এক ঘন জঙ্গলের মধ্যে শিয়াল আর বানর ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যদিও শিয়াল ছিল খুব চালাক আর স্বার্থপর, বানর ছিল সহজ-সরল এবং সবসময় বন্ধুত্বের মান রাখার চেষ্টা করত।
গল্প শুরু ।
একদিন শিয়াল আর বানর একসঙ্গে ফল খুঁজতে বের হলো। জঙ্গলের ভেতর অনেক কষ্টে তারা একটা বড় আমগাছ পেল। গাছটা ফলভর্তি। কিন্তু সমস্যা হলো, গাছটা খুব উঁচু, আর ফল পাড়ার জন্য গাছে ওঠার দরকার।
বানর বলল,
“আমি গাছে উঠতে পারি। তুই নিচে দাঁড়া, আমি ফল নামিয়ে দিচ্ছি।”
শিয়াল রাজি হয়ে বলল,
“ঠিক আছে বন্ধু। তুই উপরে উঠ। আমি তোর জন্য নিচে অপেক্ষা করছি।”
শিয়ালের চালাকি।
বানর গাছে উঠে বড় বড় আম পাড়তে লাগল। শিয়াল নিচে দাঁড়িয়ে আমগুলো জড়ো করছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শিয়ালের মনে একটা মিচকে বুদ্ধি খেলে গেল। সে ভাবল,
“বানর কষ্ট করে আম পাড়ছে, আর আমি তার ফল খাচ্ছি। কেন না বানরকে ধোঁকা দিয়ে সব ফল নিজের করে নিই?”
বানর গাছ থেকে চেঁচিয়ে বলল,
“শিয়াল ভাই, আমি তো অনেক আম পেড়ে দিয়েছি। এবার তোরা ভাগাভাগি করে খাবি।”
শিয়াল মিষ্টি হেসে বলল,
“অবশ্যই, বন্ধু। তুই নেমে আয়, তারপর একসঙ্গে খাব।”
বানরের বিপদ।
বানর নিচে নামতে গেলে শিয়াল হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
“সাবধান! সাবধান! নিচে একটা বিষধর সাপ এসেছে। তুই নামিস না। আমি তোকে ফল ওপরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
বানর ভয়ে গাছের ডালে বসে থাকল। আর শিয়াল নিচে বসে মজা করে সব আম খেয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ পর বানর বুঝতে পারল শিয়াল তাকে ধোঁকা দিয়েছে। কিন্তু সে চুপ থাকল।
বানরের প্রতিশোধ।
পরদিন বানর আর শিয়াল আবার ফল খুঁজতে বের হলো। এবার তারা এক তালগাছ পেল। বানর গাছে উঠে শিয়ালকে বলল,
“বন্ধু, এই তালের ফলগুলো পাড়তে সময় লাগবে। তুই একটু অপেক্ষা কর।”
শিয়াল নিচে বসে থাকল। বানর চালাকি করে তালের ফলগুলো খুব শক্ত করে নিচে ছুড়তে লাগল। ফলগুলো শিয়ালের গায়ে এসে পড়ে। ব্যথায় শিয়াল চেঁচিয়ে উঠল,
“ওই! এভাবে ফল মারিস কেন?”
বানর হেসে বলল,
“তোর জন্য মজাদার তালের ফল পাঠাচ্ছি। খা বন্ধু, খা!”
শিয়াল বুঝল, বানর তাকে শাস্তি দিচ্ছে। সে ব্যথা নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।
গল্পের শিক্ষা :
ধোঁকা দিয়ে কেউ বেশিদিন টিকতে পারে না। সৎ পথে থাকলেই প্রকৃত বন্ধুত্ব টিকে।
শেষ।
মিচকে শিয়াল ও বানর।
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
57
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating