রফিক আর সুমাইয়া— সেই গ্রামের সাধারণ দম্পতি। কিন্তু গ্রামের মানুষদের কাছে সুমাইয়া একটু আলাদা, কারণ সুমাইয়া কোনো কথা বলতে পারে না। না, সত্যিই বলতে পারে না; সে বোবা।
তাদের বিয়ে হয়েছিল চার বছর আগে। রফিক মুরগি পালন করে সংসার চালায়, আর সুমাইয়া সারাদিন ঘরে বসে থাকে। সুমাইয়ার মুখ থেকে কথা না শোনা মানেই ওর হৃদয় ফাঁকা— এমন নয়। বরং ওর চোখে হাজারো কথা লুকানো। কিন্তু ওরা কেউ বুঝতে পারে না। রফিক শুধু চেষ্টায় থাকে, বোঝার জন্য।
একদিন সকালে রফিক বাজার থেকে ফিরে আসে, হাতে আনার মতো একটা ছোট্ট ফুলের তোড়া নিয়ে। সে সুমাইয়ার কাছে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সুমাইয়া শুধু তাকিয়ে থাকে, চুপ করে। সে কথায় পারল না, তাই হাসিতে তার চোখ মিষ্টি হয়ে ওঠে। রফিক বুঝতে পারে, ফুলটা ভালো লেগেছে।
দিন যায়, মাস যায়। রফিক আর সুমাইয়ার মাঝে কথা না হলেও একেকজনের জন্য অনুভূতি বাড়ে। রফিক একবার সুমাইয়া কাছে বসে, হাতে হাত রেখে বলে—
“আমি জানি, তুমি কথা বলো না, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি, সব সময়।”
সুমাইয়া চুপ করে মাথা নিচু করে, কিন্তু চোখে জল এসে পড়ে।
একদিন গ্রামে হঠাৎ এক নতুন মাস্টার এলো। সে দেখতে সাহসী, কথা বলে সবাইকে হাসায়। রফিক একটু দ্বিধা বোধ করল, ভাবল সুমাইয়ার জন্য কি ভালো হবে?
মাস্টার বলে—
“আমার আছে একটা পদ্ধতি, সুমাইয়ার জন্য, যাতে সে কথা বলতে শিখতে পারে।”
সুমাইয়ার জন্য এটা ছিল একটা নতুন আশা। মাস্টারের কাছে যেতে শুরু করল।
মাস দুই পর, গ্রামের স্কুলে একদিন সবাই অবাক হয় সুমাইয়ার ছোট্ট শব্দগুলো শুনে— ‘আব্বা’, ‘মা’, ‘রফিক’... কথা বলতে শুরু করল সে, একটু একটু করে।
গ্রামের মানুষরা হঠাৎ চোখ মেলল সুমাইয়ার দিকে, তার মুখের শব্দ গুলো শোনার জন্য। সবাই বিস্মিত, খুশি।
কিন্তু সেই খুশির মাঝে সুমাইয়ার শরীর একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল। ডাক্তার বলল, তার গলা কিছুটা সমস্যায় আছে, আর খুব বেশি কথা বলা ঠিক হবে না।
সুমাইয়া আবার চুপ হয়ে গেল।
রফিক কাঁদল, কিন্তু ওর পাশে থেকে সুমাইয়া বলল না, ওর চোখেই ছিল সেই গল্প।
সেই থেকে রফিক আর সুমাইয়া বুঝল— কথা না বললেও ভালোবাসা গড়ে ওঠে, শুধু হৃদয়ে হৃদয়ে বাঁচে।
বোবা বউ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
34
Views
3
Likes
0
Comments
0.0
Rating