মেঘ বৃষ্টি রোদ

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
গ্রামের পাড়ায় তখন সন্ধ্যার মায়া।
আকাশে মেঘ জমেছে, কিন্তু রোদ ঠিক যেন হাসছে কোথাও লুকিয়ে।
মাটির গন্ধ, বাতাসে ভেসে আসা নতুন ধানের সুবাস, আর মাঝে মাঝে পাখির গান—সব মিলিয়ে যেন একটা জাদু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাকিব সেই পাড়ার এক ছেলেবেলা থেকেই বনে বেড়াত বনের পথ ধরে।
শহরের কোলাহল থেকে একদিন সে এখানে এসেছে—শান্তি পেতে, প্রাণকে কিছুক্ষণ ছেড়ে দিতে।
আর সেখানে, বইয়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সুমাইয়া,
মৃদু হাসি আর নরম চোখে যেনো গ্রাম্য স্বপ্ন জড়িয়ে রেখেছে সে।

“তুমি জানো,” রাকিব হঠাৎ বলল,
“মেঘ আর রোদ একসঙ্গে থাকতে পারে না।”

সুমাইয়া চমকে তাকালো,
“কেন? ওরা তো একসঙ্গে থাকলে ঝড় হয়, বজ্রপাত হয়।”

রাকিব মৃদু হাসল,
“সেটাই তো। কিন্তু আমার মনে হয়, মেঘ আর রোদ একসঙ্গে থাকতে না পারলেও,
আমাদের ভালোবাসা পারে একসাথে থেকে এক নতুন রঙ আনতে।
মেঘের কোমলতা আর বৃষ্টির মিষ্টতা মিলে রোদ্দুরের উষ্ণতার সঙ্গে মিশে এক অসাধারণ প্রেমের গল্প তৈরি করতে।”

সুমাইয়ার চোখে যেন এক অদ্ভুত আনন্দের ঝিলিক।
“তুমি কি সত্যিই বিশ্বাস করো, এমন ভালোবাসা হতে পারে?”

রাকিব বলল,
“আমাদের ভালোবাসা হবে সেই ঝড়ের মতো নয়, যা কিছু ভেঙে দেয়,
বরং হবে এক শান্ত সকাল, যেখানে বৃষ্টি থেমে গেছে আর রোদ আবার মেঘের আড়ালে লুকিয়ে ফুটে উঠেছে।”

সেদিন বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত, তারা দুজনে হাঁটতে গেলো গ্রামের পেছনের বাঁশঝাড়ের কাছে।
মাটির পথ ধীরে ধীরে ভিজতে শুরু করল, বৃষ্টি আসার আগে সেই নরম স্নিগ্ধ বৃষ্টির ফোঁটা যেন তাদের মাঝে মিশে গেল।
সুমাইয়া একবার রাকিবের হাত ধরল,
তাকে দেখতে লাগল আরেকভাবে—একটা ভালোবাসা, যা সে আগে কখনো বুঝেনি।

“তুমি আমার কাছে অনেক ভালোবাসা,” বলল সে কাঁপতে কাঁপতে,
“কিন্তু আমার মনে হয়, তুমি কেবল একটা মেঘ—এখানে এসে ভিজিয়ে যাবে আর চলে যাবে।”

রাকিব একটু কাছে এসে বলল,
“আমি মেঘ হতে চাই না, আমি রোদ হতে চাই—
যে তোমার জীবনে উষ্ণতা নিয়ে আসবে,
যে তোমার পথে আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়াবে।”

বৃষ্টি তখন থেমে গেল।
রোদের রশ্মি পাতা-পাতায় পড়ে ঝলমল করছে,
মেঘ ধীরে ধীরে গড়িয়ে যাচ্ছে দূরে,
আর তাদের ভালোবাসা তখন আকাশ আর মাটির মতো মিশে গেছে একাকার।

সেদিন থেকে রাকিব আর সুমাইয়ার ভালোবাসা যেন এক নতুন জীবনের সূচনা হল।
মেঘের কোমলতা আর বৃষ্টির স্নিগ্ধতার মতো,
রোদ্দুরের উষ্ণতা তাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছিল।

বৃষ্টি যেমন জমে জমে আসে,
তাদের ভালোবাসাও তেমনি গভীর হয়ে উঠল।
একটা ছোট্ট গ্রাম, যেখানে নদীর স্রোত আর মাঠের ঘাসের গন্ধ,
সেখানে দুজনে মিশে গেল একাকার হয়ে।

দিন গড়িয়ে গিয়েছিলো,
তাদের ভালোবাসা আরও পোক্ত, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল।
মেঘ যেমন আকাশে ঘনিয়ে আসে, তারপর বৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়,
তেমনি তাদের সম্পর্কও সময়ের সঙ্গে গভীর হল।

একবার বৃষ্টি যখন থেমে গেল,
তারা একসাথে বসে গ্রামের সেই ছোট্ট ধানক্ষেতে,
দেখছিলেন কিভাবে রোদ মাটিকে সোনালী রঙে স্নান করাচ্ছে।

সুমাইয়া বলল,
“তুমি জানো, জীবনও ঠিক এমন—মেঘ, বৃষ্টি আর রোদ মিলে এক অপূর্ব গল্প রচনা করে।
আমাদের ভালোবাসাও ঠিক তেমনি।”

রাকিব মুচকি হাসল,
“তাই তো। জীবন যেমন, ভালোবাসাও ঝড়-ঝাপটা নিয়ে আসে,
কিন্তু শেষে সবকিছু মিলিয়ে হয় এক উজ্জ্বল সকাল।”

তাদের দুজনের গল্প ছিলো একান্ত,
তবে মাটির গন্ধ আর আকাশের রঙে মিশে সে গল্প হয়ে উঠেছিলো জীবন্ত।

বছর ঘুরতে শুরু করল,
তারা একসাথে বড় হলো, একসাথে বড় স্বপ্ন দেখলো।
মেঘ বৃষ্টি রোদ—এসবই যেন তাদের ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠল।

একদিন, গ্রামে বড় উৎসবের সময়,
রাকিব আর সুমাইয়া হাত ধরে মাটির পথ পেরিয়ে গেলো।
গ্রামের মানুষ হাসছিল, গান গাইছিলো,
আর আকাশে তখন ঝলমলে রোদ আর নরম বৃষ্টি মিলেমিশে এক সুর তৈরি করেছিল।

তারা বুঝতে পারল,
ভালোবাসা মানে শুধু সুখ নয়,
মেঘ আর বৃষ্টির মতো কখনো কখনো একটু ঝড়ঝাপটা,
কিন্তু শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থেকে আলোকিত সকাল দেখা।
38 Views
5 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: