ঢাকার পল্টন এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে আদি ঢাকেশ্বরী মন্দির। শত বছরের পুরনো পাথরগুলো আজও যেন গর্বের সঙ্গে ইতিহাসের গাথা বলে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভোরে ভোরে এখানে ভক্তরা আসেন দোয়া করতে, আর বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় মন্দিরে হয় অগণিত মানুষের ভিড়।
সুমন ঢাকার এক তরুণ লেখক, যার জীবনে ঢাকা মানেই ব্যস্ততা আর ক্লান্তি। প্রতিদিন অফিস আর ব্যস্ত শহরের জীবনের মধ্যে সে খুঁজছিল কিছুটা শান্তি, কিছুটা আলোর খোঁজ। সেই খোঁজের শেষ পায় সে এই মন্দিরের প্রাঙ্গণে এসে। ছোটবেলা থেকেই ঠাকুরমার সঙ্গে আসতো মন্দিরে, তাই এই জায়গার সঙ্গে তার আত্মার একটা গভীর সম্পর্ক।
একদিন ভোরবেলায় যখন সূর্য কুয়াশার আড়ালে লুকোচুরি খেলছে, সুমন মন্দিরের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার হাতের মধ্যে ছিল ছোট্ট একটি ডায়েরি, যেখানে সে নিজের জীবনের গল্প লিখত। সে অনুভব করল আজকের দিনটা অন্যরকম হবে।
হঠাৎ মন্দিরের সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো রাজনী — এক সমাজসেবিকা, যার চোখে ছিল মানুষের জন্য অপরিমেয় ভালোবাসা। সে নিয়মিত মন্দিরে এসে দরিদ্রদের জন্য খাবার ও সাহায্য পৌঁছে দেয়। রাজনীর উপস্থিতিতে মন্দিরের বাতাস যেন ভরে উঠল শান্তি আর মমতার গন্ধে।
সুমন তাদের প্রথম দেখা হয় মন্দিরের পঞ্চামৃত বিতরণ অনুষ্ঠানে। রাজনী হাসতে হাসতে বলল, “এই মন্দির আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। এখানে শুধু দেবীর আরাধনা হয় না, এখানে মানুষের হৃদয়ও শুদ্ধ হয়।”
সুমনের মন ভরে উঠল। সে জানল, এই মন্দির শুধু একটা পাথরের গঠিত স্থান নয়, এটা বিশ্বাস, ভালবাসা আর একতার প্রতীক।
তাদের আলাপ হতে হতে মন্দিরের পেছনের ছোট্ট বাগানে একসাথে বসে গল্প করল। রাজনী বলল, “ঢাকা যেমন বড়, তেমনি এখানে অনেক মানুষ আছে যাদের জীবনে আলো লাগে। আমরা মন্দিরের মাধ্যমে সেই আলোর কিছুটা ভাগ দিতে চাই।”
সুমন বলল, “তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমরা সবাই যদি একটু ভালবাসা আর বিশ্বাস দিয়ে থাকি, তাহলে জীবনে অন্ধকার থাকবে না।”
দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো। মন্দিরে প্রদীপ জ্বলে উঠল, আর ভক্তদের কণ্ঠে ভেসে উঠল ভজন। সুমন আর রাজনী তখন মন্দিরের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলল, “এই মন্দিরের ছায়ায় আমাদের ভালোবাসাও গড়ে উঠবে।”
বছর শেষে, সুমন একটি বই প্রকাশ করল—“আদি ঢাকেশ্বরীর ছায়ায়”—যা মন্দির আর মানুষের জীবনের গল্প বলেছে। আর রাজনী চালিয়ে দিলো তার সমাজসেবা, মন্দিরকে কেন্দ্র করে আরো অনেক মানুষের জীবন আলোকিত করার কাজ।
ঢাকার আদি ঢাকেশ্বরী মন্দির আজও যেন তাদের ভালোবাসার সাক্ষী। যেখানে বিশ্বাস আর ভালবাসা মিশে একাকার হয়—একটা ছায়া হয়ে।
আদি ঢাকেশ্বরীর ছায়ায়
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
52
Views
5
Likes
1
Comments
5.0
Rating