এক ফোঁটা স্বপ্ন

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
তুহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। গ্রামের ছেলেটা, বাবার জমিজমা নেই, মা অন্যের বাসায় কাজ করে পয়সা পাঠায়।
তুহিন স্বপ্ন দেখে — বিসিএস ক্যাডার হবে। তার হাতে মা একদিন রাজবাড়ির মতো বাড়িতে থাকবে, যেন কোনো কষ্ট না থাকে।

ক্লাসের পর অনেক রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে পড়ে। কখনও ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে, কারণ হলে লাইট অফ।

হঠাৎ কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়।
তুহিন প্রথমে চুপ ছিল। ভাবছিল — "চাকরিতে কি আর আন্দোলনে হয়? পড়ালেখাটাই বড়।"

কিন্তু ধীরে ধীরে সে দেখল — তার বন্ধুরা যারা পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পেয়েছে, তারা ‘কোটা’য় পেছনে পড়ে যাচ্ছে।
আর অনেকেই, যারা প্রস্তুতি নিতেই পারেনি, ‘বিশেষ সুবিধায়’ নাম চলে আসছে।
তুহিন ভেতর ভেতর ক্ষুব্ধ হতে থাকে। তার মা তাকে বলেছে — "বাবা, চাকরিটা পেলে আমার কাজটা ছেড়ে দিব।"
তুহিন প্রতিজ্ঞা করেছিল — "পাবোই।"

একদিন, সে রাস্তায় নেমে যায়।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে গলা তুলে চিৎকার করে —
“আমরা বৈষম্য চাই না! আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে অধিকার চাই!”

পুলিশ আসে। লাঠিচার্জ হয়।
তুহিন পড়ে যায় রাস্তায়, পিঠে লাঠি, মাথায় রক্ত।
একটা মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়ে —
একটা রক্তাক্ত ছাত্র, যার হাতে ধরা বিসিএসের ফর্ম।

সেই ছবি ভাইরাল হয়।
খবরের কাগজে লেখে —
“রক্তে লেখা কোটা সংস্কারের দাবি”

কিন্তু তুহিনের মায়ের হাতে সেই দিন আসে না।
তিন মাস পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার রেজাল্টে দেখা যায় —
তুহিন মাত্র এক নম্বরে বাদ!
যেখানে পাশ করা ছেলেটি ‘বিশেষ কোটা’য় ৪ নম্বরে পাস করেছে।

তুহিন সেদিন আর কাঁদেনি।
সে নিজের ডায়েরিতে শুধু একটা লাইন লিখে রেখেছিল—
"আমি যুদ্ধ করিনি কোটা তুলে দিতে, আমি লড়েছি যেন আমি যে লড়ছি — সেটা কেউ দেখতে পায়।"
68 Views
10 Likes
0 Comments
3.0 Rating
Rate this: