মায়া জাল
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
🚫❌ অনুমতি বেতীত কপি নিষিদ্ধ ❌🚫
" এত সকালে আপনি এখানে কি করছিলেন..?
জলন্ত সিগারেটের শেষ অংশটি পায়ের নিচে পিষতে পিষতে সামনে দড়িয়ে থাকে রোগা কালো বর্ণের লোকটির উদ্দেশ্যে করে প্রশ্ন ছুরলো তামজিদ। তামজিদ শেখ, বর্তমানে ঢাকা মিরপুর থানার ডিসি পদে নিয়জিত আছে। গতকাল কুরিগ্রাম জেলাতে একটা কেসের কাজে এসেছিলো। সকাল হতে না হতেই পুরো গ্রামে খবর ছড়িয়ে পরে যে শশান ঘাটে তিনটা লাশ পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীরা তো ধরেই নিয়েছেন তাদের শশান ঘাটে মা"কালীর ( অর্থ হিন্দুধর্মের এক বেদীর) আগমণ ঘটেছে। শুধু তাই নয়, তারা তো দেবীর সন্তুুষ্ট অর্জনে একটি পূজার আয়োজন করবে বলে শোনা যাচ্ছে। নয়তো তাদের সম্পূর্ণ গ্রাম ধ্বংস পূরিতে পরিবর্তন হবে। সত্যি মানুষ কি আজব.. এখানে তিনজন খুন হয়েছে আর তারা সেগুলো উপেক্ষা করে কাল্পনিক অস্তিত্বের সন্তুুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত, কথাটা ভেবেই মনে মনে হাসে তামজিদ, সামনে দাড়িয়ে থাকে লোকটিকে আবারো প্রশ্ন করে সে
~ কি হলো..? বলছেন না যে..?
লোকটা এবার মুখ খোলে
~ আমি শশান ঘাটের পাশের কালী মন্দীরের পন্ডিত, কাল রাতে ঝড় হইছিলো, ঝড়ে আসা হকল ময়লা পরিষ্কার করার জন্য সক্কাল সক্কাল মন্দীর খুলতে যাইতেছিলাম।
লোকটা কথার মাঝ পথে এসে থামে, এরপর শুকনো একটা ঢোক গিয়ে অতি ভক্তির সাথে দুহাত জড়ো করে, কপাল ও বুকে ঠেকিয়ে জোড় গলাই বলে উঠে..
~ মাগো.. মা..রক্ষে করো.. আমি যখন এ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেম তখন দেখি কতগুলো শেয়েল বটগাছের নিচে পরে থাহা কিছু ধরে টানা-টানি করতিছি। ভালো করি দেখার জন্য একটু আগ্গাই যাইতে দেহি মানসের পা। তারপর শেয়েলগুলিরে তারাইয়া দেহি আমাগোর চেয়ারম্যান সাব। আমি ডরে দৌড় দিছি, গ্রেরামে গিইয়া সবাইরে বলছি পরে কেডা থানাই ফোন দিছে আমি জানি না।
~ তা আপনি কি করে বুঝলেন এটা, আপনাদের গ্রামের চেয়ারম্যান, লাশের অবস্থা তো ভালো না..?
লোকটা আবার শুকনো ঢোক গেলে, তারপরে বলে
~ গেরামের হকলে জানে, এই লোক নেশা কইরা এই দিক দিয়া বাড়ি যাই, আর এই লোকের বাম পা ছোট তাই চিনতে পারছি।
তামজিদ মাথা নিচু কর একটা তপ্ত শ্বাস ছাড়ে, এখানে এসে যে আরো একটা কেসের মুখমুখি হবে তা ভাবতে পারেনি সে, আজ সকালে যখন সে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে তখন এই এলাকার দরোগার কাছে শশান ঘাটের খবর টা আসে। মূলত কাল থেকে দারোগা সাহেব তামজিদের সাথেই ছিলো ওকে সাহায্য করতে। খবর পাওয়া মাত্রই দারোগাকে সাথে নিয়ে ক্রাইম স্পটে তামজিদও উপস্থিত হয়। ততক্ষণে জায়গাটা সিল করে ফরেন্সিক টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। লোকটাকে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে তামজিদ গ্লাপ্স হাতে লাশের দিকে এগিয়ে যাই ,সময় নিয়ে খুঁটি খুটিয়ে লাশগুলোকে পর্যবেক্ষন করে। শশান ঘাটে থাকা পাহারাদারের লাশটা শেয়ালে টানটে টানতে একটু ভিতরে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেছে, শরীরে এলো পাথারি ৪০ টার উপরে ছুরি আঘারের চিহ্ন আর বাকি শেয়ালে মাংস খুবলে খেয়েছে । ২য় যুবকের লাশেরও একই অবস্থা। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের লাশটার অবস্থা বেশি খানিক টা ভিন্ন। শরীর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, গলাই পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট তবে শরীরের কিছু অংশ খুবই নিখুঁত ভাবে ছুড়ি দিয়ে কাটা ও উপরে ফেলা হয়েছে, যেমন চোখ, ঠোঁট, গালের মাংস, কান। এছাড়া আর কোনো ক্ষত চিহ্ন নেই বললে চলে।
~ সবাইকে জিজ্ঞাসা বাদ করা শেষ..?
ক্রাইম স্পটের ছবিগুলোতে চোখ বুলাতে বুলাতে দারোগাকে প্রশ্ন করলো তামদিজ।
~ জ্বি স্যার...!
~ কি তথ্য পাওয়া গেলো..?
~ তেমন কিছুই পাওয়া যাইনি স্যার, সবার এক কথা, মা কালি নাকি ওদের শাস্তি দিয়েছে। চেয়ারম্যান নাকি কালো ভোটে পাশ করেছে এছাড়া রোজ রাতে নেশা করে বউ পেটাতো সাথে জুয়াও খেলতো। আর ঐ ছেলেটা নাকি গাজ্জা বিক্রি করতো, আমি থানায় খোঁজ নিয়ে দেখি সত্যি থানায় নামও আছে কয়একবার জেলও খেটেছে ।
~ আর বৃদ্ধ লোকটার..?
~ উনার সম্পর্কে বেশি খারাপ কিছু পাইনি তবে প্রচুর কিপটা আর লোভী প্রকৃতির মানুষ ছিলেন গ্রামের লোকের কথাই যা বুঝলাম।
~হুম গ্রামের লোকের কথাই মনে হচ্ছে খুনী কোনো সাধারণ মানুষ নয় সে হলো দেব দূত, আচ্ছা তাকে ধরলে কি আমাদের পাপা হবে দারোগা সাহেব..?
হাসতে হাসতে প্রশ্ন টি করলো তামজিদ।
~ তা যা বলেছেন স্যার, তবে গ্রামের লোকের ভয় পাওয়ার কারণ টা অন্য কিছু.
~ আর সেই কারণ টাকি..?
~ কুমারী মেয়ের লাশ, কেউ কবর খুরে মেয়ের লাশটাকে বের করেছে, শুধু বের করেছে বললে ভুল হবে। ডান হাতের হাড়টা কেটে ফেলেছে।
~এটাইতো বুঝতে পারছি না খুনির লাশের সাথে কি শত্রুতা ছিলো..? আচ্ছা মেয়েটার বডিতে কি কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো আপত্তি কর স্পর্শের চিহ্ন ছিলো. ..?
~ না স্যার, খালি ঐ ডান হাতটাই কাটাছিলো..আর বাকিটা রিপোর্ট আসার পরে জানা যাবে। তবে পাশে যে কবর খোরা মাটি ছিলো সেখানে জুতোর ছাপ আর কোদা ও বেলচাতে ফিঙ্গার প্রিন্ট পাওয়া গেছে।
~ এটা একটা বড় প্রমাণ হাতে পেয়েছি আমরা, কিন্তুু খুনি কি আসলেই এতটা বোকা নাকি ইচ্ছে করে ফিঙ্গার প্রিন্ট রেখে গেছে...?
~ সঠিক বলতে পারছি না স্যার, তবে আমাকে এছাড়াও একটা জিনিস খুব আবাক করেছে, সেটা হলো, চেয়ারম্যানের লাশের উপরে অনেকগুলো পশম পাওয়া গেছে, আমি ভেবেছিলাম শেয়ালের কিন্তুু ফরেনসিক টিম জানালো এটা শেয়ালের পশম না, কিসের তা রিপোর্ট আসলে জানা যাবে এছাড়া লোকটার গলাই যে হাতের ছাপ টা পাওয়া গেছে সেটাও অনেক বড় এতটাই বড় যে মনে হচ্ছে এক মুঠোর মধ্যে লোকটার পূরো গলাটা চেপে ধরে ছিলো।
~ ইন্টারেস্টিং...! কেসটা গভীরতা অনেক, বুঝলেন দারোগা সাহেব। আচ্ছা এখানে যত কাজ আছে তা শেষ করে যতদ্রুত সম্ভব রিপোর্ট তৈরি করুন, রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলই কেসটা ট্রান্সফার হবে, এটা আমি সামলাবো।
~ আর ইউ সিওর স্যার..?
~ yes আই এম, যদি আমার সন্দেহ ঠিক হয় তাহলে এর শুরু কোথা থেকে হয়েছে তা আমি জানি। খালি ফরেনসিক রিপোর্ট টা দরকার, তাই যত দ্রুত সম্ভব সব তৈরি করুন।
~ জ্বী স্যার।
*******
"সময় বহমান স্রোত " যাকে কোনোদিন ধরা যাই আজও যাই দেখতে দেখতে ৪ চার দিন হয়ে গেছে, আজ রুমীরা নতুন বাসায় উঠেছে,পুরো জায়গা অগোছালো, তিনজনে নিমে ফ্ল্যাট-টাকে নিজেদের মতো সাজানোর চেষ্টা করছে,
~পূজা অনেক কাজ পরে আছে একটু গুছিয়ে তারপরে ফোন দেখতে বোস..
~ এভাবে হবে না প্রহা, ওকে একটা ঝাটার বারি মার তাহলে যদি কথা কানে যাই।
প্রহা ও পূজার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে কথাটা ছোরে রুমী। কিছুক্ষণ আগেও তিনজনে রুমগুলো গোছাতে ব্যস্ত ছিলে তখনি পূজার মায়ের ফোন আসে, বেস্ সেই যে ফোন নিয়ে বসেছে আর ওঠার নাম নেই। বিরক্ত হয়ে প্রহ ও রুমী দূজনেই ওকে ডাকতে আসে।
~ দেখ, এটা একবার দেখতো তোরা..
~ সিরিয়াসলি পূজা এখন কাজ রেখে তোর সাথে রিল দেখতে বসবো আমরা..?
পূজার মাথাই গাট্টা মেরে কথা বলে প্রহা, প্রহার কথা উপেক্ষা করে ২গুণ উত্তেজিত হবে পূজা বলে উঠে
~কোনো ফানি রিল না, এই নিউজটা দেখ.. ৪ দিন আগের ঘটনা..
পূজার কথা ফোনের স্ক্রিনে চলমান নিউজের দিকে মন দেই ওরা দু'জন, নিউজে ৪ দিন আগে কুরিগ্রামের এক ছোট হিন্দু পট্টির এলাকায় ৩জনে মরাদেহ উদ্দেশ্য এবং সাথে একটা কবর খুরে লাশ উত্তোলনের কথা বলছে।
প্রহা~ এআবার নতুন কি, খুন-খারাবি তো এই দেশে হতেই থাকে...
পূজা~ আরে খুনের কথা বলছি না জানিস খুনি নাকি কবর থেকে লাশ খুরে বের করে হাতের হাড় কেটে ফেলেছে ...!
রুমী~ এটা কোনো সাইকোর কাজ, কোনো সুস্থ মানুষ এমন কাজ করতে পারে না
প্রহা~ আমার তা মনে হয় না, আমি অনেক আগে দাদীর কাজ থেকে শুনেছিলাম যারা কালো জাদুর করে তারা নাকি এইসব জিনিস নেই।
পূজা~ ওফ চুপ কর প্রহা চুপ কর, আমার ভয় করছে, একেত এত বড় বাসা তার উপর কত বছর ধরে বন্ধ ছিলো, ঈশ্বর না করুক কোনো আত্মা যদি এখানে থাকে...?
রুমী~ সিরিয়াসলি গাইজ.. একটা নিউজ দেখে তোরা তো এই বাড়িটাকেই হন্টেড হাউজ বানিয়ে দিলি। বলি এসব বাদ দে বোন, এটা ২০২৫, ১৯শ কটকটি সাল না যে ভূত প্রেত্ন থাকবে, এখানকার মানুষই হলো বড় ডেভিল।
প্রহা~ চটছিস কেনো কাজ করছিতো, চলতো চল অনেক হয়েছে উঠ এবার
মুখে একটা নেকা হাসি নিয়ে কথাগুলো শেষ করে প্রহা পূজার নিয়ে কাজে লেগে পরে, কিন্তুু তারা যদি একবার পিছনে ফিরত তাহলে দেখতে পারতো কিছুক্ষণ আগেও যেই মেয়েটা ভূত প্রেত্নকে আগারায্য করছি সেও এখন ভয়আর্ত সন্ধিয়ান সৃষ্টিতে সেই তালা মারা বন্ধ ঘরের দিকে চেয়ে আছে। এখানে এসে পর্যন্ত বার বার দৃষ্টি ঐ দরজার দিকে চলে যাচ্ছে, শুধু দৃষ্টি নয় নিজের অজান্তেই কয়একবার যে দরজার সামনে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো রুমী তা সে নিজেও জানে না। মনে খালি একটাই প্রশ্ন
" কি আছে এর পিছনে, আচ্ছা কোনো ভুল করলাম নাতো এই বাসায় তারাহুরো করে উঠে..?"
তপ্ত শ্বাস ছাড়ে রুমী, যাই হক নিজে দূর্বল হতে দেওয়া যাবে না, নয়তো এরা যা ভূতী মেয়ে কিছু হওয়ার আগেই ভয়ে মারা যাবে। দিনের আলোতে যেমন সকল কিছু পরিষ্কারভাবে দেখা যাই, তেমন রাতের অধারে যে অজশ্র সত্যি লুকিয়ে থাকে তা কখনই দেখা যাই। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরের রাতের আধারেও যে কত অশরীরী বিরাজ করে তাও কেউ জানে না, যেগুলো কেবল মাত্র নিজ নিজ শীকারের খোঁজে ছুটে বেরাচ্ছে রাতের আধারে। রাত যত গভীর হয় এদের অস্তিত্ব ততই বৃদ্ধি পাই।
~ কিসের আওয়াজ এটা..?
বিছানা থেকে উঠে বসে নিজেরে কান খারা করলো প্রহা, ঘরগুছিয়ে ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিতেই কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে তা নিজেও জানে না। হঠাৎ-ই কারো ক্ষীণ কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যাই প্রহার। চোখ মেলে দেওয়াল ঘড়িটার দিকে তাকাতেই সে জানাদিলো এখন রাত ২ টা,
~এতরাতে কে কাদছে, ভুল শুনছি। কেউ কাঁদছে না।
কথাটা নিজেকেই বলছিলো সাথে এটাও বোঝানোর চেষ্টা করছিলো প্রহা যে এটা শুধুমাত্র তার মস্তিষ্কের ভুল ধারণা। কিন্তুু তার চিন্তাকে প্রতিবার ভুল প্রমাণ করছে সেই আওয়াজ। এই আওয়াজ যেনো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে দৃঢ় হয়ে উঠছে। কান চেপে ধরো শুয়েছিলো প্রহা কিন্তুু তাতেও আওয়াজ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাই নি, একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে পরে আওয়াজে উৎস খুঁজতে। ঘরথেকে বের হতেই আওয়াজটা আরো বৃদ্ধি পাই। যার ফলে প্রহার বুঝতে সুবিধা হয় যে কান্নার আওয়াজটা কোথা থেকে আসছে,
~ "পূজার ঘর হ্যাঁ পূজার ঘর থেকেই আওয়াজ টা আসছে "
কথাটা উপলব্ধি করতে সমস্ত শরীর হীম হয়ে যাই প্রহার,
~এতো পূজার আওয়াজ না, তাহলে কে কান্না করছে তাও এত জোড়ে জোড়ে।
এই বিষয় টার উপলব্ধি যেনো কাল হলো প্রহার। যার জন্য ওহ আর একা এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাই না, তাই তো সে রুমীকে ডাকে..
~ রু..মী..এই.. রুমী দড়জা খোল..
~ কি হয়েছে প্রহা, এভাবে কাঁপছিস কেনো.?
~ পূজার ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে..
~ কিহ.. ওহ কাঁদছে তাও এত রাতে.. কি হয়েছে ওর..?
কথাটা বলেই পূজার ঘরের দিকে এগিয়ে যে নিলেই কাঁপা কাঁপা হাতে রুমীর হাত টেনে বাঁধা দেই প্রহা।
~ যাস না.. একটু ভালো করে শোন এটা পূজার কণ্ঠ নাহ..!
সত্যি তো,একটু খেয়াল করলে বোঝা যাচ্ছে কন্ঠ টা কেমন ভারি, মনে হচ্ছে কেউ ব্যাথ্যাই গোংড়াচ্ছে। বিষয় টা আওরাতে পেয়েই প্রহার দিকে তাকাই রুমী। দুজনের মুখই শুঁকিয়ে গেছে কেউই বুঝে উঠতে পারছে না যে হচ্ছে টা কি। রুমী প্রহাকে সাহস দিয়ে থামিয়ে, পূজার রুমের দিকে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনি পূজা রুমের দরজা খুলে দৌড়ে ওদের দিকে এগিয়ে আসে, পূজাকে দেখে রুমী ভ্রু উচিয়ে প্রশ্ন করে
~ কিরে তুই কাঁদছিলি কেনো..?
~ তুই পাগল হয়েছিস রুমী, আমি কাঁদবো কেনো..? একটু আগেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে, তখন থেকে শুনছি কেউ কেঁদেই যাচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম মনের ভুল কিন্তুু না সত্যি..
~ তোর রুমে কে কাঁদছিলো তাহলে..?
~ সাধে তোকে গাধা বলি না প্রহা..ভালো করে শোন, আওয়াজ টা আমার রুম নয় ঐ তালা মারা রুম থেকে আসছে..
~ কিহ..
কথা টা বলেই ভয় দুই কদম পিছিয়ে যাই প্রহা, বন্ধ লাইব্রেরি টা পূজার রুমের পাশে তাই প্রথমে ওরা ভেবেছিলো আওয়াজ টা পূজার রুম থেকেই আসছে,কিন্তুু পূজা রুম থেকে বেরিয়ে আসার পরে এটা বুঝতে পারেছে, সত্যিই আওয়াজে উৎস ঐ বন্ধ দরজার পিছনে আছে, কথা উপলব্ধি করেই শরীরে কাটা দিয়ে উঠে রুমীর,
~কোনো ভুল করলো না তো এখানে এসে..?
আবারও একই প্রশ্ন ঘিরে ধরলো ওকে।
~ আমি আগেই বলেছিলাম কোনো তো ঘাপলা আছে এখানে, এখন দেখ। শেষ মেষ পেত্নীর সাথে রুম শেয়ার করছি।
~ চুপ কর প্রহা, আমাকে শুনতে দে..
কথা বলে বন্ধ লাইব্রেরির দিকে এগিয়ে যাই রুমী।
~ যাস না রুমী.. রুমী.... যাস না ( প্রহা ও পূজা দুজনেই একসাথে বলে উঠে )
রুমী ওদের কথাই পাত্তা না দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই লাইব্রেরির দিকে, কিন্তুু পূজার ঘরের সামনে আসতেই পা থেমে যাই ওর, তখন লাইব্রেরির দিকে না গিয়ে সোজা পূজার রুমে ঢুকে বারান্দায় চলে যাই, কিছু ক্ষণপরে জোড়ে জোড়ে পূজা ওর প্রহাকে ডাকতে থাকে রুমী। ওর ডাক শুনে দুজনে দৌরে ভিতরে আসে
~ কিরে কি হয়েছে..
~ ঐযে তোদের পেত্নী দেখ।
উপরের ফ্ল্যাটের বারান্দায় আঙ্গুল উচিয়ে ইশার করতে করতে কথা বলে রুমী, উপরের ফ্ল্যাটের বারান্দায় একটা মেয়ে ছোট ৬/৭ বছরের বাচ্চা মেয়েকে কোলে করে ঘুম পারানোর চেষ্টা করছে, বাচ্চাটার হাতে প্লাস্টার করা, যার কারণে বাচ্চাটা না ঘুমিয়ে ব্যাথ্যাই কান্না করছে। আর এদিকে রুমের বারান্দায় টা ঠিক লাইব্রেরির উপরের দিকে হওয়াতে মনে হচ্ছে আওয়াজ টা লাইব্রেরি থেকে আসছে।
~ সত্যি আসলেও তোরা গাদার দল সমান্য বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ও চিনিস না..?
~ বিশ্বাস কর রুমী, আমি পরিষ্কার শুনেছি, ওটা কোনো বাচ্চার আওয়াজ ছিলো নাহ..
~ একদম চুপ প্রহা, আর কোনো বাজে কথা শুনতে ইচ্ছুক না আমি, তোরা যা পারিস কর আমি গেলাম ঘুমতে।
তেজ নিয়ে কথা বলেই ওখান থেকে চলে আসে রুমী, প্রহা আর পূজা বিষয়টা বুঝলেও কেনো জানি না ভয় কাটাতে পারছে না, তাই আজ দুজনে প্রহার রুমে ঘুমাবে বলে ঠিক করে। অন্য দিকে নিজের রুমে ঢুকে আগে ওয়াশরুমে যাই রুমী,কয়কবার চোখমুখে পানির ছিটা দেই, নিজের ভেজা মুখটাকে আয়নাতে দেখতে দেখতে কিছু কখন আগের কথা মনে করে ওহ।
প্রহার আসার আগেই রুমীর ঘুম ভেঙ্গে গেছিলো, যখন রুমী ঘুমিয়ে ছিলো তখনই হঠাৎ ওহ নিজের মুখের উপরে কোনো কাপড় জাতীয় কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। ধীরে ধীরে রুমী সমস্ত মুখ কাপড়টাতে ঢেকে যাচ্ছিলো, রুমী ভেবেছিলো এটা শুধুমাত্র স্বপ্ন, কিন্তুু ঘুমের মধ্যেই যখনি ওহ নিজের হাতটা মুখের উপরে রাখে..তখনি সেই কাপড়টা ওর হাতে বাধে যাই। তখনি ওর মস্তিক জাগরোত হয় আর কাপড়া ধরে একটা টান দেই রুমী, নিজে মুখটা কাপড় থেকে বের করেই চোখ খুললে দেখতে পাই.. কাফনের সাদা কাপড়ে মুখ মোড়ানো সেই লোক, যে কিনা রুমী উপরে শূণ্যে ভাসছে। আর তার উড়তে থাকা কাপড়ের বাকি অংশটা রুমীর মুখের উপরে পরে ওর সমস্ত মুখটাকে গ্রশ করেছে। কিছুক্ষণের জন্য রুমী নিজের সকল ইন্দ্রীওর ক্ষমতা হায়িরে ফেলেছি। নরা-চরা কিছুই করতে পারছিলো না, ভাগ্য ভালো ছিলো যে সেই সময় প্রহা দরজাই টোকা দেই, আর মুহূর্তে সকল কিছু উধাও হয়ে যাই যেনো এ-এক বাসতা ছিলো মাত্র। আয়নাই নিজের প্রতি বিম্বের দিকে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ছাড়ে রুমী।
~ এটা কি শুধুই তার ঘুমন্ত মস্তিকের ভ্রম ছিলো, নাকি কোনো অবাস্তব সত্যি যা গত দু বছর যাবত ওকে তারা করে বেড়াচ্ছে
বিছানায় নিজে ক্লান্ত শরীর টাকে এলিয়ে দিয়েছে অনেক ক্ষণ, কিন্তুু ঘুম আসছে না। বেশকিছু ক্ষণ ধরে এপাশ ওপাশ করার পরে বিছানা থেকে উঠে বারান্দায় আসে রুমী, খোলা বারান্দা থেকে আকাশটা বেস ভালো ভাবে দেখা যাই। কিন্তুু আজ আকাশে একটাও তারা নেই, যেনো বিষন্নতার কালো মেঘ গিলে খেয়েছে সব তারাদের। বয়ে যাচ্ছে মৃদু ঠান্ডা বাতাস, নাহ বারান্দায় ওহ শান্তি নেই, একটু তারা দেখবে তাও দেখতে পারছে না এই মেঘের জালাই। কিন্তুু হঠাৎ ই রুমির কেমন ঘুম ঘুম পেতে শুরু করে, তাই আবারও রুমে এসে শুয়ে পরে রুমি। এবার সত্যি চোখ বোঝার সাথে সাথে রাজ্যের ঘুম ভর করে রুমীর চোখে, সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই, যেনো কেউ একজন তার চোখে রাজ্যোর সব ঘুম ঢেলে দিয়েছে। রুমী নিজের ঘুমে ভরা ভাড়ি চোখ দুটো খুব কষ্ট একবার খুলেছিলো আর তখনি তার চোখে বারান্দায় দাড়ি থাকা একটা আফছা ছায়া ভেসে উঠেছিলো, হয়তো আজ এই গভীর ঘুমে না তলিয়ে গেলে এই ছায়া নামক আগন্তুকে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পেতো রুমী।
~ তুমি এখানে কি করছো....?
কালো লং ড্রেস পরিহিত এক রমনী, রুমীর আধারে ভারা রুমের বারান্দার রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকে ব্যক্তিকে প্রশ্নটি করে সে। রোগা পাতলা সাদা ফর্শা বর্ণের রমনীর পরনে ছিলো কলো সিল্কের গাউন, ঠোঁট লাল লিপ-স্টিক, পায়ে লাল হাই হিল আর চোখে মুখে তৃশণার ছাপ। অন্যদিকে পাশে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি যেনো আধারের মাঝে মিশে আছে যার অস্তিত্ব কেবল আধারেই ফুটে উঠে। যার রাশ ভারি গমগমে কন্ঠ পুরো রুমকে মাতিয়ে তুললো
~ কাজ ছিলো।
~ আর সেই কাজ টা কি আমার কাজে বাধা দেওয়া ছিলো..?
পাশা থাকা রমনীর দিকে ব্যাক্তিটার কোনো ধেয়ানই, সে তো কেবল মাত্র রুমের ভিতরে থাকা ঘুমন্ত রুমীর মুখশ্রী দেখতে ব্যস্ত। তবুও তাকে করা প্রশ্নের প্রতি উত্তরে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসির রেশ টেনে বলে..
~~Don't hurt the girl Mary..
~ Ohh,,really..? আমি যদি hurt করিও তাহলে কে আটকাবে আমাই..?
ভ্রুক্ষেপের হাসি দিয়ে কথা টা বললো মেরী, সামনে থাকা ব্যক্তির দৃশ্য তৃক্ষণ থেকে তৃক্ষণ হলো চোয়ালের শক্ততা ফুটে উঠলো মুখশ্রীতে, সে গমগমে আওয়াজে আবারও বলে উঠলো
~তাসিন খান রেদোয়ান, এই মেয়ে যে সামন্য তম Hurt করবে তাকে আমি নিজ দায়িত্বে কবরে পৌছে দিয়ে আসবো, আর আমি চাই না সেই মানুষ তুমি হও মেরী..
লোকটার কথা টা যেনো পরিবেশ কে আর শন্ত করে তুললো, মেরী আর কিছু বললো না, কারণ সে জানে তাসিন খান রেদোয়ানে কথার বাইরে যাওয়া মনে নির্ঘাত মৃত্যু কে আলিংগন করা। চোখে মুখে হাজারো বিরক্ত ওর রাগ নিয়ে নিজের অস্তিত্বকে হাওয়াতে মিশিয়ে দেই সে। যে সে এখানে ছিলোই না। আঁধারের মাঝে দড়িয়ে থাকলো শুধু সেই ব্যক্তি যা বিগত দুই বছর যাবত ভয়ংকর স্বপ্ন রুপে রুমীর পিছু করছে। ঘুমন্ত রুমীর মুখে তাকিয়ে নিজ জায়গা ত্যাগ করার আগে কিছুবাক্য বলে সে..
~ আজকের রাত থেকে শুরু হলো তোমার নতুন জীবন, এখন থেকে তোমার আত্নী আমার হাতে বন্দী। ঠিক আজকের মতোই তোমার এই নতুন জীবনে আমি না চাইলে ঘুমটাও নছিবে হবে না তোমার। থাকো আমার অতি মূল্যবান সম্পদ খুব শীগ্রই দেখা হবে আমাদের ।
চলবে.......
74
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating