১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি, ওড়িশার কটকে জন্ম নিয়েছিলেন এক শিশু।
নাম রাখা হয়েছিল সুভাষ।
তাঁর বাবার নাম জানকীনাথ বসু, যিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত আইনজীবী।
তাঁর মা প্রভাবতী দেবী, এক শান্ত স্বভাবের গৃহবধূ।
শুরু থেকেই সুভাষ ছিলেন অন্যরকম।
শৃঙ্খলা পছন্দ করতেন, কিন্তু অন্যায় মানতেন না।
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াকালীন একবার এক ইংরেজ অধ্যাপক ভারতীয়দের "নিচ জাতি" বললে,
সুভাষ নিজ হাতে তাকে মারতে যান।
এর ফল হয় ভয়ানক—
কলেজ থেকে বহিষ্কার।
কিন্তু সেই বহিষ্কারই যেন ছিল স্বাধীনতার দিকে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ।
এরপর তিনি আই.সি.এস পাস করেও সে চাকরি গ্রহণ করেননি।
কারণ তাঁর হৃদয়ে তখন শুধু একটাই তৃষ্ণা—
স্বাধীনতা।
তিনি গিয়ে যোগ দেন কংগ্রেসে।
তাঁর নেতা তখন মহাত্মা গান্ধী।
তবে সুভাষের পথ ছিল আলাদা।
তিনি বিশ্বাস করতেন—
"যে শৃঙ্খল লৌহে গাঁথা, তা শুধু প্রার্থনায় ভাঙে না, তাতে হাতুড়িও চালাতে হয়।"
এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কংগ্রেসের ভেতরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
একদিকে অহিংসার পথ, অন্যদিকে সুভাষের বিপ্লবী মন।
১৯৩৮ ও ১৯৩৯ সালে তিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হলেও,
দ্বিতীয়বার নির্বাচনের পর তাঁকে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়।
এই অপমানই তাঁকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে।
তিনি গোপনে কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভেসে পড়েন ইউরোপের পথে।
তিনি পৌঁছান জার্মানি, যেখানে তখন হিটলারের রাজত্ব।
সেখানে বসেই তিনি স্থাপন করেন Azad Hind Radio,
যেখান থেকে বিশ্বের বুকে ভারতীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হতো—
"স্বাধীনতা দোরগোড়ায়, তবে তার মূল্য রক্ত।"
১৯৪৩ সালে তিনি যান জাপানে।
সেখানেই প্রতিষ্ঠা করেন আজাদ হিন্দ ফৌজ,
একটি স্বাধীন ভারতীয় সেনা, যারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল।
তাঁর কণ্ঠে তখন সেই অমর শ্লোগান—
"তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব!"
তিনি শুধু বলেই থামেননি,
তিনি সেই সেনাবাহিনী নিয়ে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ইম্ফল অবধি পৌঁছে যান।
তবুও ভাগ্য ছিল নিষ্ঠুর।
জাপান যুদ্ধ হেরে গেলে, তাঁর ফৌজ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
সুভাষ সিদ্ধান্ত নেন—সোভিয়েত রাশিয়া যাবেন,
আরও শক্তি সঞ্চয়ের জন্য।
১৮ আগস্ট, ১৯৪৫।
তাইওয়ানের আকাশে একটি বিমানে আগুন ধরে যায়।
বলা হয়, সেই বিমানে ছিলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু।
বলা হয়, তিনি মারা যান সেদিনই।
তবে "বলা হয়"—এই শব্দদ্বয় কখনো নিশ্চিত হয়নি।
তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়নি।
নানা সূত্র, নানা গল্প, নানা গুজব—
কে বলবে কোনটা সত্য?
কিন্তু ইতিহাস একথা ঠিকই জানে—
ভারত কখনো কোনো নেতার জন্য এমনভাবে অপেক্ষা করেনি, যেমন করেছে নেতাজীর জন্য।
কালগর্ভে কেটে গেছে দশক,
তবে তাঁর চিন্তাধারা আজও তাজা।
আজও যখন কেউ সাহস করে অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়,
তখন সে নিজের অজান্তেই নেতাজীর পথে হাঁটে।
আজও যখন কোনো কিশোর নিজের স্বপ্ন ভেঙে দেশের জন্য ভাবে,
তখন তাঁর চোখে জ্বলে ওঠে সেই একই আগুন—
যা একদিন সুভাষ বসুর ছিল।
তাঁর মৃত্যুর রহস্য আজও অনেকের কাছে একটা প্রশ্নচিহ্ন।
কেউ বলে তিনি সন্ন্যাসী সেজে ভারতে ফিরেছিলেন,
কেউ বলে তিনি রাশিয়াতেই ছিলেন বন্দী।
কিন্তু উত্তর নেই।
তবে একটাই উত্তর নিশ্চিত—
তিনি ছিলেন এক অগ্নিসন্তান, যাঁর নাম ইতিহাস মুছে ফেলতে পারেনি।
আজও যদি কোনও তরুণ জিজ্ঞাসা করে—
"স্বাধীনতা মানে কী?"
তবে ইতিহাস চুপ করে এক নাম উচ্চারণ করে—
সুভাষ।
**
গল্প টা হয়তো সমাপ্ত নয়। সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে লিখতে গেলে এটুকু হয়তো তার নখের ধারের কাছেরও নয়। সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু যেখানেই থাকেন, ভালো থাকেন।
নেতাজী
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
33
Views
3
Likes
0
Comments
0.0
Rating