পূর্বাঞ্চলের এক ছোট্ট গ্রামে, নাম ছিল বদরপুর। সেখানে বছর ঘুরতে বসেছে একের পর এক মৌসুম, আর সঙ্গে এসেছে জীবনের হাসি-বেদনার গল্প।
রুমাইসা নামের এক তরুণী ছিল এই পল্লীর মায়েরা। তার জীবন ছিল সাদামাটা, কিন্তু চোখে ঝলমল করত এক অদম্য আশা আর দোয়া।
রুমাইসার স্বামী ফয়জুল কৃষক ছিল। অনেকদিন ধরেই ফসল কমে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় সে চাপা চাপা বেদনায় ডুবে ছিল। সংসারের প্রতিদিনের ছোট ছোট চাহিদা মেটানোই ছিল কঠিন।
রুমাইসা সকাল থেকে কাজ করত, ঘরসংসার সামলাতো, বাচ্চাদের পড়াশোনা দেখাতো। পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াত করত, যেন তার অন্তরে শান্তি ফিরে আসে।
একদিন ফয়জুল মাঠ থেকে ফিরে এল ব্যথা নিয়ে। রোগী হওয়ার পরেও সে কাজ ছাড়তে চায়নি, কারণ তাদের সংসার বেশির ভাগই তার কাজের ওপর নির্ভরশীল।
রুমাইসা তাকে কাঁধ দিয়ে সহ্য করল। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে ছিল, তখন সে তার মাথায় হাত দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করত—
“হে আল্লাহ, আমাদের পরিবারকে ধৈর্য দাও, আমাদের দাও সফলতার পথে চলার শক্তি।”
গ্রামের অন্যান্য মুসলিম পরিবারগুলোর মত, বদরপুরের মানুষরাও একে অপরের পাশে থাকত। একদিন গ্রামের ইমাম সাহেব এসে রুমাইসার দরজায় বসলেন, আর বললেন,
“রুমাইসা বেগম, তোমাদের দুঃখ আমরাও বুঝি। আমরা মজলিস করে ফান্ড গঠন করছি, তোমাদের সাহায্য করার জন্য।”
রুমাইসার চোখে জল এসে গেলো। সেই রাতের দোয়া যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সান্ত্বনার বার্তা হয়ে এসেছিল।
দুদিন পর ফয়জুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা হলো। ধীরে ধীরে তার অবস্থা ভালো হতে লাগল।
পল্লীর বাতাসে যেন ফের ভালোবাসা, ভরসা আর দোয়ার সুর ছড়িয়ে পড়ল।
রুমাইসা জানত, জীবন যতই কঠিন হোক, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলাই শেষ কথা। আর পল্লী মানুষদের একতার শক্তি সব বাধা পার হতে সাহায্য করে।
পল্লীর বাতাসে দোয়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
57
Views
10
Likes
0
Comments
0.0
Rating