি চলে এলো। কারণ, মন তাদের কেমন কেমন করে।
এদিকে আরশি বার বার তাড়া দিচ্ছে জামাই নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য।
গাড়িতে বসে কাঁদছে রিদ। চোখের জল মুছতে মুছতে টিসুর বক্সটা খালি হয়ে গেলো। পাশ থেকে আরশি তাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
- কাঁদেনা আমার বাবুটা। আমার বাড়িতেই তো যাচ্ছ তাই না? এতো কাঁন্না করার কি আছে?
কিন্তু না, রিদ এখনো কাঁন্না করেই চলছে।
ইশ, এমন যদি হতো?
,
,
হটাৎ আরশির ধ্যান ভাঙে কারো কয়েকটা তুড়ির আওয়াজ কানে আসতেই। ভিমড়ি খেয়ে ভুত দেখার মতো চমকে উঠে পাশে তাকায় আরশি। দেখে রিদ তার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।
ভয়ে ভয়ে আরশি প্রশ্ন করে উঠে,
- আপনি কখন আসলেন?
রিদ তার দিকে চেয়ে বলে,
- ১০ মিনিট হলো এখানে বসে আছি। এর আগে তোর মা কয়েকবার ডেকে গেছে। ড্রয়িং রুমে বাবা মা সবাই বসে আছে তোর জন্য। কোন ধ্যানে ডুব দিয়েছিলি?
আরশি কিছুটা লজ্জা পেলেও একটা দির্ঘশ্বাস নিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
- ভাবছি, এমন যদি হতো?,,,,,
~~ সমাপ্ত,,,,,
আরশির_ভাবনার_জগৎ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
251
Views
4
Likes
3
Comments
3.5
Rating