বিয়েতে ছয়টাই পাতিল আর একটাই বর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বাবলু শেখের স্বপ্ন—একটা সুন্দরী বউ, আর বউয়ের সঙ্গে হানিমুনে যাবেন সাতক্ষীরার চিংড়িঘাটে।
কিন্তু তার সমস্যা একটাই—সে সারাদিন মোবাইলে ফ্রি ফায়ার খেলে, আর বলে,
— “আমি একদিন স্ট্রিমিং করে টাকা কামাবো, এখন প্র্যাকটিস করতেছি।”

রইস মোল্লার মেয়ে জামিলা, দেখতে মাশাআল্লাহ! কিন্তু যেদিন থেকে জামিলার বিয়ের কথা উঠলো, পাত্রী পক্ষের সব প্রস্তাব উড়ে গেল বাবলুর রংচটা ফেইসবুক প্রোফাইল দেখে।

রইস মোল্লা একদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন,
— “এই গ্রামে জামিলার বিয়ে হইলে, হাফ পেটা চা'র দোকানেও আর তার বর চা খাইতে পারবো না! মর্যাদার ব্যাপার!”


---

একদিন হঠাৎ গ্রামে রটে যায়—

> "বাবলু শেখরে নাকি বর বানাইতে চায় জামিলার পরিবার!"



গাঁয়ের চায়ের দোকানে বসা খোরশেদ কাকা গলা কাঁপিয়ে বলে,
— “বাবলু আর বর! তেল থাকলে তবেই তো খিচুড়ি! এই ছেলে তো নিজের গেঞ্জি নিজেই ইস্ত্রি করে না!”


---

কিন্তু এখানে আসে আসল নাটক।

বিয়ের দিন বাবলু শেভ করে আসলো মঞ্চে, মুখে জোর করে হাসি এঁটে বসে আছে।
হঠাৎ এক দৌড়ে আসে বাবলুর চাচাতো ভাই বদরুল, সে চিৎকার দিয়ে বলে,
— “ভাইরে! বিরাট ভুল হইছে! এই পাতিলগুলা নাকি অন্য বিয়ার! জামিলার বিয়ার পাতিল আসে নাই!”

রান্নাঘরে দেখা গেল—৬টা পাতিলের ভেতর শুধু একটা পাতিলে পোলাও, বাকিগুলা খালি।

মোড়ল রইস মোল্লা দাঁত কামড়ে বললেন,
— “এই পাতিল যেই নিছে, আমি তারে পাতিলসহ ভেজে খাওয়ামু!”


---

একদিকে পাতিল উধাও, অন্যদিকে হুজুর এসে পড়েছেন, আর জামিলার গায়ে হলুদের হলুদ এখনো উঠে যায়নি।

হুজুর দাঁত খিঁচিয়ে বললেন,
— “আপনারা ঠিক বলেন, এই বিয়েটা কি পাতিলের বিয়ে না মানুষের?”

বাবলু তখন মুখ চুপ করে ভাবছে,
— “পাতিলের দোষে আমার বউ গেলো বুঝি?”


---

কিন্তু তখনই জামিলার ছোট ভাই বুমকি, যেই কিনা সদ্য টিকটক খুলছে, সে এসে বলে,
— “আমি পাতিল দেইখা আইছি! উনি তো পাশের বিয়া থেকে পাতিল নিয়া গেছে—ওখানে লাল শাড়ি পরা এক আপু ছিল... উনি বলছিলেন উনার পাতিল খালি, তাই আমাদেরটা নিলেন।”

সবাই চমকে যায়!

বিয়ের পাতিল চুরি গেছে পাশের বিয়াতে!!


---

এইবার দুই বিয়ের বর মুখোমুখি।

একজন হলো বাবলু (অফিশিয়াল গরিব-স্টাইল বর),
অন্যজন হলো পাশের গ্রামের দুলাল (স্টাইলিশ দাড়ি আর পাঞ্জাবি পরা জামাই)।

দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হলো "পাতিল পুনরুদ্ধার সংঘর্ষ"।

বাবলু বলল,
— “আমার পাতিল দিলে ভালো কথা, না দিলে আমি বিয়া করবো না। আরে ভাই, পাতিল ছাড়া মানুষ বাঁচে?”

দুলাল বলল,
— “তোমার পাতিল আমার হেঁসেলে বসছে, এখন আমি কই দিয়ে দিমু?”


---

তর্কের মধ্যেই হঠাৎ দুলালের শ্বশুর মশাই বলে উঠলেন,
— “আচ্ছা, পাতিল ভাগ করে নেই? তিনটা ওনার, তিনটা আপনার!”

সবাই হেসে ফেটে পড়ে।
হুজুর বললেন,
— “ভাত তো ভাগ হলো, এবার বউ নিয়া কী করবা? তাও ভাগ করবা?”


---

শেষ পর্যন্ত, পুলিশ আসলো, মাথা চুলকে বলল,
— “এত বড় সমস্যার নাম ‘পাতিল মামলা ধারা ৬/৯’ না হলে কিছুই না!” 😆


---

শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলো না, পাতিলও ফিরে এলো না।
বাবলু বসল একা একাই মঞ্চে, আর কাঁদতে কাঁদতে বললো—
— “বউ পাই নাই, পাতিলো গেল... ফ্রি ফায়ারই বেস্ট!”
56 Views
3 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: