নদীর কূল ধরে ছড়িয়ে থাকা ছোট্ট গ্রামটির নাম কেউ তেমন জানত না বাইরে থেকে আসা মানুষেরা। যদিও গ্রামের লোকজন তাদের জীবনের গল্প আর গল্পের মাঝে অনেক পুরনো ইতিহাস শুনিয়েছে, কেউ কখনো বাইরে গিয়ে তা ছড়িয়েও দেয়নি। গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ছিল বটগাছটা, যা গ্রামের ছোট্ট নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, শত বছরের গল্প মাথায় রেখে। বটগাছের নিচে বসে গ্রামের বৃদ্ধরা নানা রূপকথা বলতেন। “নাকি এই বটগাছের মাটি থেকে একটা সময়ে আসলে একদল নাগিন উঠে এসেছিল, যারা এই গ্রামকে রক্ষা করত,” শুনে গ্রামের শিশুরা তাকিয়ে থাকতো বিস্ময়ে।
তাদের মধ্যে ছিল মেয়ে—একটি মেধাবী, স্বপ্নময়ী কিশোরী, যাকে সবাই ছোটবেলা থেকে ‘চাঁদ’ বলে ডাকত। চাঁদের চোখ ছিল বড়, স্বপ্নে ভরা, আর মনটা সাহসিকতা আর কৌতূহলে ভরা। ছোটবেলা থেকেই সে বটগাছের গল্প শুনতে পছন্দ করত, ভাবত—কেন যেন এই বটগাছের নিচে একটা শক্তি লুকানো আছে, যা শুধু সঠিক হৃদয়ের মানুষই পেতে পারে।
একদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে, যখন সূর্য তার লাল রঙের শেষ ঝিলিকটা গাছে গাছে ছড়িয়ে দিচ্ছিল, চাঁদ নদীর পাড়ে হেঁটে গেল বটগাছের নিচে। নদীর জল হালকা ঢেউ খেলছিল, আর বটগাছের শাখাগুলো ঝরে আসা পাতা যেন বাতাসের সাথে নাচছিল। চাঁদ মাটিতে বসে একটু বিশ্রাম নিতে চাইল, হঠাৎ তার পায়ের কাছে মাটির মধ্যে থেকে একটা নরম, মসৃণ স্পর্শ পেল। আশ্চর্য হয়ে সে তাকাল মাটির নিচে, যেখানে সাপের এক লম্বা পুচ্ছ ধীরে ধীরে উপরে উঠছিল।
পুচ্ছটি ছিল গাঢ় লাল রঙের, আর তার আঁশগুলো যেন রূপালী ঝলক লাগছিল। চাঁদ ভয় পেল না, বরং কৌতূহল তাকে বাঁধল। হঠাৎ পুচ্ছের উপরের অংশটি ধীরে ধীরে মানুষের রূপ নিতে শুরু করল। আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এক নারী দাঁড়িয়ে ছিল, যার চোখে ছিল গভীর রহস্য আর এক ধরনের অপার্থিব শক্তি। তার চুল ঝলমল করছিল, আর লাল সিল্কের পোশাক তাকে যেন এক রাজকুমারীর মতো করে তুলেছিল।
“আমি তোমার গ্রামকে রক্ষার জন্য এসেছি,” সে বলল কোমল স্বরে, “আমি সেই নাগিন, যাদের কথা তোমরা শোন। আমি শুধু তোমার মতো হৃদয় বিশুদ্ধ একজন মানুষের সাথে কথা বলতে পারি।”
চাঁদ অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, “কেন তুমি আমার সাথে কথা বলছ? আমি তো শুধু একটা সাধারণ মেয়ে।”
“তোমার হৃদয় বিশুদ্ধ,” নাগিন বলল, “এটা আমাকে এখানে টেনে এনেছে। অনেকদিন ধরে আমার এই ভূমির পাহারাদার হতে হবে। তোমার সাহস আর ভালবাসা আমাকে শক্তি দেবে।”
চাঁদের মনে হল যেন তার ভেতর এক অদ্ভুত শক্তি জন্ম নিচ্ছে। নাগিন তাকে তার অতীত কথা শোনাল—কীভাবে সে হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষা করে এসেছে, আর কীভাবে এক নতুন শত্রু আসতে চলেছে, যিনি গ্রামটাকে ধ্বংস করে দিতে চায়।
চাঁদ তখন ঠিক করল, সে তার গ্রামের জন্য যেকোনো কষ্ট সইবে। নাগিন তাকে শিখালো নদীর জলের ভাষা, বনাঞ্চলের ছায়া, আর বটগাছের পাতা থেকে শক্তি নেওয়ার কৌশল। গ্রামের কেউ জানতো না এই অদৃশ্য সুরক্ষা কেমন করে কাজ করছে, শুধু তারা বুঝতে পারল যে চাঁদ এখন একদম আলাদা মানুষ—তার চোখে ছিল অদ্ভুত দীপ্তি, আর সে কোনো বিপদ আসতে দিচ্ছিল না।
চলবে...............
নাগিন ( এক ভয়ানক প্রতিশোধের খেলা)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
130
Views
12
Likes
3
Comments
0.0
Rating