হারুন সাহেব সকালে চা খাচ্ছিলেন বারান্দায় বসে।
হঠাৎ গলা উঁচু করে বলেন,
— "এই মনোয়ারা! আমার চশমা কই? আবার তোর কাপড়ের ঝাঁপির মধ্যে ঢুকাইছোস নাকি?"
মনোয়ারা রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে বলে,
— "চশমা চোখে লাগানো আছে, আর কী লাগবি? টিভি?"
সোনাই পাশ থেকে বলে,
— "আব্বা, তুমি তো কাল রাতে মোবাইল খুঁজতে গিয়ে ফ্রিজ খুইলা দেখছিলা। এবার চশমা চোখে পরে খুঁজতেছো!"
হারুন সাহেব গম্ভীর হয়ে বলেন,
— "বড় হলে বুঝবি! পুরুষ মানুষ অনেক চিন্তায় থাকে… চশমা চোখে লাগানো আছে বুঝি না! কই! কই!"
---
একদিন — দুপুরে খাওয়ার সময়
ঝুমকি তার ফোনটা একবার মুখের সামনে ধরছে, আবার একবার কোণায় রেখে নাচছে।
হারুন সাহেব কপালে হাত দিয়ে বলেন,
— "এ কোন পাগল হইছে! তুমি কি মানুষ না তো মোবাইলের মূর্তি?"
মনোয়ারা বলেন,
— "নাচ তো ঠিকই শিখছে, হিন্দি সিনেমা দেখে বেগুন কেটেছে তিনবার—সব তির্যক! পেঁয়াজও কান্দে!"
---
আবার একদিন—
আসিফ জামাই এসেছে। বুকে ল্যাপটপ, হাতে চা, মুখে সিরিয়াস ভাব।
হারুন সাহেব বলেন,
— "এই আসিফ, চাকরি কই?"
আসিফ গম্ভীর মুখে উত্তর দেয়,
— "আব্বু, এখনো অনলাইন বিজনেস সেটআপ করছি… ড্রপশিপিং এর ধাপ তিনে আছি।"
হারুন সাহেব বলেন,
— "তোর ধাপ শেষ হইতে হইতে আমার রিটায়ারমেন্ট হবে। আমি মনে করি তুই 'ড্রপশিপিং' না, আমার 'ড্রপব্যান্ড' করতেছিস!"
মনোয়ারা পেছন থেকে বলে,
— "আমি তো ভাবতেছিলাম আসিফ কিছু না কিছু করবেই… শেষমেশ কেবল চা খাওয়া ছাড়া কিছু পারে না!"
---
পরিবারের সবচেয়ে বড় কাণ্ড ঘটে ঈদের দিন।
ঝুমকি নতুন জামা পরে TikTok লাইভে, সোনাই নতুন পাঞ্জাবি পরে স্ট্যাটাসে লিখেছে—
> "ঈদের নামাজ পড়তে গিয়ে আব্বার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ!"
হারুন সাহেব মাথায় হাত দিয়ে বলেন,
— "আমার ইজ্জত এখন লাইভে চলে গেছে! আরেকটু হলে জামাই আসিফ সেটা বুস্ট করে দিত!"
---
শেষমেশ—
মনোয়ারা বলেন,
— "এই সংসারে শান্তি চাইলে তুই সকাল ৬টায় ওঠে মসজিদে গিয়ে ঘুমা, আমি আর থাকতে পারি না এই পাগলদের নিয়ে!"
হারুন সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন,
— "আমি তো ভাবছিলাম ছেলেমেয়েরা বড় হইলে শান্তি পাবো… এখন দেখি একটাই শান্তি—লাইট চলে গেলে সব চুপচাপ!" 😆
হারুন সাহেবের পরিবার
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
46
Views
4
Likes
0
Comments
0.0
Rating