আলাদিন

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পুরোনো দিনের কথা। মধ্যপ্রাচ্যের এক রঙ্গিন শহর, যেখানে ধুলোমাখা বাজার, ঝকঝকে বেতালের পাখা আর ঘুমন্ত বালুকাবিলাস ঘেরা ছোট ছোট গলি। সেই শহরে থাকতো এক যুবক—আলাদিন। গরিব হলেও, তার স্বপ্ন ছিল অমিত। সে চেয়েছিল শুধু একটা ভালো জীবন, তার মায়ের জন্য, আর নিজের জন্য।

আলাদিন ছিল খুবই চতুর, কিন্তু জীবন তাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছিল। একদিন সে গলির এক কোণে আবিস্কার করল এক পুরনো, মাখামাখা, অলীক চেরাগ। চেরাগের ওপর অদ্ভুত পিত্তল আর কাটা চিহ্ন ছিল, যেন কোনো অদৃশ্য রহস্য লুকানো।

আলাদিন চেরাগটাকে ঘষল, আর হঠাৎ করে বাতাসে ঝড় উঠল, চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। চেরাগ থেকে বেরিয়ে এলো বিশাল, অগ্নিময় এক জ্বীন—মিশকাত। তার চোখ দুটো ছিল লাল, মুখে ধোঁয়া আর অদ্ভুত হাসি।

“আমি মিশকাত, চেরাগের জ্বীন। আমি বহু বছর ধরে বন্দী ছিলাম, আর তোমার নাম শুনেই মুক্তি পেলাম,” বলল সে।

আলাদিন প্রথমে ভয়ে পিছিয়ে গেল, কিন্তু মিশকাত বলল, “ভয় করো না। আমি তোমার বন্ধু, তোমার সাহস ও ইচ্ছার সহযাত্রী।”

মিশকাত তাকে বলল, যে তার শক্তি দিয়ে সে তার জীবনের সব ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে। কিন্তু আলাদিন জানতো, এই শক্তি খালি ইচ্ছা পূরণের জন্য নয়, বরং বড় দায়িত্বও আছে।

কিছুদিন পরে, শহরে এল এক শক্তিশালী দুষ্ট রাজা, যার নাম ছিল শাজরাহ। সে ছিল নিষ্ঠুর, সব কিছু নিজের দখলে রাখতে চাইতো। শাজরাহ জানতে পারলো চেরাগের জ্বীন মুক্তি পেয়েছে এবং তা ব্যবহার করে আলাদিন কত বড় ক্ষমতা পেতে পারে।

রাজা শাজরাহ একটি সেনা পাঠালো আলাদিনকে ধরার জন্য। আলাদিন বুঝতে পারল, তার জীবনে এখন বড় বিপদ নেমে এসেছে। সে চেরাগের সামনে এসে মিশকাতকে বলল,
“আমি চাই শান্তি হোক, সবাই সুখে থাকুক, কিন্তু শাজরাহকে থামাতে আমি কি পারব?”

মিশকাত হাসলো, “সত্যিকার শক্তি শুধু জাদুতে নয়, তোমার সাহসে, তোমার বুদ্ধিতে। আমি তোমার পাশে আছি।”

আলাদিন তার বন্ধুর মতো মিশকাতকে সঙ্গে নিয়ে পালাতে শুরু করল।
সেনারা ঘিরে ফেললো তাদের, কিন্তু আলাদিনের বুদ্ধি আর মিশকাতের ম্যাজিক মিশিয়ে তারা পালাতে পেরেছিল।

আলাদিনের মনের মধ্যে ঘুমন্ত শক্তি জেগে উঠছিল—সে বুঝতে পারল শুধু জাদু নয়, তার নিজের সাহস আর মানুষের প্রতি ভালবাসাই আসল শক্তি।

একদিন, শাজরাহ তার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় দুর্গে এক বড় যুদ্ধ ঘোষণা করল। আলাদিন জানলো, এবারই সময় তার সত্যিকারের ক্ষমতা দেখানোর।

মিশকাত তার চেরাগ থেকে বেরিয়ে এসে আলাদিনকে বলল, “আমাদের একসাথে লড়াই করতে হবে, আর তোমার অন্তরের শক্তি কাজে লাগাতে হবে।”

যুদ্ধ শুরু হলো। আলাদিন যুদ্ধক্ষেত্রে নামলো, হাতে তার তলোয়ার আর হাতে চেরাগের শক্তি। মিশকাত ছিল তার পেছনে, জাদুতে দস্যুদের রক্ষা করছিল।

শেষ মুহূর্তে, শাজরাহ চতুর পরিকল্পনা করেছিল—সে চেয়েছিল মিশকাতকে আবার বন্দী করে নিকটবর্তী অন্ধকার গুহায় নিয়ে যাবে। কিন্তু আলাদিন আগে থেকে বুঝে গিয়েছিল। সে মিশকাতকে বলল,
“আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেব না। তুমি আমার বিশ্বাস, আমার বন্ধু।”

আলাদিনের বিশ্বাস আর মিশকাতের শক্তি মিলিয়ে শাজরাহকে পরাজিত করল। সেই দিন শহরের সবাই বুঝল, সাহস আর বন্ধুত্বের জয় কত বড়।

আলাদিন আর মিশকাত একসঙ্গে ছিল এক নতুন যুগের শুরু। তারা প্রতিজ্ঞা করল, কখনো নিজেদের ক্ষমতাকে অহংকারে ভেঙে ফেলবে না, বরং মানুষের সেবা করবে।

শহর থেকে শুরু হয়ে পৃথিবীর এক কোণ থেকে আরেক কোণে, “জয় আলাদিন ও তার চেরাগের জ্বীন!”
এমন সুর গুনগুন করল মানুষ।
31 Views
4 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: