আলোর পথে যাত্রা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বীরগঞ্জ গ্রামের এক পল্লীতে ছোট্ট বাড়ি, যেখানে বসত বাবা-মা আর তাদের একমাত্র ছেলে, ইমরান। ছোটবেলা থেকেই ইমরানের মনে ছিল এক অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা—বিশ্বকে বুঝতে চাওয়া, জীবনের সত্য খুঁজে পাওয়া।

তার বাবা, মাওলানা শহীদুর রহমান, ছিলেন গ্রামের একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। তিনি সবসময় সন্তানদের বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা শিখাতেন। কিন্তু ইমরানের মনে এক অন্যরকম প্রশ্ন জমে থাকত—“আমি কেন এই দুনিয়ায় এসেছি? জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?”

একদিন গ্রামের মসজিদের বাইরের পাকা বেঞ্চে বসে ইমরান ভাবছিল, “কেন জীবন এত কঠিন? আমার আশেপাশের মানুষ কষ্টে ভুগছে, আর আমি শুধু কেন এত প্রশ্নের মধ্যে আটকা পড়েছি?”

সেই সময় পাশে এসে বসলেন তার বাবা। চোখে আকাশের নীলা, মুখে শান্তির ছোঁয়া। “ইমরান,” বললেন তিনি, “জীবনের প্রশ্নগুলোকে তুমি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাও। তার নির্দেশেই সব রহস্যের উত্তরের সন্ধান।”

ইমরান প্রতিজ্ঞা করল—নিজেকে সম্পূর্ণ আল্লাহর করুণায় উৎসর্গ করবে।

দিনগুলি কেটে গেল। ইমরান শহরের একটি কলেজে ভর্তি হলো। শিক্ষায় আগ্রহ ছিল অসীম, কিন্তু তার হৃদয় সবসময় খুঁজে বেড়াতো এক শান্তির ঠিকানা। কলেজ জীবনের মাঝে এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হলো—রাশেদ, যে ছিল একজন দৃঢ় বিশ্বাসী মুসলিম।

রাশেদ ইমরানকে বলল, “ভালোবাসো আল্লাহকে, তবে তার পথ অনুসরণ করো সততা ও পরিশ্রম দিয়ে। জীবনের কঠিন মুহূর্তে তার নাম জপ করো, ধৈর্য হারিও না।”

ইমরান এ কথাগুলো মেনে চলতে শুরু করল। কিন্তু ভাগ্যের খেলা, তার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রোগ বেড়ে চলল, আর ইমরানের মাথায় চাপ বেড়ে গেল।

“বাবা কি ঠিক হয়ে যাবেন?” ইমরান কাঁদতে কাঁদতে বলল।

মাওলানা ধীরে ধীরে বললেন, “ইমরান, সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায়। আমরা চেষ্টা করব, কিন্তু শেষ কথা আল্লাহর।”

ইমরান বুঝল জীবনের কঠিন পরীক্ষায় আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সে নিজের যত্ন নিয়ে বাবা এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াল।

সন্ধ্যার আকাশের নীলা যখন মুছে যেতে শুরু করল, তখনই বাবা আর একটু হাসলেন, “তুমি বড় হয়ে গেছো, সত্যিকার অর্থে আলোর পথে হাঁটছো।”

এখন ইমরানের মনে শান্তি, যে শান্তি সে আগে কখনো পায়নি। সে বুঝল জীবনের কঠিন সময়গুলোই মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়।

তারপর ইমরান গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পড়ানোর ব্যবস্থা করল, তাদের মাঝে আল্লাহর প্রেম, ধৈর্য আর বিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দিল। গ্রামের সবাই তাকে ভালোবেসে ডাকে ‘আলোর দিশারি’।

একদিন ইমরান বলল, “আল্লাহর রহমত এবং আমাদের ধৈর্য—দুটোর মিলেই এই জীবন সুন্দর। তাই কখনো হারিও না, আলোর পথে চালিয়ে যাও।”

গল্পটি শেষ হলে সবাই মনে করলো, জীবনের যেকোনো অন্ধকার কিছুক্ষণের জন্যই, শেষমেষ আলোর দিশা খুঁজে পাওয়াই আমাদের প্রকৃত লক্ষ্য।
67 Views
8 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: