"শেষ বিকেলের আলো"
একটি ছোট শহরে বসবাসকারী রায় পরিবার। পরিবারের কর্তা সুবীর রায়, তার স্ত্রী মধু এবং তাদের দুই সন্তান তানিয়া ও আরিফ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনের জমে থাকা কিছু মানসিক দূরত্ব ধীরে ধীরে সমস্যার জন্ম দেয়।
প্রথম অংশ: শান্ত জীবনের আড়ালে দ্বন্দ্ব।
মধু তার স্বামী সুবীরের কাজপাগল স্বভাব নিয়ে সবসময় অভিযোগ করত। সুবীর সারাদিন অফিস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মধু নিজেকে একা অনুভব করত। অন্যদিকে, তানিয়া, বড় মেয়ে, শহরের একটি নামকরা কলেজে পড়ে, আরিফ স্কুলে। কিন্তু তানিয়া তার মা-বাবার মধ্যে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব দেখে মানসিকভাবে দূরে সরে যাচ্ছে। আরিফ তার বাবার ভালোবাসার জন্য কষ্ট পাচ্ছে, কারণ সুবীর কখনো তার সময় দিতে পারে না।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পর্কের টানাপোড়েন।
একদিন বিকেলে তানিয়া আবিষ্কার করে যে তার মা মধু তার এক পুরনো বন্ধু সঞ্জয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। তানিয়া এটাকে অন্যভাবে বুঝে নেয় এবং বাবাকে জানায়। সুবীর রেগে গিয়ে মধুকে তিরস্কার করে, কিন্তু মধু কোনো কৈফিয়ত দেয় না। পুরো পরিবারে একটি অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে।
তৃতীয় অংশ: সত্যের মুখোমুখি
পরবর্তী কয়েকদিন ধরে তানিয়া তার বাবার ব্যস্ততা এবং মায়ের একাকিত্বের গভীরতা বুঝতে শুরু করে। একদিন মধু তানিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানায়, সঞ্জয় শুধুমাত্র তার পুরনো বন্ধু, যার সঙ্গে সে নিজের মনের কথা বলার জন্য যোগাযোগ করেছে। মধু বোঝায়, পরিবারের মধ্যেই সবাই যদি একে অপরকে সময় না দেয়, তবে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে।
শেষ অংশ: মিলনের আলো
তানিয়া এই কথাগুলো তার বাবাকে জানায়। সুবীর প্রথমবারের মতো বুঝতে পারে যে, তার কাজের চাপে পরিবারের দিকে ঠিকমতো নজর দিতে পারেনি। এক সন্ধ্যায় পুরো পরিবার একত্রে বসে কথা বলে। সবাই নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করে এবং একটি নতুন শুরুর প্রতিজ্ঞা করে।
গল্পটি শেষ হয় একটি দৃশ্যে, যেখানে পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, হাসছে এবং গল্প করছে। শেষ বিকেলের আলো তাদের ঘরে নতুন আশার প্রতীক হয়ে জ্বলছে।
শেষ।
শেষ বিকেলের আলো।
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
55
Views
2
Likes
0
Comments
4.5
Rating