কাজী নজরুল ইসলাম

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
১৮৯৯ সালের ২৫ মে, পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলায় এক ছোট গ্রামে জন্ম নেন এক ছেলে, নাম তার কাজী নজরুল ইসলাম।
তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমদ, মায়ের নাম মোসাম্মৎ মছরুবা বেগম।
এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও, নজরুলের হৃদয় ছিল অমৃতের চেয়ে মধুর, কিন্তু আগুনের মত প্রখর।

ছোটবেলা থেকেই নজরুলের মধ্যে লুকিয়ে ছিল বিদ্রোহী মনের বীজ।
যখন সে পড়াশোনা করছিল, তখন থেকেই দেখেছিল সমাজের অবিচার আর মানুষের দুর্দশা।
শুধু সাহিত্য নয়, সে দেখতে পেতো মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াইয়ের ডাক।

১৯১৭ সালে সে যোগ দেয় ব্রিটিশ ফৌজে।
সেখানে সে সামরিক প্রশিক্ষণ নিলেও, তার মন বেজেছিল এক অন্য সুরে—স্বাধীনতার সুরে।
সে যুদ্ধে লড়েছে, কিন্তু হৃদয়ে তার ছিল দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন।
তাই সামরিক জীবনের পর স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

নজরুল প্রথম পরিচিতি পায় কবিতা ও গানের মাধ্যমে।
তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল ‘বিদ্রোহী’, যা ১৯২২ সালে প্রকাশ পায়।
এই কবিতায় ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি অবিচার, সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী মন, আর স্বাধীনতার আহ্বান।

তার কবিতা, গান, নাটক সবই ছিল এক অনন্য বিপ্লব।
সে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল—
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি সেই রক্তকে আমার গানে ঢালি।”

সে শুধু কবি ছিল না, এক বীর যোদ্ধাও ছিল।
তার লেখায় বারবার উঠে এসেছে নারী স্বাধীনতা, শ্রেণী বৈষম্য, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা।
তার কন্ঠ দিয়েই গলা তোলে বঞ্চিতের আর অধিকারহীনের।

১৯২৩ সালে তিনি কলকাতার ‘বিদ্যাভবনে’ শিক্ষকতা করতে শুরু করেন।
তখন থেকেই তার বিপ্লবী কবিতা ও গান কলকাতা ও বাংলার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে তার জীবনে কঠিন সময়ও আসে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রিটিশ সরকার তাকে বার বার কারাবরণ করায়।
কেউ তাকে 'বিদ্রোহী কবি' নামে ডাকে, কেউ ‘রক্তজবা’।
কিন্তু নজরুল থামেনি কখনো।

১৯২৬ সালে কলকাতায় প্রথম তার পুস্তক ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশ হয়।
এর পর থেকে তার কবিতায় গভীর মানবতা আর বীরত্বের সুর বাজতে থাকে।

তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় শুরু হয় ১৯৪২ সালে, যখন তার স্বাস্থ্য বিগড়ে যায়।
কিছু বছর পর তিনি ধীরে ধীরে মানুষের চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যান,
কিন্তু তাঁর আত্মা কখনো হারায়নি।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট, ঢাকা শহরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর কবি।
দেশ তার মরদেহ থেকে হারালো এক অমর শক্তি, যিনি তার কবিতায় ও গানে স্বাধীনতার সুর বেঁধেছিলেন।

আজও বাংলাদেশের প্রতিটি হৃদয়ে বাজে তার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি—
বিদ্রোহের গান, মুক্তির ডাক, মানুষের অধিকার আর ভালোবাসার অনন্য ছন্দ।
39 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: