গোপাল ভাঁড়

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
নবদ্বীপের রাজপ্রাসাদে একদিন দুপুরে জমিয়ে খিচুড়ি খাওয়া হচ্ছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, গোপাল ভাঁড় আর মন্ত্রীদের নিয়ে এক বিশাল ভোজ। খিচুড়িতে ঘি, কিসমিস, বাদাম—সব কিছু মেশানো! এমন সুস্বাদু খাবার খেয়ে রাজা হঠাৎ বলে উঠলেন—

“গোপাল! তুমি তো অনেক বুদ্ধিমান, এক কাজ করো তো, আগামীকাল একটা নতুন রকম সভা করো—যেখানে সবাই গাধা হবে!”

গোপাল ভাঁড় হো হো করে হেসে উঠলেন,
“রাজামশাই, গাধার সভা তো রোজ হয়, তবে খালি কেউ মানে না।”

রাজা মুচকি হেসে বললেন,
“না না, আমি বলছি একদম সত্যি গাধার সভা করো। সবাই যেন নিজেই গাধা সেজে আসে!”

গোপাল বলল,
“ঠিক আছে রাজামশাই। কাল সকালেই হবে গাধার রাজসভা! তবে শর্ত একটাই—আপনাকেও আসতে হবে।”

রাজা হেসে বললেন,
“আমি? গাধার সভায় যাব?”

গোপাল বললো,
“যাবেনই তো! আপনি তো রাজা—গাধাদের রাজা!”

রাজা প্রথমে একটু কুঁচকে গেলেও মজার ছলে রাজি হয়ে গেলেন। পরের দিন রাজপ্রাসাদের মাঠে বিশাল আয়োজন। গোপাল আগেই ঘোষণা দিয়েছে,
“যে গাধা সেজে আসবে না, তাকে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে!”

রাজপ্রাসাদের মন্ত্রী, দারোয়ান, খাদেম—সবাই কেউ কানে দুল, কেউ গলায় ঘণ্টা, কেউ আবার পুরো গাধার মুখোশ পরে হাজির!

গোপাল নিজে একটা ছোট কাঠের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলল,
“আজকের সভা শুরু হোক! প্রথম বক্তা—গাধা মশাই ১ নম্বর—রাজামশাই নিজে!”

রাজা একটু লজ্জা পেয়ে বললেন,
“গোপাল, আমি তো গাধা সাজিনি, আমি তো রাজা!”

গোপাল তখন ভিড়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তাহলে সবাই জেনে রাখো, আমাদের গাধাদের সভায় একমাত্র গাধা সেজে আসেননি আমাদের রাজা! সুতরাং তিনি ৫০ টাকা জরিমানার যোগ্য!”

সবাই হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে! রাজা নিজেও থামতে পারলেন না। তিনি বললেন,
“আচ্ছা গোপাল, তুমি তো নিজেই কিছু পরোনি। তোমার জরিমানা কোথায়?”

গোপাল হেসে বলল,
“আমি তো গাধা সাজার দরকারই পাইনি রাজামশাই। কারণ আমার আসল পরিচয় সবাই জানে—আমি তো গাধাদের গুরু!”

রাজা এবার হেসে গিয়ে বললেন,
“তুই তো আমায় ডুবালি রে গোপাল! তুই না থাকলে আমি রাজা থাকলেও, হাসি পেত না।”
30 Views
3 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: