#প্রেম_আমার
#পর্ব_২
মাইশা ভয় পেয়ে আরিয়ানের হাত চেপে ধরল। হঠাৎ আরিয়ান জোরে গাড়ির টা ব্রেক করল। মাইশা তাল সামলাতে না পেরে মিরর গ্লাসের সঙ্গে ওর কপালে বাড়ি খেতে নিচ্ছিল তখনই আরিয়ান ওর কপালে সামনে হাত রাখল। মাইশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। খুব মায়াবী লাগছিল ওর মুখটা দেখতে।ওর মুখে কিছুটা বিরক্তি ছাপ টাও স্পষ্ট। হঠাৎ ধাক্কা লাগার কারণে কিছুটা চুল কপালের ওপরে এসে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।সব মিলিয়ে মাইশা কে খুব সুন্দর লাগছে দেখতে। আরিয়ান এক দৃষ্টিতে মাইশার দিকে তাকিয়ে আছে।
মাইশার সেই দিকে কোনো খেয়াল নেই।ওর দৃষ্টি সামনের দিকে স্থির।কেউ কোনো কথা বলছে না।ওদের মধ্যে পিন পতন নীরবতা।হঠাৎ মাইশার ফোন টা বেজে উঠলো।মাইশা ফোন বের করে সঙ্গে সঙ্গে সাইলেন্ট করে দিলো।বারবার কেউ মাইশাকে ফোন দিচ্ছে আর মাইশা বারবার সাইলেন্ট করে দিচ্ছে।মাইশা যেন ফোনটা রিসিভ করতে চেয়েও রিসিভ করতে পারছে না আরিয়ানের ভয়ে।
হঠাৎ করে আরিয়ান মাইশার হাত থেকে ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো ম্যানেজার রিয়াদ বারবার ওকে ফোন দিচ্ছে। রাগে আরিয়ানের চোখ দুটো লাল হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান মাইশার ফোন থেকে সিম টা খুলে ভেঙে ফেলল।
মাইশা সঙ্গে সঙ্গে চিল্লিয়ে বলে উঠলো,
মাইশা ----- এটা তুমি কি করলে আমার সিম টা ভেঙে ফেললে কেন।
আরিয়ান অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে তাকালো মাইশার দিকে। ওর চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে।ঐ আগুনে যেন মাইশা কে এখনই ও পুড়িয়ে মারবে।
মাইশা ওর ফোনটা নেবার জন্য হাত বাড়াতে যাবে তখনই আরিয়ান ওর ফোন টা গাড়ির জানলা দিয়ে বাহিরে ফেলে দিল। মাইশা ওর ফোনটা আনার জন্য গাড়ি থেকে নামতে যাবে তখনই আরিয়ান ওর চুলের মুঠি ধরে ওকে বলল,
আরিয়ান ----- কোথায় যাচ্ছিস হ্যাঁ। খুব শখ না তোর
রিয়াদের সাথে কথা বলার।
মাইশা ওর চুলে ব্যথা পেয়ে কাতরাতে কাতরাতে বলল,
মাইশা------ আমার খুব ব্যথা লাগছে আরিয়ান ভাইয়া ছাড়ো প্লিজ।
আরিয়ান ওর কোন কথায় পাত্তা না দিয়ে নিজের ঠোঁট ওর ঠোঁটে ডুবিয়ে দিল। হঠাৎ জোরে একটা কামড় বসিয়ে দিল মাইশা ঠোঁটে। মাইশা ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলো।মাইশার ঠোঁট আরিয়ানের দখলে তাই মাইশা ব্যথায় ছটফট করতে লাগলো। প্রায় ১৫ মিনিট পর আরিয়ান মাইশা কে ছেড়ে দিল।মাইশা সঙ্গে সঙ্গে তার ঠোঁট চেপে ধরল।মাইশার ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে।
আরিয়ান ওর ঠোঁট টা বৃদ্ধা আঙ্গুলি দিয়ে এপাশ থেকে ওপাশে মুছে নিয়ে মাইশার গাল দুটো চেপে ধরে বলল,
আরিয়ান ------- এরপর থেকে কোনদিন যদি আমার কথার অবাধ্য হয়েছিস, আমার অপছন্দের বাহিরে কোন কাজ করেছিস তাহলে তার ফল এর থেকে অনেক বেশি ভয়ানক হবে।
আরিয়ান ঠোঁটের কোণে ডেভিল মার্কা একটা হাসি দিয়ে আবার গাড়ি চালাতে শুরু করল।মাইশার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। মাইশার নিজেকে যেন খাঁচায় বন্দি একটা পাখির মত মনে হচ্ছে। যেখানে তার বিন্দুমাত্র ও স্বাধীনতা নেই। তার জীবনের সকল স্বাধীনতা আর সকল সিদ্ধান্ত যেন আরিয়ান নিয়ে বসে আছে। মাইশার খুব কষ্ট লাগছে তার ফোনটার জন্য। ফোনটা সে প্রথম বেতনের টাকা পেয়ে কিনেছিল। আরিয়ান তার বড়লোক মামার ছেলে তার কাছে এই সামান্য ফোন কিছুই না। কিন্তু মাইশার কাছে অনেক কিছু।
কিছুক্ষণ পর ওরা বাড়িতে পৌঁছে গেল। মাইশা দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে দৌঁড়ে ওর রুমে চলে গেল। মাইশাকে এইভাবে দৌঁড়ে রুমে চলে যেতে দেখে আরিয়ানের ছোট বোন আলিয়া বুঝতে পারল তার ভাই অবশ্যই মাইশাকে আবার কিছু না কিছু বলেছে। তার ভাই টাকে নিয়ে আলিয়া আর পারে না। কেন যে ও মাইশার সাথে এমন করে। মাইশার প্রতি যখন ওর এতই ভালোবাসা তাহলে কেন মাইশাকে ওর মনের কথা টা বলে দিচ্ছে না। কথা গুলো ভাবতে ভাবতে মাইশার রুমের দিকে গেল আলিয়া।
মাইশা তার বাবা আর মায়ের ছবিটা বুকে নিয়ে অঝোরে কাঁদছে। আজ নিজেকে এই পৃথিবীতে বড় অসহায় আর নিঃস্ব লাগছে মাইশার।
মাইশা তার বাবা আর মায়ের ছবিতে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
মাইশা ------ মা-বাবা তোমরা কেন তোমাদের সাথে আমাকে নিয়ে গেলে না। তাহলে তো আজকের এই দিনটা আমাকে দেখতে হত না। প্রতিনিয়ত যে আমি ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমি যে এটা বোঝাতে পারছি না যে আমারও একটা মন আছে। আমারও ইচ্ছে করে স্বাধীনভাবে বাঁচতে। আমার জীবন টা যেন একটা বন্দি পাখির মত হয়ে গেছে। আমি যে আর পারছি না।
কথাগুলো বলছে আর মাইশার চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ধরা ঝরে পড়ছে।তখনই আলিয়ার আগমন ঘটলো।আলিয়া মাইশার কাঁধে হাত রাখল। মাইশা সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখের পানিটা মুছে নিলো।
আলিয়া মাইশাকে ওর দিকে ঘুরিয়ে বললো,
আলিয়া------ মাইশা ভাইয়া তোকে আজকেও বকাবকি করেছে তাই না।
মাইশা আলিয়াকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। এই বাড়িতে একমাত্র আলিয়ার সাথে মাইশা একটু মন খুলে কথা বলতে পারে। নিজের মনের কষ্টটা একটু হলেও শেয়ার করতে পারে।
আলিয়া মাইশার চোখের পানিটা মুছিয়ে দিয়ে বলল,
আলিয়া------কি হয়েছে মাইশা বলতো আমাকে। ভাইয়া কি আজকেও তোকে অনেক বকেছে।
মাইশা কান্নারত কন্ঠে বলল,
মাইশা----- শুধু কি বোকা আজকে আরিয়ান ভাইয়া তো আমার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছে। আচ্ছা আলিয়া আমি তোদের বাসায় আছি বলেই কি আরিয়ান ভাইয়া আমার সাথে যা ইচ্ছে তাই করবে।
আলিয়া ------ এইভাবে বলিস না মাইশা, তুই ভুল ভাবছিস ভাইয়াকে। ভাইয়া যা করে তোর ভালোর জন্যই করে। তুই একদিন না একদিন ঠিক বুঝতে পারবি।
মাইশা কিছুটা রাগ নিয়ে আলিয়া কে বলল,
মাইশা ----- এমন ভালো আমার দরকার নেই আলিয়া। যেখানে কোন স্বাধীনতা থাকে না, মানুষের কোন মূল্যায়ন থাকে না, যেভাবে ইচ্ছা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। সেই ভালোর আমার কোন প্রয়োজন নেই আলিয়া।
হঠাৎ কিছু ভেঙ্গে যাওয়ার আওয়াজ আসে মাইশার ঘরের সামনে থেকে। ওরা মাইশার ঘরের সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখল একটা ফুলদানি মাইশার ঘরের সামনে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে।
আলিয়া বুঝতে পারল তার ভাই অবশ্যই এতক্ষণ এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছিল। মাইশার কথাগুলো আরিয়ান সহ্য করতে না পেরে তার রাগটা এই ফুলদানির উপর ছেড়েছে।
মাইশা ফুল দানি টার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। এইটা তো সেই ফুলদানিটা, যেটা কিছু দিন আগে রিয়াদ তাকে গিফট করেছিলো।আরিয়ান এই ফুলদানিটা কে ও ছাড়লো না।এই ফুলদানিটা কি দোষ করেছিলো।এই ফুলদানিটা খুব পছন্দের ছিলো মাইশার। আরিয়ান তার পছন্দের জিনিস গুলো সব এক এক করে নষ্ট করে দিচ্ছে। তখন ফোন আর এখন এই ফুল দানি। আরিয়ান আর কত এই ভাবে অত্যাচার করবে তার উপরে।
আরিয়ান রাগে গজ গজ করতে করতে রুমের এপাশ থেকে ওপাশ হাঁটছে। আরিয়ানের ইচ্ছা করছিল সব ভেঙ্গে চুরে চুরমার করে দিতে।
আরিয়ান রাগে কটমট করতে করতে বলল,
আরিয়ান ------ খুব শখ না তোর অন্যের দেয়া জিনিস খুব সুন্দর করে নিজের কাছে সাজিয়ে রাখার।তোর শখের জিনিসটা তো ভেঙে গেল।এইভাবে সবকিছু ভেঙে চুরে চুরমার করে দেবো আমি। আমি ছাড়া তোর জীবনে অন্য কোন কিছু প্রাধান্য পেতেই পারে না। মুক্তি চাস না তুই আমার কাছ থেকে। কোনো মুক্তি নেই তোর আমার কাছ থেকে।
রিয়াদ আরো বেশ কয়েকবার মাইশার ফোনে কল দিল। কিন্তু কিছুতেই মাইশার ফোনে কল ঢুকাতে পারছে না রিয়াদ।
রিয়াদ এক বুক হতাশা নিয়ে মনে মনে আওড়ালো,
'" কেন যে মাইশা নিজের ফোনটা বন্ধ করে রেখেছে বুঝতে পারছি না। আমার যে মাইশার সাথে কথা বলা ছাড়া মোটেও ভালো লাগছে না। কেমন যেন পাগল পাগল লাগছে নিজের কাছে। মাইশা কি ওর মনের কথা বোঝেনা। যত দ্রুত সম্ভব মাইশাকে ওর মনের কথা বলে দিতে হবে।
ঠোঁটের কোনে খুব ব্যাথা করছে মাইশার।মাইশা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো ওর ঠোঁট টা অনেক টা ফুলে গেছে।মাইশা একটা মলম বের করে ওর ঠোঁটে লাগিয়ে দিলো। টপ করে দুই ফোঁটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো মাইশার চোখ থেকে।মাইশা নিজ মনে ভাবছে,'"কবে তার মুক্তি মিলবে এখান থেকে।
এদিকে আরিয়ানের রাগ কমে যেতেই কেমন যেন একটা খারাপ লাগা কাজ করছে আরিয়ানের মনের মধ্যে। আজকে মাইশার সাথে ও অনেক বেশি রাফ বিহ্যাভ করে ফেলেছে। আরিয়ান এর উচিত ছিল নিজের রাগটাকে কিছুটা কন্ট্রোলে রাখার। কিন্তু কি করবে আরিয়ানের রাগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভালবাসাটা যে মাইশা বুঝতেই চায় না।একটা অপরাধ বোধ কাজ করছিল মাইশার মনের মধ্যে।কিভাবে যে মাইশার কাছে সরি বলবে বুঝতে পারছে না আরিয়ান। কিন্তু যেভাবেই হোক আরিয়ানকে মাইশার কাছে সরি বলতেই হবে তা না হলে আরিয়ান শান্তি পাচ্ছে না।
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশার রুমের দিকে চলে গেল। কিন্তু রুমে যেয়ে মাইশা কে পেল না আরিয়ান। মাইশাকে খুঁজতে খুঁজতে ছাদে যেয়ে দেখল মাইশা মন খারাপ ছাদের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান মাইশার কাছে এগিয়ে গেল। মাইশা আরিয়ানকে দেখা মাত্রই ছাদ থেকে চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশার হাত টেনে ধরল।
মাইশা সঙ্গে সঙ্গে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলে উঠলো,
মাইশা ----- আরিয়ান ভাইয়া আমার হাতটা ছাড়ো আমি নিচে যাবো।
হঠাৎ আরিয়ান......
#চলবে........
প্রেম আমার (পর্ব ২)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
1.14K
Views
23
Likes
0
Comments
4.5
Rating