অশরীরী ছায়া (End 🔚)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
📘 গল্প: অশরীরী ছায়া
🕯️ পর্ব ১০ (শেষ): রক্তে লেখা মুক্তি
---
রাহুল সেই ফাটল দিয়ে লুকানো ঘরে ঢুকল।
ভেতরে থমথমে অন্ধকার।
তিনদিকে তিনটা কঙ্কাল—শান্তা, সাবিহা আর মৌরি।
মাথার ওপরে একটা পুরনো ক্যালেন্ডার—“১৯৮৭” সাল ঘিরে রক্তের দাগ।
হঠাৎ দেয়ালের এক পাশে চোখে পড়ল রক্তে লেখা একটা বাক্য—
> “তাদের প্রেম নয়, তাদের গোপন জেনে ফেলেছিল। তাই মেরে ফেলা হয়।”
রাহুল হতবাক!
তাহলে… শান্তারা প্রেমিকা ছিল না?
দেয়ালের পাশে থাকা ডায়েরির পাতায় লেখা:
> “তিনজন মেয়ে আমার বাড়ির গোপন আয়নার ঘর দেখে ফেলেছিল।
তারা জানত, আমি সেখানে মানুষ ধরে এনে গুপ্তচর্চা করি।
তাদের চুপ করাতে হয়… মেরে ফেলি।
আমি—জামালউদ্দিন, এই বাড়ির মালিক, আমার পরিবার কিছুই জানে না।”
— দস্তখত: জামালউদ্দিন চৌধুরী (রাহুলের দাদা)
রাহুল পড়ে গেল চেয়ারে।
তার রক্তে, তার পরিবারের অতীতে এমন এক ভয়ঙ্কর অপরাধ লুকিয়ে ছিল!
তখনই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যায় তিনটি আত্মা।
শান্তা ধীরে ধীরে বলে—
> “আমরা তোর পাপের উত্তরাধিকার চাই না, রাহুল।
আমরা চাই সত্য প্রকাশ পাক।
তুই যদি আমাদের হত্যার কথা সবাইকে জানাস,
তাহলে আমরা এই আয়না ভেঙে চলে যাব চিরতরে…”
রাহুল চোখ বন্ধ করে ফেলে। এরপর ডায়েরিটা নিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে।
পরের দিন…
🔊 সে পুলিশের কাছে গিয়ে রিপোর্ট করে,
স্থানীয় পত্রিকায় “চৌধুরী বাড়ির অন্ধকার ইতিহাস” শিরোনামে খবর বের হয়।
বাড়িতে তোলপাড়, গ্রামে হইচই, সবাই জানতে পারে তিনটা মেয়ে অন্যায়ের শিকার হয়েছিল।
---
রাতে, রাহুল আয়নার সামনে দাঁড়ায়…
তিনটি ছায়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে থাকে।
শেষবার শান্তা বলে—
> “তুই আমাদের মুক্তি দিলি…
এখন থেকে তোর ছায়া… শুধু তোরই থাকবে।”
আয়নার কাঁচ ফেটে যায়।
সেই ঘর আজ খালি।
শুধু এক কোণায় পড়ে থাকে একটা ছেঁড়া ওড়না…
আর শান্তার কণ্ঠ যেন শেষবার ফিসফিস করে বলে—
> “ধন্যবাদ… মানুষ হতে পারলি।”
---
🕯️ [সমাপ্ত]
34
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating