জীবনের সোপন

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
জীবনের সোপন:
আল্লাহ তাআলা বলেন
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً ۖ
"মু'মিন নর-নারীর মাঝে কেউ যদি সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই তাকে আমি পবিত্র জীবন দান করব।" [সূরা: নাহল, আয়াত সংখ্যা: ৯৭]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পণ্য করেছেন যে, কোনো মুসলিম নর-নারী যদি সৎকর্ম কিংবা নেক আমল করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে এর বিনিময়ে পবিত্র জীবন দান করবেন। এটা শুধু পুরুষের জন্য কিংবা শুধু নারীর জন্য প্রযোজ্য বিষয়টি এমন নয়। এটা নর-নারী সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এখানে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। কারোর প্রতি বিন্দুমাত্র বৈষম্য করা হবে না। আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রাপ্তির রাস্তা হলো দৃঢ় বিশ্বাস আর পরিচ্ছন্ন নেক আমল পরকালে আল্লাহ তাআলা বান্দার কৃতকর্মের হিসাব নিবেন। সেদিন মহান আল্লাহ তাআলা নেক আমল এবং ঈমানের উপর ভিত্তি করে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। সেদিন সকল মানুষ ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে সফলতা লাভ করবে। আর নেক আমলগুলো তাদেরকে ঢালস্বরূপ রক্ষা করবে।
আর আমাদেরকেও সেই পবিত্র জীবন লাভ করতে হবে মহান আল্লাহর আনুগত্যে সম্মতি লাভ করতে হবে। কেবলমাত্র আল্লাহর তাওবা বিধান অনুযায়ী আমাদের জীবন পরিচালনা করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পথে আমাদেরকে চলতে হবে। তবেই আমরা আল্লাহর আনুগত্যের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব।
দুনিয়া কোনই না বিনিময়। এর বৈচিত্র্যতা, সৌন্দর্য্য আমাদের চোখকে ফালিয়ে দিয়েছে। আমাদের অন্তরকে আল্লাহর ভয় থেকে গাফেল করে দিয়েছে। আমাদের চিন্তা-চেতনা আমাদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
আমাদের চাল-চলন, আচার-আচরণে নববী আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা কেবলমাত্র নামে মুসলিম। যার দরুন আমাদের অন্তরের মধ্যে দ্বীন নেই। নামমাত্র মুসলিমের অভাব নেই, তবে প্রকৃত মুসলিমের অভাব খুব বেশি। বাস্তববিকভাবে আমাদেরকে অন্তরের আবশ্যকীয় ন্যায় ধন অন্ধকার স্থান করে নিয়েছে।
যে অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা নেই, যে অন্তর আল্লাহর নাম জপে না, যে অন্তর রজনীর শেষভাগে জানামাযে দাঁড়াতে উৎসাহিত করে না, যে অন্তর ললাটকে জমিনে স্পর্শ করতে চায় না, যে অন্তর গুনাহগার ব্যক্তিকে আল্লাহর শাস্তির ভয়ে অনুতপ্ত হয়ে অশ্রু বিসর্জন দিতে দেয় না, সেটা তো অন্তর নয়। সেটা তো পাথর। বরং পাথরের চেয়ে অধিকতর কঠিন।
দুনিয়া! আজ তোমরা যারা স্ত্রী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছো, তোমরা তোমাদের স্বামীকে ভালোবাসার স্বাদ আস্বাদন করেছো। আজ যারা পিতা-মাতা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছো, তারা সন্তানের ভালোবাসার স্বাদ আস্বাদন করেছো। নিছক এই দুনিয়াতে আমরা সকলেই অর্থ-কড়ি, সোনা-রুপার স্বাদ আস্বাদন করেছি। কিন্তু আমরা দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ে একটি জিনিসের স্বাদ আস্বাদন করিনি, আর তাহলো আল্লাহ তায়ালার মুহব্বত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে মুহব্বত করতে পারলে; কি যে আনন্দ লাগে তা বলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আজ আমাদের হৃ‌দয় আল্লাহর ভালোবাসায় অশ্রু বিসর্জন দেওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে চায় না। যার দরুন আমাদের হৃদয়ের অনুভূতিগুলো মরে গেছে। আমাদের হৃদয় আজ জলাশূন্য মরুভূমি। আমাদের মুখাবয়বের সুখের আবহাওয়া দেখা যায়।নিশ্চয়ই ইসলাম হলো আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত জীবন বিধান। কেবলমাত্র ইসলাম আল্লাহর মনোনীত জীবন বিধান। ইসলাম ব্যতীত আল্লাহর কাছে কোনো ধর্মই গ্রহণযোগ্য নয়। যে ব্যক্তি ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবে, সে আল্লাহর কাছে মারদুদ হয়ে যাবে।আমাদের ঘর-বাড়ি কতো সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। অথচ আমাদের অন্তর অবাধ্যতায় রজনীর ন্যায় ঘন-কালো অন্ধকারে ডুবে আছে।
আজ আমি আমার মুসলিম ভাই-বোনদেরকে কেবল এতোটুকু বলতে চাই, আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত - আল্লাহ্ সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করা। আল্লাহ্ তাআলাকে ভালোবাসা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসাই হলো আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমাদের পথচলা শুরু করতে হবে।
প্রিয় বোনেরা!
মহান আল্লাহ্ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন - আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে। তাঁদেরকে দান করেছেন ভালো-মন্দ বুঝার শক্তি। যা অন্যকোনো সৃষ্টিকে দান করেননি। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা তাঁদের জন্য দু'টি পথ খুলে দিয়েছেন। জীবনপথে চলার জন্য মানুষ এই দু'টি পথ অবলম্বন করবে। তবে পৃথিবীর সকল মানুষ একই জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করবে না। জীবনপথে চলার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা। কিছু মানুষ তো এমন আছে, যারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহ্র রাহে নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করে দেয়।
আরেক ধরণের মানুষ আছে, যারা মন্দ কাজ করে। এর বিনিময়ে তারা আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানি ক্রয় করে, আল্লাহ্কে রাগন্বিত করে। তারা আল্লাহ্র অভিসম্পাতের হকদার।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ব্যবস্থাকে বাজারের লেনদেনের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, 'দ্বীনের বাজারও খুব গরম।' সকল মানুষ এই বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করছে। কেউ বিক্রয় করছে কিংবা কেউ ক্রয় করছে। কিছু লোক আছে - যারা নিজেদেরকে আল্লাহ্র জন্য বিক্রয় করছে, আবার কেউ ক্রয় করছে।
আবার কিছু লোক তো এমন আছে - যারা নিজেদের জন্য কেবল ধ্বংস ডেকে এনেছে। এই দুই পথের মধ্যে সর্বাধিক পছন্দনীয় পথ হলো, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পথ। আল্লাহ্ তাআলা মানুষের দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের মুক্তির জন্য এ পথ নির্বাচন করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা বলেন: ان الدنيا عند الله الاسلام
‘তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করো।’ এমনটি নয় যে, এক পা ভিতরে রাখবে আর আরেক পা বাহিরে। কিংবা কিছু বিধান মানবে, কিছু বিধান মানবে না। এতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোনোকিছু ঢুকানো যাবে না। কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিধান, কিছু নিজের তৈরি মতবাদ। এমন পন্থা অবলম্বন করা যাবে না।
41 Views
1 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: