শহরের গগনচুম্বী ভবনের আলো নিভে গেছে। রাতের গভীরতা ঢেকে দিয়েছে চারপাশের সব শব্দকে। একাকী ছেলের কানে বেজে উঠল এক অদ্ভুত সুর—এক ধীর, মধুর কিন্তু গা ছমছমে ডাকে।
রয়ন, চব্বিশ বছরের তরুণ, রাতের এই সুর শুনে বিছানা থেকে উঠে গেলো। ঘরের জানলা থেকে বাইরে তাকালো, কিন্তু কিছুই দেখা গেলো না। “কী যেন আওয়াজ পেলাম?” সে বলল নিজের সাথে, “শুধু আমার কল্পনা হয়তো।”
কিন্তু ডাকে যেন কোনো জাদুকরী শক্তি, যা তাকে ডেকে নিয়ে যাবে অজানা এক জগতে।
আগামী কিছু রাত এই ডাক বারবার তার কানে বাজতে লাগল। প্রতিবার ডাকের সঙ্গে দেখা মিলল এক অদ্ভুত নীল আলোয়ের। রয়নের মনের মধ্যে সৃষ্টি হলো দ্বন্দ্ব—শহরের বাস্তবতা নাকি ওই নিশির জাদু?
এক রাতে সাহস বুকে চেপে সে বের হলো সেই আলো খুঁজতে। আলোর পিছু নেয় শহরের পুরানো বস্তির গলি গলি। গলির শেষে মিললো এক অদ্ভুত দরজা, যা আগে কখনো দেখেনি। দরজার ওপরে খোদাই করা ছিল ‘নিশির রাজ্য’— এক অবিশ্বাস্য নাম।
দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে রয়নের চোখ সামনে যা দেখল, তা যেন অন্য জগৎ। চারপাশে ছিল অসংখ্য নীল তara, যা তার মতো মানুষদের স্বপ্ন আর আবেগ ধরে রাখে। একটি মৃদু কণ্ঠ বলল, “স্বাগত রয়ন, তুমি নির্বাচিত। তোমার মনের গভীর আকাঙ্ক্ষাগুলো এখানে জীবন্ত হয়।”
রয়নের ভেতরে এক নতুন জগতের দরজা খুলে গেলো। সে জানতে পারল, নিশির ডাক আসলে একটি ব্রিজ, যা বাস্তব আর কাল্পনিকের মধ্যে সেতু তৈরি করে। যারা এই ডাকে সাড়া দেয়, তারা পায় নিজের ভেতরের ভয়, আশা আর সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।
কিন্তু রয়ন শীঘ্রই বুঝল, এই জগতে আটকে গেলে বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মানুষ। সে নিজের মনে এক ভয় পেল, “আমি কি এই জগতে হারিয়ে যাব?”
তার সামনে এল এক মায়াময়ী ছায়া, নাম তার “সাইরা”। সে জানালো, “তুমি চাইলে ফিরে যেতে পারো, কিন্তু ফিরে আসতে হলে তোমাকে নিজের ভয় ও দ্বন্দ্বের সঙ্গে লড়াই করতে হবে।”
রয়ন এক অদ্ভুত যুদ্ধ শুরু করল নিজের ভেতরের অন্ধকারের সঙ্গে। প্রতি রাতে সে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিজের স্মৃতি, ভুল, আর দুঃখের মাঝে। সে শিখল—ভয়কে ভয় না পেয়ে, তাকে আলিঙ্গন করতে হয়।
একদিন সকালে, রয়ন ফিরে আসল নিজের ঘরে। চোখে অশ্রু, কিন্তু মন শান্ত। সে জানল, এই নিশির ডাক তাকে নতুন করে জীবন দিয়েছে—নিজেকে বুঝতে শিখিয়েছে।
“ভয় থেকে পালালে হারি, ভয়কে মেনে নিলে জয়ী হতে পারি,” বলল সে নিজের সাথে।
নিশির ডাক
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
61
Views
7
Likes
0
Comments
5.0
Rating