ছায়া পেরিয়ে আলোয়
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
চারপাশে আলো, কিন্তু ভেতরে একরাশ অন্ধকার। সমাজে প্রতিষ্ঠিত এক বড় পরিবারে জন্ম হলেও, ছেলেটির জীবনে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল নিজেকে প্রমাণের সংগ্রাম। তার নাম মিনহাজ।
তার বাবারা সাত ভাই ও চার বোন—প্রত্যেকেই শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত। বড় জেঠা ব্যাংক থেকে অবসরে গেছেন, দুই কাকা এখনো সেই একই ব্যাংকে চাকরিরত। মেঝো জেঠা ছিলেন শিক্ষা বোর্ডে কর্মকর্তা, আর দুজন কাকা ব্যবসায় সফল। ফুপুর ছেলে-মেয়েরা কেউ অফিসার, কেউ ডিফেন্সে—অর্থাৎ পরিবারে সবার গল্পই ছিল গর্ব করার মতো।
তবে ব্যতিক্রম ছিল মিনহাজের বাবা। তিনি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন, কিন্তু সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে পড়াশোনা বিসর্জন দিতে হয়েছে। পরিবারের চাপেই প্রাইভেট জাহাজে চাকরি শুরু করতে হয়েছে, তখন তার বয়স বেশি না। সেই মানুষটাই নিজের সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলে মিনহাজকে একটা সুন্দর ঘর উপহার দিয়েছেন। যদিও জায়গা-জমি কিনতে পারেননি, কিন্তু ছেলের জন্য একটা স্বপ্নের ঠিকানা বানিয়ে দিয়েছেন।
পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছে, বলেছে—“এই চাকরি দিয়ে কী হবে? ওদের স্বপ্নটা হাস্যকর।” কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। কেউ একটাকাও সাহায্য করেনি সেই ঘর তুলতে। অথচ এই বাবাই প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন ভাইদের, ঈদে গিয়েছেন দেখা করতে, সম্পর্কটা টিকিয়ে রেখেছেন একতরফা ভালোবাসায়।
আরেক পাশে ছিল মিনহাজ—ছেলেটা পড়াশোনায় খুব চেষ্টা করত। কিন্তু ফলাফল? বারবার ব্যর্থতা। সমাজ বলেছে, “ও কিছু করতে পারবে না।” কাকার ছেলে, ফুপুর মেয়ে—সবাই চোখ উঁচু করে তাকিয়েছে, কেউ ডাকে না, কেউ পাশে বসে না। যেন ছেলেটা শুধুই ব্যর্থতার প্রতীক।
তবে একটা জায়গা ছিল, যেখান থেকে মিনহাজ কখনো খালি হাতে ফেরেনি—মায়ের আঁচল আর বাবার নির্ভরতা। “তুই পারবি,” এই কথাটা তার মা-বাবা আজও বলেন। আর ছিল তার মামা-মামি, নানা-নানু—যারা প্রতিবার বলতেন, “সবার সময় আসে রে, শুধু লেগে থাক।”
তার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন ছোট কাকাজান। যিনি তাকে শুধু আদর করতেন না, বরং একজন বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়াতেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। সেই শূন্যতা আজও তাকে তাড়া করে ফেরে।
তবু সে হারে না। সে স্বপ্ন দেখে। সে চায় তার বাবা-মা যেন একদিন গর্ব করে বলুক—“এই ছেলেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
আজ ১৯ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মিনহাজ জানে, তার জীবনের গল্প এখনো শেষ হয়নি। বরং এই ব্যর্থতাগুলোই তাকে একদিন সফলতার চূড়ায় পৌঁছে দেবে।
---
> 🔍 শিক্ষণীয় দিক:
জীবনে সবসময় বড় ডিগ্রি বা প্রতিষ্ঠা দিয়ে সফলতা মাপা যায় না। বাবা-মার ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর নিজের অটুট চেষ্টা—এই তিনটি মিলে গড়ে ওঠে একজন সত্যিকারের মানুষ। তাই ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং তা নতুন শুরুর অপেক্ষা।
---“এই গল্পটি যদি আপনার মনে কোনো অনুভব জাগায়, তাহলে শেয়ার করে অন্যদেরও জানাতে ভুলবেন না। আপনার মন্তব্য আমার পরবর্তী লেখার প্রেরণা।”
---
77
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating