ক্ষুদিরাম বসু

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
১৮৮৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর,
বঙ্গের বুকে জন্ম নেয় এক ছোট্ট ছেলে, নাম ছিল ক্ষুদিরাম বসু।
তার বাবার নাম ছিলেন একটি ছোট ট্রেডারের নাম—যিনি চেয়েছিলেন তার ছেলে বড় হয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষ হোক।
কিন্তু সেই ছোট্ট ছেলেটার ভেতর এক অন্যরকম আগুন জ্বলে উঠেছিল।

ক্ষুদিরাম ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ সাহসী আর প্রাণবন্ত ছিল।
স্কুলে পড়ার সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলত।
তার চোখে ছিল একটি ভবিষ্যতের ছবি—ভারত আজাদ, মুক্ত।

১৯১২ সালের আগষ্ট মাসে কলকাতার বুকে সে সেই অদম্য যাত্রা শুরু করল।
প্রথম বন্দুক হাতে নিয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে।
তার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচার থামানো।

সে একা ছিল না। ছিল তার মতো বহু বীর, যারা বিশ্বাস করত স্বাধীনতার স্বপ্নে।
তার সঙ্গে ছিল প্রফুল্ল চন্দ্র মুখার্জি এবং আরো কয়েকজন বিপ্লবী।
তারা একসাথে কাজ করত ব্রিটিশদের ‘অন্ধকার রাজত্ব’ ভাঙার জন্য।

সেই সময়ের কলকাতা ছিল উত্তাল।
ব্যাংককের রাস্তা থেকে সল্টলেকের ঘাসবাগান—সব জায়গায় ছিল গোপন মিটিং, পরিকল্পনা, আর ছক কষা।

ক্ষুদিরাম নিজের হাতে তৈরি করেছিল বোমা।
তার সাহস এতটাই ছিল যে, ১৯১২ সালের ৩০শে এপ্রিল সে করল এক সাহসী কাজ—
কলকাতার বেলুড় স্টেশনে ব্রিটিশ বিচারক হেনরি রস-এর গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ।
বোমার উদ্দেশ্য ছিল বিচারককে হত্যা করা, কারণ তিনি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের বড় প্রতিবন্ধক।

কিন্তু বোমাটি অন্য গাড়ির ওপর পড়ায় এক সাদা মহিলার মৃত্যু ঘটে।
ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে যান।

ব্রিটিশ শাসকরা ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
এক তরুণের সাহস দেখে তারা বিভ্রান্ত।
ক্ষমতা দেখানোর জন্য তাকে কঠিন শাস্তি দিতে চায়।

ক্ষুদিরাম বসু আদালতে দাঁড়িয়ে সাহসের সঙ্গে বলেছিল—
“আমি যিনি করি, সেটাই আমার ধর্ম, আমার দেশপ্রেম।”

ব্রিটিশ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
সে কেবল ১৮ বছর বয়সেই।

তার মৃত্যুর আগে কলকাতার হাওড়া জেলে কাটানো দিনগুলো ছিল কঠিন।
কিন্তু ক্ষুদিরাম কোনোদিন আত্মসমর্পণ করেনি।
তার মুখে সবসময় ছিল দেশপ্রেমের জ্বলন্ত আগুন।

১৯১৩ সালের ১৭শে জুলাই,
খুদিরাম বসু ফাঁসির দড়িতে ঝুলে মারা যান।
তার মৃত্যু শুধু এক প্রাণের অবসান ছিল না,
বাংলার বিপ্লবীদের জন্য একটি নতুন আগুনের স্ফুলিঙ্গ।

আজও বাংলার মাটিতে তার নাম শোনামাত্র প্রাণ জাগে, সাহস জাগে।
ক্ষুদিরাম বসু শুধু এক বিদ্রোহী নয়,
তিনি এক অনুপ্রেরণা—যা বলে,
"যুদ্ধ করো, লড়ো, বাঁচো স্বাধীনতার জন্য।"

তার জীবন, মৃত্যু ও সংগ্রাম আজও আমাদের সামনে স্মরণ করিয়ে দেয়—
স্বাধীনতার মূল্য কখনো কম হয় না,
আর এক তরুণের সাহস কোনো কেলেঙ্কারির কাছে হার মানে না।
31 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: