মূলত গল্পটির চরিত্র,স্থান,কাল - সবই কাল্পনিক।বাস্তবের সঙ্গে এ গল্পের কোনো মিল নেই।
কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ 🙅♀️
বর্ষাকালের বিকেল চারিদিকে পানি থইথই করছে, একটু পর পর মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে চারিদিকে পরিবেশ যেন থমথমে, গাছপালা ছোপঝাড় পানির কারনে ভেসে যাচ্ছে, কিছু লতাগুল্ম তো পানিতে তলিয়ে রয়েছে ।বর্ষা মানেই তো বৃষ্টিময় প্রকৃতির সুন্দরতম আবহাওয়া।
গাড়ি থেকে একটি যুবক নামল...
কালো কোর্ট, টাই , সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পরা চোখে কালো চশমা,হাতে একটা ব্যান্ডের ঘড়ি, যুবকটির নাম আয়াশ।
আয়াশ গাড়ি থেকে নেমে বৃষ্টি তে ভিজচ্ছে , আয়াশের সাথে কয়েকটি বডিগার্ড সব সময় থাকবেই, আজ সে বডিগার্ড গুলোসাথে নেয় নি সেই ছোট বেলা স্বপ্ন ছিল আয়াশের অনেকগুলো বডিগার্ড তার সাথে থাকবে এই স্বপ্নটি পূরণ হয়েছে ইতালিতে গিয়ে, সে এখন বড় নাম করা বিজনেস ম্যান,, সব সময় কয়েকটি বডিগার্ড সাথেই সাথেই থাকে , একটু হাঁটতে গেলে থমকে গেল আয়াশ সামনে একটি বটগাছ এই সেই বটগাছ যেখানে কত শত আড্ডা , বন্ধু বান্ধবী মিলে কতো শত স্মৃতি জুড়ে আছে এই বটগাছটিকে ঘিরে।
সোনালী রোদে একমুঠো হাসি নিয়ে সবাই কতো আড্ডায় না দিয়েছে, বন্ধু বান্ধবীদের মাঝে সব থেকে সুন্দরী ছিল মিরা, হ্যাঁ সেই মিরা যার হাসি দেখে ক্যাম্পাসের সবাই পাগল হয়ে যেত খুব শান্ত স্বভাবের হওয়া সবাই বেশ জ্বালাতো মিরাকে, তারপরও মিরা কিছুই বলতো না, আমিও তো কম জ্বালায়নি কিন্তু ৬ বছর পর ইতালি থেকে দেশে ফিরে সবকিছু যেন মনে পড়ছে কমবেশি সবার সাথে কথা হলেও মিরার সাথে কোন কথা বা যোগাযোগ দেখা সাক্ষাৎ পর্যন্ত হয়নি । হবেই বা কি করে বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার আগে মিরার সাথে যে ব্যবহারটা আয়াশ করছে তাতে করে মনে হয় না আয়াশের সাথে আর কখনো মিরা কথা বা যোগাযোগ রাখবে।
এতো দিনে হয়তো মিরার বিয়েও হয়ে গেছে, এতো কিছু ভাবতে ভাবতে আয়াশ হাঁটছে ক্যাম্পাসের ভেতরে যেতেই তাকিয়ে দেখলো ক্যাম্পাসের ভেতরে সেই গোলাপ গাছ যেইটা মিরা আর আয়াশ লাগিয়েছে গাছটি ডাল পালা ছিটিয়ে শাখা প্রশাখা বৃদ্ধি পেয়ে অনেক বড় গাছে রূপান্তরিত হয়েছে খুব সুন্দর লাল গোলাপ ফুঁটে আছে দেখতে মনোমুগ্ধকর লাগছে। আর একটু যেতেই চোখ পড়লো চায়ের সেই টং দোকানটা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে এই চায়ের দোকানে বসেও মেয়েদের কতো র্যাগিং করেছে আয়াশ ও তার বন্ধুরা। কিন্তু সবই আজ স্মৃতির পাতার একটি অংশ হয়ে গেছে।
ক্যাম্পাস আর আগের মতো নেই এখন আরো বিল্ডিং আর কারুকাজের রং করা আরো সুন্দর লাগছে।পরিবেশ টা আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।সময় সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয়ে যায় আমাদের পথচলাও এখন আলাদা হয়ে গেছে।
টং চায়ের দোকানে বসে মিরা আমাকে বলেছিল আমার বিয়ে এটা স্বপ্নের থেকে কোনোদিক দিয়ে আমার কাছে কম কিছু না আয়াশ।
আমি বধূ সেজে বসে থাকবো আমার চারপাশে হাজার হাজার মানুষের ভীড় সবাই আমার বিয়ের দাওয়াত খেতে আসবে, কাজী সাহেব চলে আসবে...
কাজী সাহেব বলবে বলুন মা “কবুল “।
তিন কবুল এক সাথে বলে দিলে আমার বিয়ে কম্পিলিট হবে আর আয়াশ তুমি সারাটা জীবনের মতো আমার হয়ে যাবে।
মিরার স্বপ্নটা আমি ভেঙেছিলাম বিশ্বাস আর ভরসাটাও ভেঙে তছনছ করেছিলাম। কিন্তু মিরার বলা কথাটা খুব মনে পড়ছে। ইতালির থাকা কালীন একটি বারের জন্যও মিরাকে আমার মনে পড়ে নি। খুব কষ্ট দিয়েছি মেয়েটা কে।
মনটা খুব খারাপ হলো ক্যাম্পস থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গাড়ি কাছে এলাম..
ডাইভারকে গাড়ি বাসায় নিয়ে যেতে বললাম..
গাড়িতে উঠেই বার বার বৃষ্টি ভেজা সেই রাত মিরা আর আমার কাটানো সময়, বকুল ফুলের গন্ধ আর মিরার অসহায় মুখটা বার বার চোখের সামনে ভাসছে। বুকের মধ্যে তোলপাড় শুরু হচ্ছে ।
বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে একট ঘুম দিলাম ঘুম থেকে উঠে কফি খাচ্ছি আবার মিরার বলা কথা মনে হলো..
ফ্লাশব্যাক..
মিরা : আচ্ছা আয়াশ বিয়ের পর প্রতিদিন সকালে আমি তোমায় কফি করে দিবো, তুমি খেয়ে নিয়ে আবারও চুপটি করে ঘুমিয়ে যেও৷
আয়াশ: এসব ফালতু কথা কই পাও শুধু বিয়ে আর বিয়ে,বিয়ে ব্যতিত কিছু ভাবতে পারো না নাকি?
সেই দিন আমি দেখেছিলাম মিরার চোখ দুটো পানিতে টলমল করছিল।
বর্তমানে..
হ্যাঁ,আমি নিজের ভূলটা বুঝতে পেরেছি । আমি মিরাকে খুঁজে বের করবোই, আমার ফোন থেকে পুরনো সকল বন্ধুদের নাম্বার খুঁজে সবাইকে কল দিলাম, মিরার ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলাম কিন্তু কেউই মীরার ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে পারল না।
খুব দোষী মনে হলো নিজেকে..।
যে ভাবেই হোক মিরাকে খুঁজে বের করতেই হবে.. মিরার কাছে মাফ চায়তেই হবে, আসলে টাকার পিছে ছুটে আমি মিরাকে হারিয়েছি আজ বুঝতে পারছি মিরা আমার জন্য কি ছিল। আয়াশের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে এলো..
চোখ থেকে পানিটা মুছে আয়াশ কফিটা শেষ করল মনের মধ্যে ঝড় বেয়ে চলেছে।
কয়েকদিন ধরে খুব খুঁজেতে লাগল কিন্তু কোথাও মিরা কে পেল না। আয়াশ মিরার সাথে নদীর তীরে বকুল গাছটার নিচে গল্প করত। পরেরদিন গাড়িতে উঠে নদীর পারে গেল.. আয়াশ বকুল গাছটার কাছে গেল মিরাকে জড়িয়ে ধরার স্মৃতি গুলো কল্পনা করল আর মিরাকে খুব মিস্ করতে লাগল।
মিরার দেখা কি আর কোনদিন পাবো না হঠাৎ খেয়াল করল একটি ছোট মেয়ে বাচ্চা নদীর ধারে চলে গেছে তাড়াতাড়ি করে বাচ্চাটিকে বাঁচালো..
তোমার নাম কি মামুনি, আমি আতিয়া, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে বাঁচানোর জন্য।
তাই বলে মেয়েটি দৌড়ে চলে গেল..
আয়াশ মেয়েটির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল..
কিছুক্ষণ পর..
মেয়েটা পেছন থেকে এসে বললো...
"আমার মাম্মাম তোমাকে ডাকছে আঙ্কেল।"
-কে তোমার মাম্মাম,মামুনি?
- ওই যে বসা।
আমি আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম। গিয়ে পেছনে দাঁড়ালাম।
-আমাকে ডেকেছেন?
পেছন ঘুরতেই কিছুটা অবাক হলাম। এতো মিরা মিরাকে দেখে আমি পিছু হটতে গেলাম। মিরাও আমাকে দেখে আঁতকে বলে উঠলো...
মিরা তাড়াতাড়ি চলে যেতে লাগল..
-পরনে নীল শাড়ি কুচিদিয়ে পার দেওয়া, কানে একছোড়া জুমকো দুল, হাতে নীল চুড়ি খুব ভালো লাগছে মিরাকে।
দাঁড়াও মিরা..
- কিছু বলবে তুমি? কিন্তু আমার শোনার সময় নেই।আমাকে যেতে হবে।
-হ্যাঁ, আমাকে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া যাবে? তাহলে কিছু কথা বলতাম।
- আমি শুনতে চায় না আমাকে যেতে দাও মিরা বলল..মুখে ভয়ের ছাপ ফুঁটে উঠেছে।
-প্লিজ আমার কথাটা শোনো একটি বার
তোমাকে আমি অনেকদিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি।কিন্তু কোন ভাবেই পাচ্ছি না।
- কেন খুঁজছো তুমি আমায়? সেই যে এই শহর ছেড়ে চলে গেলে,আমাকে ভূলে তো ভালোই আছো এখন আমাকে কেন খুঁজেতে হবে তোমার?
-আমি তোমাকে অনেক খুঁজেছি, কোথাও খুঁজে পেলাম না। তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে?
- যে শহরে আমার কোন অস্তিত্ব নাই। যে শহরে আমার জন্য দেয়ালে দেয়ালে বেদনার ছাপ লেগে আছে। সেই শহরে আমি কি করে থাকি?
তোমার কি কখনো জানতে ইচ্ছে হয়নি, আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কিভাবে আছি?আয়াশ তুমি আমাকে খুব বাজে ভাবে ছুঁড়ে ফেলেছো। আমার মন তো অনেক কিছু জানতে চায়, তবুও নিজেকে সংযত রেখে নিজের মতো করে চলতে শিখেছি।
-তুমি অনেক পাল্টে গেছো মিরা। বিয়ে করে নিয়েছো তাই না?বাচ্চাটা তোমার?
- পাল্টে গেছি এটা সত্য। যেদিন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি সেদিন থেকেই নিজেকে নতুন করে করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আর বিয়ে আর বাচ্চা নিয়ে তোমাকে কিছু বলতে চায় না। আমাদের থেকে দূরে থাকো এটায় ভালো হবে।
- তোমার ফোন নাম্বারটা কি আমাকে দেওয়া যাবে মিরা? সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।তোমার হয়তো যেতে হবে।
-আমার নাম্বার দিয়ে তুমি কি করবে?
- আমার নাম্বারটা তাহলে নেও , যখন তোমার সময় হবে তখন তুমি আমাকে কল দিও।
-তার কোন প্রয়োজন নেই আয়াশ আমাদের যেতে দাও?
আয়াশ চোখ দিয়ে পানি টলমল করছে এদিকে মিরার চোখেও একই অবস্থা কেউ যেন কাউকে ছাড়া ভালো নেই কিন্তু মিরা বিয়ে করে সুখি আছে তাই তো মিরার পাশে মিরার মেয়ে আতিয়া দাঁড়ানো।
বিগত ৬ বছর পরে মিরা সাথে আমার দেখা। মিরা আমার জীবন থেকে হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল।সব দোষ আমারই। বিনা অজুহাতে বিনা কারণেই আমি মিরাকে আমার থেকে দূরে সরিয়েছি, আমি মিরাকে খুঁজে পেলাম কিন্তু এভাবে পাবো তা কখনোই ভাবি নি। কয়েকটা বছর আমাদেরকে এভাবে দূরে সরিয়ে রাখবে ভাবতে পারি নি।
মিরা তোমার নাম্বার টা আমাকে দাও, আর প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও, তুমি ক্ষমা না করলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না।
মিরা বলল.. আমার বাচ্চা সামনে এসব বলার অধিকার আপনার নেই।
-আমি কি অনেক দূরের মানুষ ? মিরা প্লিজ নাম্বার টা দিয়ে যাও!
-মিরা বলল কাল বিকেলে এখানে আসবেন আর এটাই আপনার আর আমার শেষ কথা হবে।এরপর থেকে আমাদের আর দেখা হোক আমি তা চায় না।
তাই বলে মিরা চলে গেল আমি দাঁড়িয়ে একপলক দৃষ্টিতে ওদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলাম..
আতিয়া আমার দিকে একবার তাকালো আতিয়া তার মায়ের মতোই সুন্দর । হাত দিয়ে আমাকে টা টা দিলো।
আমি চুপ করে দেখলাম, মিরাকে হারিয়ে আমি যে কতটা ভূল করেছি তা আজ বুঝতে পারলাম। মিরাকে চলে যেতে দেখে বুকের মধ্যে কম্পন সৃষ্টি হলো কষ্ট বুকটা ফেটে পড়ছে তারপরও ওদের আটকানোর অধিকার হয়তো আমার নেই।
রাত তখন প্রায় তিনটা,ঘরের সবকিছু অন্ধকার, নিঃস্তব্ধ, শুধু ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটা শোনা যাচ্ছে।আয়াশ চুপচাপ বিছানায় শুয়ে, তাকিয়ে আছি সিলিংয়ের দিকে একদৃষ্টিতে । বুকের মধ্যে এক অজানা আগুন ধরা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনপর মিরাকে খুঁজে পেল কিন্তু মিরাতো এখন অন্যকারো মিরাকে ছাড়া কাটাবে কি করে,এটা সহ্য করা কি সম্ভব হবে, তার সহ্য করার ক্ষমতাটাও ক্লান্ত হয়ে গেছে। ঘরের কোথাও কোন শান্তি অনুভব হলো না আয়াশের, বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট ।
পরেরদিন...
মিরার দেওয়া কালো রংয়ের শার্ট পরিধান করল আয়াশ ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো সময় হয়ে গেছে প্রায়, মিরার সাথে দেখা করার জন্য বের হলো বকুল গাছটার নিচে আয়াশ দাঁড়িয়ে আছে মিরার কিছুসময় পর আসল দুজন দুজনের মুখোমুখি নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে...
নিস্তব্ধতা ভেঙে মিরা বলল আমি চায় না আপনার কোন প্রভাব আমার মেয়ের উপর পরুক, আপনি আমার সাথে কেন দেখা বা কথা বলতে চান বলুন?
-আয়াশ বলল মিরা আমাকে মাফ করো আমি তোমার সাথে অনেক অন্যায় করছি আমি জানি আমি ক্ষমা পাওয়ার উপযুক্ত নয় তারপরও যদি পারো তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
-সেদিন কোথায় ছিল আয়াশ যখন আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল তোমাকে কতবার বললাম তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না কিন্তু তারপরও তুমি আমার কথা শুনলে না, বিয়ে করার জন্য আমি পাগল ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে ব্রেকআপ করে, আমার কথা তোমার একবার মনে পড়ে নি আমার অসহায় চাহনি তোমার মন গলাতে পারে নি সেইদিন। আমার সম্মানটুকু বিলিয়ে দিয়েছিলাম ভালবাসার প্রমান দিতে গিয়ে কিন্তু তুমি তার বিনিময়ে আমাকে ছেড়ে হারিয়ে গেলে।
তুমি জানো একজন Single mother এই সমাজের জন্য কি পরিমান অভিশাপ ।
-তার মানে আতিয়া আমার বেবি?
-না আয়াশ ও তোমার বেবি নয় ও শুধু আমার একার সন্তান । আমি চায় না এমন বাবা যে তার সন্তান কে ছেড়ে চলে যেতে পারে।আতিয়া কোনদিন তোমাকে বাবা বলে জানুক আমি চায় না আর আমি বিয়েও করি নি , আতিয়াকে শেষ করতে পারি নি আমি, জানাতেও পারি নি যে তার বাবা ভালোবাসার নামে আমার সাথে প্রতারণা করছে। আমি সবার কাছে তুচ্ছতাচ্ছিল্য হয়ে ওকে বড় করিছি আমার পরিবারও আমার পাশে ছিল না, সব সময় শুনতে হতো আতিয়ার বাবা নেই। আতিয়া জানে তার বাবা বেঁচে নেয়, আমি চায় না তুমি আমাদের মাঝে ফিরে আসো। আমার মেয়ে আমি আমার মতো করে বড় করতে চায় যেখানে তোমার কোন অস্তিত্ব নেই আয়াশ।
-আমাকে কি একটি সুযোগ দেওয়া যায়না মিরা?
-না তোমাকে আর কোন সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।আমাদের লাইফ থেকে তুমি দূরে থাকো আয়াশ অনেক দূরে। আমাদের মতো অসহায় মায়েরা বাচ্চা দের কে অনেক কষ্ট করে বড় করে তোলে আর তোমাদের মতো বাবারা সব দায়িত্ব কর্তব্য রেখে ছেড়ে চলে যায়।
- সরি মিরা আমার ভূল গুলো ক্ষমা র অযোগ্য। তোমায় একটু ছুঁয়ে দিবো মিরা একটা বারের জন্য ?
-মিরা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল...এটাও যে আর সুযোগ নেই।
আয়াশ মিরা কে জড়িয়ে ধরল কপালে চুমু এঁকে দিল, হাতে হাত দিয়ে একটু ছুঁয়ে দিলো মিরাকে।দুজনের চোখের পানি পড়ছে।
মিরা আয়াশকে ধাক্কা দিয়ে কাঁন্না করতে করতে চলে গেল...
চিৎকার করে আয়াশ বলল তোমাকে ছুঁয়েছি মীরা আর শুধু তোমায় ছুঁয়ে দিলাম.....
আয়াশ অসহায় চাহনি মতো চেয়ে রইল..
আয়াশ নিজেকে অনেক পাপিষ্ঠ পুরুষ মনে করে ভালোবাসার মানুষ পেয়েও হারিয়ে ফেললো..
আতিয়া কি কোনদিন ও জানবে না তার বাবা এই পৃথিবীর বেঁচে আছে এখনো মরে নি.......?
আয়াশের এই প্রশ্নের উত্তর কখনোই হয়তো
মিলবে না ।
সমাপ্ত
নোট :সকলকে মনোযোগ দিয়ে আমার গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
তোমায় ছুঁয়ে দিলাম
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
44
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating