এক কাপ চা!!

অনেকদিন যাবত কোন বিনোদন নেই আমরা সবাই কাজ করতে করতে প্রায় ক্লান্ত আজকে রাতে আতিক ভাইয়ার জন্মদিন আসতেছে আতিক ভাই যদিও আমাদের অফিসের কলিগ কিন্তু আমাদের অনেক সিনিয়র কাজে কর্মে সবদিক হতে সিনিয়র এক কথায় আমাদের আগলে রেখেছে তো অনেকদিন যাবত যেহেতু কোন বিনোদন নেই তার উপর আতিক ভাইয়ার জন্মদিনের ডেট পেলাম হয়তো এই উপলক্ষে বিনোদন হবে ঠিক সেরকমটাই হল ।


আতিক ভাই আমাদের তিনজনকে ডেকে সিদ্ধান্ত নিল অবশ্যই আজকে বিনোদনের ব্যবস্থা হবে তবে সেটা বন্দী অবস্থা নয় ঘুরে ঘুরে মানে বুঝলাম না ভাই?

মানে হলো আজ রাতে নয়টায় ডিউটি শেষ করে আমরা ঘুরতে বের হব যেই ভাবা সেই কাজ যাব কোথায় ? মাওয়া নদী বন্দর।

ডিউটি যথারীতি নয়টায় শেষ হলো আমরা ঘন্টাখানেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে চারজন চলে গেলাম গুলিস্তান বাস কাউন্টার যদিও আমি কখনো ওখানে যায়নি তাই পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলাম সেখানে পুরো ফাঁকা দেখে একটা বাসে উঠে পড়লাম আনন্দ ট্রাভেলস বাসটি দেখতে ভালোই পাশাপাশি চারটা সিটে বসে পড়লাম আধা ঘন্টা পর বাস চলা আরম্ভ করলো তবে ঢাকা শহরে যেই জ্যাম আস্তে আস্তে চলছিল বাস মনে হচ্ছে এই বাসে উঠে ভুল করেছি ঘুম ধরে যাচ্ছে এত আস্তে আস্তে যাচ্ছে আস্তে যাওয়ার কারণও আছে রাস্তার প্রচুর জ্যাম

এভাবে করে ঢাকা শহর থেকে বের হলাম দেখা মিললো ৬ লাইনের রাস্তা বিশাল রাস্তা বাংলাদেশ রাস্তা উন্নতি হয়েছে বলতে হবে রাস্তার যেন নয় বিশাল একটা মাঠ। ফাঁকা রাস্তাতে বাস স্পিড বাড়ালো তবে তুলনামূলক অনেক বেশি মনে হচ্ছে এ বাসে উঠে ভুল হয়েছে বসে বসে ভাবছিলাম যে বাসায় বেঁচে ফিরব কিনা বাংলাদেশের নামকরা বাস স্পিডের জন্য শিমুলি, হানিফ, এনা দেখলাম ওইগুলো থেকে এটা কোন অংশে কম নয় বাইরে কোন কিছু দেখা হলো না দেখবোই বা কি করে যে স্পিড বাইরে সব সাদা সাদা দেখা যাচ্ছে কোন ভাবেই বাসের স্পিড নামাচ্ছে না মিনিমাম ১২০ স্প্রিড ।
বাসের সামনে যারা বসে ছিল সবাই ভয়েআস্তে আস্তে পিছনে চলে এসেছে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? বলল বাস যেভাবে চালাচ্ছে এত কোন সুস্থ মানুষ সামনে বসে থাকতে পারবে? মিনিট 40 এর মধ্যে আমরা চলে আসলাম খান বাড়ি সেখানে আমাদের গন্তব্য এখান থেকে আবার অটো নিয়ে যেতে হবে মাওয়া ঘাট মানে শিমুলিয়া ঘাট।
বাস থেকে নেমে এক প্রকার হাপ ছাড়লাম শরীরে প্রাণ ফিরে পেলাম মনে মনে ড্রাইভারকে গালি দিচ্ছিলাম এভাবে কেউ গাড়ি চালায় ।

যাই হোক এখন অটো নেওয়ার পালা আমি এখানে নতুন এসেছি বাকি তিনজন দু'একবার এসেছে অটোতে উঠলাম অটো ছুটে চলল তবে কিছুক্ষণ চলার পর সবাই বুঝতে পারলাম অটো ড্রাইভার ভুল পথে ছুটছে একদম নির্জন রাস্তা দিয়ে চলছে আমরা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম প্রায় ড্রাইভারকে ভাবলাম ডাকাতে দলের লোক তবে অত বেশি আতঙ্কিত হলাম না কারণ আমরা আছি চারজন সামনে যে আসুক ভেবে চিন্তা করে আসতে হবে চুপ করে বসে রইলাম কিছুক্ষণ পর অটো এসে থামলো একটা পুরানো ঘাটে একদম ভুতুড়ে ভুতুড়ে জায়গা অটো ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কোথায় নিয়ে এসেছেন সে বলল কেন মাওয়া ঘাট ।

আমি তো কিছু চিনি না তাই চুপ করে বসে রইলাম আমার সাথে তিনজন থো হয়ে বসলো উনারা বলল আমরা তো আরও এসেছি মাওয়া ঘাটে এটা আবার কোন মাওয়া ঘাট? ড্রাইভার বলল এটা পুরানো মাওয়া ঘাট আমরা মূলত এসেছি ইলিশ খেতে এখানে তো নীরব এখানে ইলিশ পাব কিভাবে?
ড্রাইভার বলল আপনারা তো ভুল ঠিকানা দিয়েছেন তাই আমি ভুল জায়গায় এসেছি ।
আপনারা বলবেন শিমুলিয়া মাওয়া ঘাট আপনারা বলেছেন শুধু মাওয়া ঘাট বলতো আপনাদের রীতিমতো একটু চমকে উঠল সবাই আসলে আমাদের বলা ভুল হয়েছিল এখন কি করব উনি উত্তর দিলেন তার গাড়িতে তো চার্জ নেই উনি ওতো দূর যেতে পারবেন না উনি অন্য গাড়িতে উঠিয়ে দিবে সেটাই হলো অন্য গাড়িতে করে অবশেষে পৌঁছালাম মাঝখানে অনেক নাটক হলো তবে কাঙ্খিত স্থানে পৌছালাম ।

একটা দোকানের সামনে বসে একটু রেস্ট নিতে হবে অনেকক্ষণ জার্নি হয়েছে আতিক ভাই একটা সেভেন আপ আনলেন ওইটা খেয়ে হাটা দিলাম মাছ কিনতে
মাছ কিনে রান্না করে খেতে হবে মাছ কিনতে গিয়ে পড়লাম মহা ঝামেলায় একজন বলে আমার এখানে আসেন বড় মাছ আছে আরেকজন বলে ও ভাই আমার কাছে আসেন মনে হচ্ছে আমাদের জামাই আপ্যায়ন করাবে তারা যেভাবে ভাই ডাকতেছে মনে হয় জন্মের আগে থেকেও চীনে আমাদেরকে মানে চার জনকে চারদিক নিয়ে যায় টেনে মাছ দেখানোর জন্য অবশেষে একটা মাছ পছন্দ হলো দাম চায় ১১০০ টাকা ওরে বাবা মাছ বিক্রি করছেনা সোনা বিক্রি করছে আল্লাহ জানে ওদের বাড়িতে দালান কয়টা ?

একদম বিনা চালানে কোটিপতি অবশেষে অনেক জোরাজোরির পর যোগান দামে মাছ কিনে সেটাকে ভাজি করতে পাঠানো হলো সাথে বেগুন আর লেজ ভর্তা , আধা ঘন্টা পরে আসলো ভাত দিল একটা মেলামাইনের ছোট গামলা দিয়ে খাবার মুখে দিয়ে মনটা ভরে গেল কি খাচ্ছি যেন অমৃত এত স্বাদ কেন? খেলাম ও বটে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিলের জন্য বসলাম বিল দেখে আরেক হতভাগ ১৩০০ টাকা এক প্রকার ধাক্কা খেলাম জিজ্ঞেস করলাম গামলা কত ভাত? বলল ১০০ টাকা।
কি? একজনও পেট পুরে খেতে পারবে না এখানে ১০০ টাকার ভাত আমরা ভাই খেয়ে ফেলেছি তো ৩ গামলা পরে ভাবলাম যদি জানতাম ভাতের এত দাম তাহলে বাড়ি থেকে রান্না করে নিয়ে আসতাম কি আর করা বেল চুকিয়ে হাঁটা ধরলাম নদীর পাড়।
নদীর পাড় যেয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম আহ কি সুন্দর বাতাস সামনে নদী উপরে তারকারাজি নিয়ে ঝিলমিল করছে আকাশ হাজার বছর এখানে থেকে যেতে ইচ্ছে করলো অনেকক্ষণ দাঁড়ানোর পরে পাশে দেখতে পেলাম কয়েকটা ভাঙ্গার চেয়ার
বসলাম চারজন সেখানে বসেও শান্তি পেলাম না চেয়ারের মালিক এসে হাজির উনি ওখানে একটা দোকানদার চেয়ারগুলো উনার চেয়ারে বসতে হলে তার দোকান থেকে কিছু খেতে হবে এই যা এই দেখি চোরের উপর বাটপারি !!!! কি আর করা বাধ্য হয়ে চার কাপ চা অর্ডার দেওয়া হলো তবে এই পরিবেশ চা ও খুব প্রয়োজন ছিল ।

চা এসে পরলো তবে চা কাপে চুমুক দিয়ে আরো হাজার বছর বাঁচতে ইচ্ছে হলো বাহ্ এটা কি চা না অমৃত মনে হচ্ছে আমি কি খাচ্ছি কিসের সাথে তুলনা দিব না তুলনা দেওয়ার মতো কোন খাবার পেলাম না
এত মজা সাথে কি সুন্দর একটা গান প্রাণ ভরে গেল আমার সাথে ফজলু ভাই তো বলেই ফেলল মজার ছলে একটু পকেটে করে বাড়িতে নিয়ে যাবে।

এক কথায় অসাধারণ, চা শেষ করে আবার ভাবলাম দোকানদার যদি আবার উঠে যেতে বলে না সেরকম কিছু হলো না কিন্তু চা মুখে লেগে থাকলো আবার খাওয়া প্রয়োজন যেই ভাবা সেই কাজ আবার ওয়াডার করা হলো চা এসে পড়ল তবে উপযোগ কিছুটা কমে গেছে চা শেষ করে আরো কিছুক্ষন বসে থাকার পর দেখি রাত প্রায় তিনটা না এখন ফিরতে হবে অটো খোঁজার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম কিছুদূর হাঁটার পর অটো পেয়ে গেলাম এসে পৌছালাম আবার খান বাড়ি এবার উপযোগ বাড়লো য় ঝাল মুড়ি খাবো তবে ঝালমুড়ি বেশি একটা ভালো হলো না কিছু খেয়ে বাকিটা অপচয় করলাম কিন্তু সমস্যাটা হলো মুড়ি শেষ না করতে করতে বৃষ্টি নেমে পরল জমজমিয়ে কি হলো এটা আর কি যে বৃষ্টি এখন কোন বাস ও থামছে না প্রায় ঘন্টা এক দাঁড়িয়ে থাকলাম কিন্তু কোন বাস থামার নাম গন্ধ নেই ।

বাধ্য হয়ে সিএনজি ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম ঢাকা যাবে বলল বাবুবাজার পর্যন্ত যাবে তবে ভাড়া দিতে হবে ৬০০ একি বলে এ তো একদম ডাকাতি কিছু করারও নাই যেতেও হবে সিএনজি ধরলাম সারা রাস্তা ভিজে গিয়েছি প্রায় এক থেকে দেড় ঘন্টা চলার পর এসে পৌঁছালাম বাবুবাজার সেখান থেকে আসলাম গুলিস্তান আবার পড়লামবৃষ্টির কবলে মিনিট 15 দাঁড়িয়ে থেকে রিক্সা করে অবশেষে রাত ৫ঃ০০ টা বাজে পৌঁছালাম গন্তব্যতে।

তবে একটা রাতে সব রকমের অভিজ্ঞতা হলো বৃষ্টি চাঁদ দেখা নদী দেখা চা খাওয়া ইলিশ ভাজা ইত্যাদি
তবে চা টাই হয়ে উঠেছিল সেরা মুহূর্ত সব লুটিয়ে আমাদের ভ্রমণটা এখানেই শেষ হল ।
2.08K Views
46 Likes
3 Comments
3.9 Rating
Rate this:
(28)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (3)

Reader photo
কনিকা আক্তার।
19-May-2024, 05:47 AM

এটা আর একটু ছোট হলে ভালো হতো।

মোঃশহিদুল ইসলাম
মোঃশহিদুল ইসলাম
19-May-2024, 11:53 PM

👍

Reader photo
Abhi
15-May-2024, 03:08 PM

hii

Reader photo
মানিক
26-Feb-2024, 02:40 PM

গল্পে অনেকে জায়গায় অপ্রাসঙ্গিক কথা ব্যবহার করা হয়েছে

মোঃশহিদুল ইসলাম
মোঃশহিদুল ইসলাম
27-Feb-2024, 08:58 PM

প্রিয় পাঠক আমার জানামতে এ গল্পে ভ্রমনের বাহিরে কোন কথা বলা হয়নি তাছাড়া একটা গল্প ভালো লাগবে আরেকটা ভালো লাগবে না এটাই স্বাভাবিক তবে একটু কষ্ট করে বলবেন আপনার কোন লাইন বা কোন লেখাটা সংগত মনে হয়নি