পঞ্চগড় মানেই দেশের একেবারে ঠান্ডা মাথার জায়গা। উপরের কোণায় ঠাসা একটা জেলা, যেন বাংলার মাথার মুকুট। এই জেলায় সকাল বেলা চা না খেয়ে বাইরে গেলে ঠান্ডায় নাক লাল হয়ে যায়, আর সন্ধ্যা নামলে মনে হয় আগেই কম্বলের নিচে ঢুকে পড়ি।
এই জেলার একটা আলাদা ঘ্রাণ আছে।
মাটি যেন একটু মোটা। ধুলো কম, কাদা বেশি না, আর বাতাস সবসময় ঠান্ডা একটা নাক-কাটা ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ। মাঝে মাঝে কিছু লালচে দাগ—সেগুলো পাকা চায়ের পাতার বাগান।
---
লোকজন কেমন?
এই জেলার মানুষগুলো একেবারে মাটির মানুষ।
কাজ জানে, হাসতে জানে, কষ্টের মধ্যেও একরাশ শান্তি নিয়ে বাঁচে।
কথায় আঞ্চলিক টান — "কিতা করো নি ভাই?", "এইয়া তো গইল!",
একবার শুনলেই বোঝা যায়, পঞ্চগড়ের বাচনভঙ্গি অন্যরকম।
এদের হাসির মধ্যে এক ধরনের স্থিরতা আছে — তুমুল আনন্দ নয়, বরং এক চিলতে শান্ত সুখ।
---
পঞ্চগড়ের স্পেশাল জিনিসগুলো কী কী?
চা বাগান: হ্যাঁ ভাইয়া, সিলেট ছাড়াও পঞ্চগড়ে চা চাষ হয় — এবং ভালো মানের হয়।
সবচেয়ে বিখ্যাত তেতুলিয়ার চা বাগান। দূরে পাহাড়, পাশে সবুজ চা গাছ — এমন দৃশ্য তো সিনেমায়ও কম দেখা যায়।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর:
ভারতের সীমানা একদম গায়ে গায়ে লাগানো — এখানে গেলে ইচ্ছা করে,
“আরেক কদম এগোই, দার্জিলিং যাই।”
এই পোর্ট দিয়েই অনেক ট্রাক মালামাল আনা-নেওয়া করে। এখানে দাঁড়ালে বোঝা যায়,
সীমান্ত শুধু কাঁটাতারের নয় — সীমান্ত অনুভবেরও।
তেতুলিয়া:
বাংলাদেশে হিমালয় দেখার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা।
পরিষ্কার দিনে দাঁড়ালে দূরে হিমালয়ের কুয়াশামাখা রেখা দেখা যায় — মনে হয় সাদা তুলা ভেসে আছে আকাশে।
মহারাজার দিঘি, ভজনপুর:
একটা বিশাল দিঘি। পাশেই প্রাচীন ঐতিহ্যের স্থাপনা।
এখনকার দিনে প্রেমিক-প্রেমিকাদেরও প্রিয় স্পট 😄
মির্জাপুর বুদ্ধ বিহার:
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটা পবিত্র স্থান। স্থাপত্য এত সুন্দর, মনে হয় কোথাও থাইল্যান্ড বা নেপালের বৌদ্ধ মন্দিরে দাঁড়িয়ে আছি।
চন্দ্রবার্দন পাহাড়:
যদিও ছোট, তবু এইটুকু উঁচু জায়গা থেকে পুরো পঞ্চগড় দেখা যায়।
বাতাসে একটা শীতল খোঁচা থাকে — চামড়ায় লাগে, তবু মন ভালো হয়ে যায়।
---
আর খাবার?
ভাই, যারা পঞ্চগড়ে যায়, তারা তালমিছরি চা না খেয়ে ফেরে না।
এখানকার দুধচা মানেই — মোটা দুধ, মোটা চিনি, মোটা কাপ, মোটা স্বাদ!
আর সন্ধ্যায় রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি — সঙ্গে চা, হালকা বাতাসে দাঁড়িয়ে খেলে জীবনে আর কিচ্ছু চাই না।
---
সীমান্তের গল্প
পঞ্চগড় সীমান্ত মানে একটা অনুভবের জায়গা।
এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়,
“দেশ মানে শুধু মানচিত্র না — দেশ মানে মাটির ঘ্রাণ, ঠান্ডা হাওয়া, আর চোখে দেখা পাহাড়।”
ভারতের সঙ্গে ৫টি উপজেলার ৪টিতেই সীমান্ত লেগে আছে — তাই পঞ্চগড় একেবারে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা জেলা।
সীমানা পেরুলেই ভারত, কিন্তু এখানে থেকেও অনুভব করা যায় দুই দেশের মিশ্র ছোঁয়া।
---
শেষ কথায় — পঞ্চগড় কেমন?
পঞ্চগড় একরকম নীরব প্রেম।
এটা সেই জেলা যেখানে ঠান্ডা বাতাসে মানুষ গরম চা খেয়ে দিন শুরু করে,
আর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে রাত কাটায়।
এটা সেই জায়গা যেখানে গল্প নেই, তবু ইতিহাস আছে।
চিৎকার নেই, তবু গর্জন আছে।
এটা পঞ্চগড় — বাংলার মাথা।
যে মাথা নিচু করে না, শুধু ঠান্ডা হাওয়ার মতো বুকের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়।
পঞ্চগড়ের গল্প কথা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
75
Views
8
Likes
1
Comments
0.0
Rating