প্রেম আমার (পর্ব ৬)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার
পর্ব_৬
কানিজ ফাতেমা

মাইশা সবকিছু গুছিয়ে অফিস থেকে বের হতে নেবে তখনই আরিয়ান তার সামনে এসে বলল,
------কোথায় যাচ্ছেন।

------আমার অফিস শেষ তাই বাসায় যাচ্ছি।

----- আপনাকে আমি যেতে বলেছি।

মাইশা সাথে সাথে আরিয়ানকে ওর হাত ঘড়িটা দেখিয়ে বলল,
------ এই যে দেখুন স্যার, অফিস আওয়ার এখন শেষ সুতরাং আপনি এখন আর আমার বস নন।আর আমি ও আপনার পি.এ নই সুতরাং আপনি এখন আর আমাকে কোন হুকুম করতে পারবেন না।

------shut up ok. আপনি আমাকে অফিস টাইম শিখাতে এসেছেন। আপনি আমার বস নাকি আমি আপনার বস।আগামি কালকে অনেক বড় একটা প্রজেক্ট সাইন হতে চলেছে সো সমস্ত কাজ কমপ্লিট করে তারপরে বাসায় যাবেন।

-------জি স্যার আমি সম্পূর্ণ কাজ কমপ্লিট করেই বাসায় যাচ্ছি।

------very good.

------ থ্যাঙ্ক ইউ স্যার,তাহলে এখন আমি আসি।

------ না। আমি না বলা পর্যন্ত আপনি এক পাও অফিস থেকে বের হবেন না।

------ কিন্তু কেন? আপনি আমার সাথে এমন করতে পারেন না স্যার।

আরিয়ান মাইশা কে ওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল,

------ আমি কি পারি আর না পারি সেটা নিশ্চয়ই আপনার কাছ থেকে আমাকে শিখতে হবে না আমার।

------ এটা কি করছেন স্যার আমাকে ছাড়ুন প্লিজ।

আরিয়ান মাইশাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,

------- আমি এক জায়গায় যাবো আপনাকেও আমার সঙ্গে যেতে হবে।

------কোথায় যাবেন স্যার।

-------আমি এত প্রশ্ন করা পছন্দ করি না ওকে।

"" শা*লা আইলার বা*চ্চা, ব্ল্যাক কফি খেতে খেতে ওর মুখে কথাগুলো ব্ল্যাক কফির মতোই তেতো হয়ে গেছে। ঢং দেখলে গাঁ জ্বলে যায় যায়।(মনে মনে ভেংঞ্চি কেটে বলল)""

অফিস থেকে বেরিয়ে দু'জনে গাড়িতে বসলো।আরিয়ান গাড়ি চালাতে শুরু করল।কিছুক্ষণ পর ওদের গাড়ি একটা শপিং মলের সামনে এসে থামলো।আরিয়ান মাইশাকে গাড়ি তে রেখে তার একটা কাজ আছে বলে গাড়ি থেকে নেমে শপিং মলের ভিতর চলে গেল।

আরিয়ান চলে যেতেই,
------- আইলার বা*চ্চা তোর কাজ আছে তো তুই আমাকে কেন নিয়ে আসলি। এখন বাসায় গেলে কি সুন্দর আমার ফেভারিট কার্টুন টা দেখতাম আর মামীর হাতের স্পেশাল চা আর পোকরা খেতাম। ওর তো আবার আমার সুখ সহ্য হয় না। কিভাবে আমাকে খাঁটাবে সবসময় সেই সেই ফন্দি আঁটে। ডাই*নোসর কোথাকার।

কেউ একজন অনেকক্ষণ ধরে আড়াল থেকে মাইশার দিকে নজর রাখছে। সে পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিয়ে বলল,
------- আপনি কোন চিন্তা করবেন না স্যার সবকিছু প্লানিং মোতাবেকই হবে।শুধু সঠিক সময়টার অপেক্ষা।

ফোনটা রেখে সে ঠোঁটে বাঁকা একটা হাসি দিয়ে বলল,
------কান টানলে মাথা আসবেই। আমার কান আর মাথা দুটোই দরকার।

বলেই সে হাসতে লাগলো।

আরিয়ান মার্কেটের ভিতরে ঢুকতেই একজন লোক তার কাছে কিছু শপিং ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল,
------ স্যার আপনার কথা মতো সব কিছু রেডি করে রেখেছি।

------গুড ভেরি গুড।এবার চলুন বাকি কাজ টা করতে হবে।

মাইশা প্রায় আধঘন্টা ধরে গাড়িতে বসে আছে।খুব বিরক্ত লাগছে মাইশার কাছে।মাইশার খুব পানি পিপাসা পেয়েছে তাই ও গাড়ি থেকে নেমে একটা পানির বোতল কেনার জন্য সামনের দিকে গেল। মাইশা একটা পানির বোতল কিনে বোতলের মুখ খুলতে খুলতে আসছিল তখনই কেউ একজন এসে মাইশা কে টান দিয়ে এক পাশে নিয়ে গেল।লোকটার টান খেয়ে মাইশা তার বুকের উপর আছড়ে পড়ল।মাইশা তাকিয়ে দেখলো আরিয়ান।মাইশা দেখলো খুব স্পিডে দ্রুত একটা গাড়ি মাইশার পাশ কেটে চলে গেল।ঠিক সময় মত যদি আরিয়ান মাইশাকে টান না দিত তাহলে মাইশার বড় ধরনের একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যেত।

আরিয়ান অগ্নি মূর্তি হয়ে মাইশার দুই বাহু তে হাত দিয়ে মাইশা কে ঝাঁকি দিয়ে জোরে চিল্লিয়ে বলল,
------- এই কোন কমন সেন্স নেই তোর। কিভাবে রাস্তা পার হতে হয় তাও তুই জানিস না। আমি ঠিক সময় মত না আসলে এখন কি হতো বুঝতে পারছিস তুই। কেন গাড়ি থেকে নেমেছিস তুই। তোকে না আমি বললাম গাড়িতে বসতে।

মাইশা তার হাতে রাখা পানির বোতল টা আরিয়ানকে দেখিয়ে আস্তে করে বলল,
------পানি আনতে গিয়েছিলাম আমার খুব পানির পিপাসা পেয়েছিল তাই।

-------just shut up stupid. তোর পানির পিপাসা পেয়েছে তুই আমাকে ফোন দিয়ে বলতে পারলি না। এখন যদি কিছু হয়ে যেত তোর তখন কি হতো।

------ কি করে বলবো আমার কাছে কি ফোন আছে যে তোমাকে আমি ফোন দেব।

আরিয়ান আর কিছু বলল না মাইশার হাত ধরে রাস্তা পার করে ওকে গাড়ির কাছে নিয়ে আসলো। আরিয়ান আর মাইশা গাড়িতে গিয়ে বসলো। আরিয়ান গাড়ি চালানো শুরু করলো। আরিয়ানের খুব গিলটি ফিল হচ্ছে আরিয়ানের জন্যই মাইশার আজ অনেক বড় বিপদ হতে পারত। মাইশার কাছে যদি আজকে ফোন থাকতো তাহলে মাইশা আরিয়ানকে ফোন দিতে পারতো।

মাইশা কিছুক্ষণ পরপর আরিয়ানের দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে। আজকে আরিয়ান সঠিক সময় মত যদি না আসতো তাহলে এতক্ষণে মাইশার প্রাণ পাখিটা উড়ে যেত। কেন জানো আজকে আরিয়ানের প্রতি অন্যরকম একটা অনুভূতি জাগ্রত হচ্ছে মাইশার মনে। এতদিন আরিয়ান মাইশার সঙ্গে যা করেছে সবটাই আরিয়ানের বাড়াবাড়ি বলে মাইশা পাত্তা দিত না। কিন্তু আজ কেন যেন আরিয়ানের এই শাসন টা খুব ভাল লাগল মাইশার কাছে।

গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে।কারো মুখে কোন কথা নেই।দুজনের মধ্যেই পিনপতন নীরবতা।কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে ওদের বাড়ির সামনে থামলো। মাইশা ওর রুমের দিকে যেতে নেবে তখনই আরিয়ান পিছন থেকে ওকে ডাক দিয়ে ওর সামনে দুই টা শপিং ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল,
------ এই নে এই শপিং ব্যাগগুলো ধর।

------ কি এইগুলো।

------ এত কথা না বলে ধরতে বলেছি ধর।

আরিয়ান শপিং ব্যাগগুলো মাইশার হাতে দিয়ে বলল,
------- আগামী কালকে পার্টিতে তুই এই ড্রেস টা পড়বি। যদি এই ড্রেস টা না পরিস তাহলে কিন্তু তোর খবর আছে।

বলেই আরিয়ান ওখান থেকে চলে গেল।আরিয়ান ওখান থেকে চলে যেতেই মাইশা আরিয়ানের যাওয়ার পানে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
------ গিফট দিল না থ্রেড দিল কিছুই বুঝলাম না।

~~~~~~~~~

সন্ধ্যার দিকে আলিয়া ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কারো সাথে কথা বলছিল। তখনই মাইশা আস্তে আস্তে করে আলিয়ার পিছনে এসে আলিয়াকে আস্তে করে বলল,
-------drinking drinking sinking water.

মাইশার কণ্ঠ শুনে আলিয়া ঘাবড়ে গেল। তাড়াহুড়া করে আলিয়া ফোনটা কেটে দিয়ে কিছুটা তোতলিয়ে মাইশা কে বলল,
------- মা..... মানে কি বলছিস তুই।

------- আহারে কিচ্ছু বোঝে না আমার বোনটা। আমি কিন্তু সব বুঝে ফেলেছি।

------ কি বুঝেছিস।

------ এই যে আমার বোনটা কারো প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।

------ ধুর কি যে বলিস না তুই।

-------আচ্ছা ঠিক আছে আমি তো এখন তোর পর হয়ে গেছি। আমাকে যখন বলবিই না আমি চলে যাচ্ছি তাহলে।

আলিয়া মাইসাকে বাঁধা দিয়ে বললো,
-------কে বলল তুই আমার পর।

------ আপন ভাবলে তো বলতিই।

------- আরে তেমন কিছু না আমার কলেজের এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম।

মাইশা তার দুই হাত ভাঁজ করে ঠোঁট টিপে একটা হাসি দিয়ে আলিয়াকে বলল,
------ বুঝি বুঝি আমরা সব বুঝি সিনিয়র ভাই না অন্য কিছু।

------ তাই নাকি তুই সব বুঝিস।

------- হুম অবশ্যই।

------- আচ্ছা সবই বুঝিস তাহলে এটা বুঝিস না কেন কে তোকে কেয়ার করে ভালোবাসে।

মাইশা আলিয়ার কথা এরিয়ে দিয়ে বলল,
------ আচ্ছা চল নিচে যাই এত বুঝে আর লাভ নেই।

------ কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস।

------ আরে না আসার সময় দেখলাম মামি তার স্পেশাল চা আর পকোড়া বানাচ্ছে চল।

মাইশা আলিয়াকে আর কোন কথা বলতে না দিয়ে ওখান থেকে টেনে নিয়ে নিচে নেমে গেল। আলিয়া আর মাইশা টিভি দেখতে দেখতে পকোড়া আর চা খাচ্ছিল। তখনই আরিয়ান এসে মাইশার সামনে একটা ফোনের বক্স রেখে বলল,
------ এটা খুলে দেখ পছন্দ হয় কিনা।

------- বাবা মাইশা তোর কি ভাগ্য রে। না চাইতেই নতুন ফোন পেয়ে গেলি।আর আমি কতদিন থেকে ভাইয়াকে বলছিলাম ভাইয়া আমাকে নতুন একটা ফোন কিনে দাও ভাইয়া শুনছেই না। আর তোকে না চাইতেই কিনে দিল।নে নে খুলে দেখ পছন্দ হয়েছে কিনা। আমাদের তো নতুন ফোন পাওয়ার ভাগ্য নেই তোর টা দেখেই না হয় আফসোস মিটালাম।

-------মারবো টেনে এক চড়। এই তোর লেখাপড়া নেই। সব সময় খালি ফোনের চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করে তাই না। যা পড়তে বস গিয়ে।

------উফ্ ভাইয়া সারাদিন কি পড়তে ভালো লাগে বলতো।

------- তোর না সামনে পরীক্ষা সারাদিন পড়ার টেবিলে বসে থাকবি। যা এখন পড়তে বস।

মাইশা আরিয়ানকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
-------আপনি এমন করছেন কেন স্যার। ও ঠিক সময় মত পড়তে বসবে।

মাইশার মুখে আরিয়ানকে স্যার কথাটা শুনে আলিয়া খিল খিল করে হেসে দিয়ে বলল,
------ মাইশা তুই ভাইয়া কি স্যার বলছিস।How funny.

------- কি করবো বল উনি তো আমার বস উনাকে স্যার না ডেকে কি পারা যায়। তাই না স্যার।

------ তোকে আমি স্যার দেখতে বলেছি অফিসে বাসায় না।

------ তাহলে বাসায় কি বলে ডাকবো স্যার।

------ ঠা*স করে একটা থা*প্পড় বসিয়ে দিলে না বুঝতে পারবি কি বলে ডাকবি।

------ কেন আমার গালটা কি তোমার সরকারি রাস্তা মনে হয় যখন খুশি খালি মারার চিন্তা করবে।

------- এত বেশি কথা না বলে ফোনটা খুলে দেখ।

মাইশা একটা ভেংঞ্চি কেটে বলল,
------ আমি কি তোমার কাছে ফোন চেয়েছি। লাগবে না আমার তোমার ফোন। তুমি এটা বরং আলিয়াকে দিয়ে দাও।

আরিয়ান মাইশার হাতে ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে বলল,
-------আর একটা কথাও না বলে চুপচাপ ফোনটা ধর।

মাইশা কিছু বলতে যাবে তখনই আরিয়ান চোখ গরম করে তাকালো মাইশার দিকে। মাইশা ভয় পেয়ে আর কিছু বলল না। আরিয়ান ওখান থেকে চলে গেল।

আরিয়ান সেখান থেকে চলে যেতেই মাইশা কিছুটা রাগ নিয়ে আলিয়াকে বলল,
------ এই আলিয়া তোর ভাইটা এমন কেন রে সব সময় আমার উপর একটা খবরদারি ফালানোর চেষ্টা করে।

------ তুই ও ভাইয়ার উপর খবরদারি ফলা না কে নিষেধ করেছে।

------- ওর মত একটা আইলার উপর খবরদারি ফলাতে আমার বয়েই গেছে।😏😏😏

মাইশার কথা শুনে আলিয়া মুচকি হাসি দিল আর মনে মনে বলল,
"" সময় হলে ঠিকই খবরদারি ফলাবি যে সময়টা খুব নিকটে।

রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে মাইশা নিজের রুমে গিয়ে ফোনের বক্স টা খুললো।ফোনটা মাইশার খুব পছন্দ হলো। লেমন কালারের একটা ফোন। ফোনটা দেখেই মাইশা বুঝতে পারলো ফোনটা অনেক দামি। সাথে একটা সিমকার্ড ও দেখতে পেল। মাইশা একটা মুচকি হাসি দিয়ে মনে মনে আওড়ালো,
"" আরিয়ান যেন কেমন একটা মানুষ। নিজে সিম ভেঙে ফেলল, ফোন ফেলে দিলো।আবার নিজেই কিনে এনে দিলো।ওকে বুঝে ওঠা বড় দায়।

~~~~~~~~

পরদিন সকালবেলা পার্টিতে যাবার জন্য একটাও ড্রেস সিলেক্ট করতে পারছিলো না মাইশা। আলমারি থেকে সমস্ত ড্রেস বের করে পুরো বিছানায় ছড়িয়ে রেখেছে তারপরও একটা ড্রেস ও তার পছন্দ হচ্ছে না।ওই যে কোথাও যাবার আগে মেয়েদের যেই রকম প্রবলেম
'"" আমার তো কোন ড্রেস নেই আমি কি পড়ে যাব"""। সেম মাইশার ক্ষেত্রেও হল।😁😁😁.

হঠাৎ মাইশার দেখলো.....

চলবে.....

793 Views
18 Likes
3 Comments
4.1 Rating
Rate this: