সুমির প্রথম রোজা।
রমজান মাস, মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ সময়। এক গ্রামে এক ছোট্ট মেয়ে, সুমি, বাস করত। সুমি ছিল খুবই ধার্মিক এবং প্রার্থনায় মনোযোগী। তার বাবা-মা তাকে ছোট থেকেই রোজা রাখা এবং ঈমানদারি শেখানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সুমির জন্য প্রথম রোজা রাখা ছিল অনেক কষ্টকর। সুমি একদিন তার মায়ের কাছে বলল, “মা, আজ খুব তেষ্টা লাগছে। আমি কি রোজা রাখতে পারব না?”
মা হাসি দিয়ে বললেন, “সুমি, রোজা রাখা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়। এটি আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করার জন্য। যখন তুমি রোজা রাখো, তখন তুমি আল্লাহর সঙ্গে আরও কাছাকাছি হয়ে যাও। মনে রেখো, আল্লাহ তোমার সাহস দেখছেন।”
সুমির মা তাকে আরও বুঝালেন, “এখন তুমি যদি এই রোজা রাখো, তবে তুমি একধাপ এগিয়ে যাবে সৎ পথে। আর এটাই তোমার ঈমানকে শক্তিশালী করবে।”
সুমি তার মায়ের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিল যে, সে রোজা রাখবে। প্রথম দিন একটু কষ্ট হলেও, পরদিন সুমি তার রোজা রাখতে পারল অনেক ভালোভাবে। রোজার সময়, সে না শুধু খাবার আর পানীয় থেকে বিরত থাকল, বরং নিজের মনও পরিষ্কার রাখল। সুমি বুঝতে পারল, রোজা শুধু শরীরের জন্য নয়, বরং আত্মার জন্যও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
রোজার শেষ দিনে, সুমি খুশিতে ছুটে এল তার মা-বাবার কাছে এবং বলল, "মা, বাবা, আমি সফল হয়েছি! আজ আমি পুরো রোজা রেখেছি।"
তাদের চেহারায় গর্ব এবং আনন্দের ঝিলিক ছিল। মা বললেন, “আমার প্রিয় সুমি, তুমি সত্যিই অনেক বড় হয়ে উঠছো। রোজা রাখার মাধ্যমে তুমি আল্লাহর কাছাকাছি চলে এসেছো।”
এভাবে সুমির ছোট্ট রোজার গল্পটি পুরো গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। তার ইচ্ছাশক্তি এবং বিশ্বাস অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করল। রমজানের এই সময়টি তাদের জন্য শুধু আত্মশুদ্ধির নয়, বরং একে অপরকে ভালোবাসার এবং সাহায্য করার একটি সময় হয়ে উঠেছিল।
শেষ।
সুমির প্রথম রোজা।
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
60
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating