পরিণীতাসক্তি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
৩১.
- দেখ, সব ম্যানেজ হয়ে গেলো। (আখি)

- ঘন্টা হয়েছে। তুই যে খুব শীঘ্রই বড়সড় একটা বাঁশ খেতে যাচ্ছিস, তা আমি ভালোই বুঝতে পারছি। (দিনা)

- তোর মুখ থেকে কখনো ভালো কথা বের হয় না, তাই না? (আখি)


আখির ব্যাগের ভেতরে রাখা ফোনটির রিংটনের শব্দ শোনা গেল। আখি দেখলো ম্যানেজার ফোন করেছে। সে ফোনটা রিসিভ করলো।


- হ্যালো...(ম্যানেজার)

- হ্যাঁ, ম্যানেজার সাহেব, বলুন। (আখি)

- বলছি ম্যাডাম, স্যারের তো এতক্ষণে মনে হয় দেশে ল্যান্ড করে গেছেন। ওনাকে একটু আগে ফোন করলাম। কিন্তু ফোন তো সুইচড অফ বলছে। আপনার কী স্যারের সাথে কথা হয়েছে? (ম্যানেজার)

- হ্যাঁ, হয়েছে। আসলে ও না দেশে এসেই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে আটকা পড়ে গেছে। তাই আপনার ফোন ধরছে না। সমস্যা নেই ও সময়মতো অফিসে পৌঁছে যাবে। (আখি)

- আচ্ছা ম্যাডাম। (ম্যানেজার)


আখি ফোনটা কেটে দিলো।

- এই ম্যানেজারটাও বেশি বেশি। ভাবটা এমন দেখাচ্ছে যে কত দুশ্চিন্তা না করছে। (আখি)

- (মুখ ভেঙচে) নেকামি। (দিনা)


দুজনে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো। তারা খেয়াল করেনি যে মাহির আর দীপ্ত তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। মাহিরের নকল কাশির শব্দে তারা তাদের দিকে তাকায় আর দেখে তারা দুজনেই একদম অফিসের ফর্মাল লুকে কোর্ট, ওয়াচ, সু পড়ে চলে এসেছে।


- বাহ্, মাতাল,,, তুমি চলে এসেছো। তোমাকে তো পুরো বস বস লাগছে। (আখি)

- হ্যাঁ, মানে ওটা মাতাল নয়, মাদাল হবে। (মাহির)

- ঐ একই হলো। (আখি)

- এই.. মাতাল আর মাদাল কে? (দীপ্ত মাহিরের কানে কানে)

- চুপ কর। পরে বলবো। (মাহির ফিসফিসিয়ে)

- আচ্ছা, আপনি এসেছেন বুঝলাম। কিন্তু সাথে এটা আবার কোন গাঁজাখোরকে নিয়ে এসেছেন। (দিনা)

- Sorry, আমি কোনো গাঁজাখোর নই৷ আমার একটা সুন্দর নাম আছে। (দীপ্ত)

- আপনি কে সেটা তো আগে বলবেন। (দিনা)

- ও হলো আমার ছোটবেলাকার ফ্রেন্ড। (মাহির)

- ও তাহলে তো আমার হিসেব ঠিকই আছে। আপনি যদি মাতাল হন, আপনার বন্ধু তো গাঁজাখোরই হবে। (দিনা)

- না, আপনার হিসেব সম্পূর্ণ ভুল। না আমার বন্ধু মাতাল, না আমি গাঁজাখোর। আমি দীপ্ত। (দীপ্ত)

- আপনি যেই হোন, এখানে কি সিনেমা দেখাতে এসেছেন? (দিনা)

- না, মানে ওর ছোটবেলা থেকে খুব অভিনয় করার শখ। আর আমি যেহেতু বস, আমারও তো একটা পিএ দরকার। তাই আরকি ওকে নিয়ে এলাম। (মাহির)

- সে না হয় ঠিকাছে। কিন্তু একে কিন্তু আমি দু হাজারের বেশি দিতে পারবো না। (আখি)

- দু হাজার,,দু হাজার মানে কি হ্যাঁ? এ তো দুটাকারও যোগ্য নয়। (দিনা)

- এই যে মিস, আমি এতটাও খারাপ নই। আর তাছাড়া আমার একটাকাও লাগবেও না। (দীপ্ত)

- তাহলে তো আরো ভালো। আচ্ছা তোমরা ঠিকঠাক acting করতে পারবে তো? (আখি)

- হ্যাঁ, হ্যাঁ, একদম ফাটিয়ে দেবো। (মাহির)

- (ধমক দিয়ে) এই,,,,,, এসব ফাটিয়ে দেবো টাটিয়ে দেবো কি হ্যাঁ? এসব ভাষা use করা যাবে না৷ একদম মার্জিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। বুঝেছো? (আখি)

- আচ্ছা। (মাহির)

- বাপ রে.. ভাইয়াকে কেউ ধমক দিলো। তাও একটা মেয়ে। আর ভাইয়াও চুপচাপ থাকলো। (দীপ্ত মনে মনে)

- আচ্ছা এবার তো চলো। পাঁচটা বাজতে চললো। (মাহির)

- আরে দাঁড়াও, দাঁড়াও, আগে অফিসের কয়েকটা নিয়মকানুন তোমাদের শিখিয়ে দিই। তারপর দেখছি। (আখি)


আখি আর দিনা তারপর তাদের অফিসের এক একটা রুলস বলছিলো। যেগুলো ছিলো মাহির আর দীপ্তর কাছে খুবই বোরিং। কারণ নিয়মগুলো তারা ইতিমধ্যে জানে।

- শোনো, তুমি যখন অফিসে যাবে, মানে অফিসে ঢুকবে আরকি, তখন একটু ভাব নিয়ে হাঁটবে। তোমার ব্যাপার স্যাপারই হবে আলাদা। তারপর আমাদের ম্যানেজার তোমাকে ফুল দিয়ে বরণ করবে। তুমি সুন্দর করে সেটা নিয়ে তাকে একটা Thank you বলবে। ঠিক আছে? (আখি)

- আচ্ছা। (মাহির)

- (দীপ্তকে উদ্দেশ্য করে) আর শোনো, তুমি পিএ, পিএর মতন থাকবে। আবার বসের বা পিওনের অভিনয় করতে যেও না যেন। (দিনা)

দীপ্ত মাথা হেলিয়ে সম্মতি জানায়।


সবকিছু ঠিকঠাক হলে তারা চারজনে মিলে একসাথে যাত্রা শুরু করে। তবে আখি এত দামী মার্সিডিজ গাড়ি দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যায়।

- এই, এইটা কোথা থেকে এলো। (আখি)

- আরে বাবা, আমি অফিসের বস তো? আমার কি ঐসব অটো-রিক্সায় গেলে হবে নাকি? আমার তো একটা দামী গাড়িতে করে যাওয়া উচিত। তাই এটাকে ভাড়া করে আনলাম। (মাহির)

- সে নাহয় ভালো করেছো, তবে এটার ভাড়া কিন্তু আমি দিতে পারবো না। (আখি)

- আচ্ছা তোমাকে দিতে হবে না। (মাহির)

- আচ্ছা তোমরা দুজন তাহলে গাড়িতে এসো, আমরা তাড়াতাড়ি করে রিক্সায় করে অফিসে যাই। (আখি)

- আচ্ছা। (মাহির)


৩২.
মাহিরের মার্সিডিজ কার অফিসের সামনে এসে থামে। অফিসের ছোঁয়া পাওয়ার সাথে সাথে যেন মাহির এর মধ্যে এক অন্য সত্ত্বা জেগে ওঠে। চোখমুখ একদম শক্ত করে ফেলে সে। প্রথমে দীপ্ত গিয়ে মাহিরের গাড়ির দরজা খুলে দেয়। মাহির ঠিক সেভাবেই গাড়ি থেকে নামে, যেভাবে কোনো রাজা দীর্ঘদিন পরে রাজ্যে ফিরে এসে তার ঘোড়া থেকে নামে। চোখে সানগ্লাস পড়ে পকেটে একহাত ঢুকিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয় সে। তার পেছন পেছন দীপ্ত এগোতে থাকে। তার চোখমুখেও গাম্ভীর্যতা। তারা দেখে, ম্যানেজার হাতে ফুল নিয়ে সেখানে একটি ফোঁকলা হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার পাশে আছে আখি, দিনা, নিশিসহ আরো কিছু স্টাফ। আখি ও দিনা মেয়ে যত স্টাফ আছে, তারা মাহিরের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন কখনো কোনো পুরুষ দেখেনি। মাহির গেটে গিয়ে দাঁড়ালে ম্যানেজার তার দিকে হাতের ফুলের তোড়াটি এগিয়ে দিয়ে বলে-

- এই সুন্দর ফুটফুটে বিকেলে আপনাকে আপনার অফিসে স্বাগতম স্যার। (ম্যানেজার)


মাহির ফুলটা নিয়ে দীপ্তকে দেয়। তারপর বলে-

- আপনাকে Thanks বলার কোনো ইচ্ছে ছিলো না। কারণ আপনার ডায়লগটা আমার একটুও পছন্দ হয়নি। কিন্তু ফুলগুলো সুন্দর। তাই thanks. (মাহির)


মাহিরের এই কথা শুনে ম্যানেজার যে তার রিয়েকশন কি দেবে সেটাই বুঝতে পারছে না। কিন্তু সে একটু হতাশই হলো হয়তো।

- Let's go into the office. (মাহির)

মাহির একবার আড়চোখে আখির দিকে তাকিয়ে ভেতরে চলে যায়। আখি তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। কিন্তু মাহিরের ব্যবহারটা এমন মনে হলো যেন সে আখিকে চেনেই না। আখি দিনাকে ফিসফিস করে বললো-

- একটু বেশি ভাব নিচ্ছে না? (আখি)

- না, না ঠিকই আছে। শুনেছি আসল বস এরকমই। (দিনা)


সবাই মাহিরের কেবিনে গেলো। সেখানে মাহির চেয়ারে বসলে তার বিপরীত দিকের চেয়ারটায় আখি বসে। মাহির এতে যতটা না বিস্মিত হয়, তার থেকে অনেক বেশি রাগান্বিত হয়। কিন্তু রাগটা কোনোরকমে নিয়ন্ত্রণ করে সে। আজ পর্যন্ত এভাবে তার সামনে বসার সাহস কারো হয়নি। তবে মাহির তাকে কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারে না।

- স্যার, এই প্রথমবার আপনি আপনার অফিসে এসেছেন। আপনার কেমন লাগছে? (নিশি)

- আমি আমার জীবনের থেকেও অফিসকে বেশি ভালোবাসি। তাই খারাপ লাগার কোনো প্রশ্ন আসে না। (মাহির)


মাহিরের প্রতিটি কথার প্রেক্ষিতে এমন ধরনের উত্তর শুনে কেউ আর আগ বাড়িয়ে কিছু বলার সাহস পেলো না।

- (দীপ্তকে উদ্দেশ্য করে) এই শোন, তুমি তো স্যারের পিএ। তুমি স্যারের চেয়ার টেবিল সবকিছু গুছিয়ে রাখবে। আর স্যার যখন যেটা করতে বলবে ঝটপট সেটা করে দেবে। বুঝেছো? (আখি)


দীপ্ত বোকা বোকা হাসলো। মাহির আর দীপ্ত আড়চোখে একবার একে অপরের দিকে তাকালো। দীপ্ত এরপর পাশ থেকে কিছু ফাইল তুলে মাহিরের দিকে ধরে বললো-


- স্যার, এই ফাইলগুলো। (দীপ্ত)


- হুম, দাও। (মাহির)


মাহির দীপ্তর হাত থেকে ফাইল নিতে নিতে বললো। সে ফাইলে মনোযোগ সহকারে চোখ বুলাতে লাগলো। মাঝখানে একবার আড়চোখে একটু আখির দিকে তাকালো। দেখলো আখি চোখ গরম করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন এক্ষুনি চোখ দিয়ে ভস্ম করে দেবে। কিন্তু মাহিরের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। কাজ পেয়ে অভিনয় ভুলে গেছে যেন। নিজের মতো ফাইলে কয়েক সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে সে দীপ্তকে কিছু একটা বলতে যাবে, এমন সময় বললো -

- এই তোমাকে স্যারকে এই ফাইলটা কে দিতে বলেছে? (দীপ্তকে উদ্দেশ্য করে আখি)


দীপ্ত কিছু বললো না। মাহিরের দিকে আড়চোখে বারবার তাকাতে লাগলো।

- স্যারের দিকে বারবার তাকিয়ে লাভ নেই। আমার কাছে কাজের importance সবচেয়ে বেশি। তুমি স্যারকে আজাইরা উল্টোপাল্টা ফাইল দেবে, আর স্যার সেটা নিয়ে সময় নষ্ট করবে, সেটা তো হবে না। (আখি)

- আজব তো। স্যারের পিএ কি আপনি? কখন স্যারকে কি দিতে হবে সেটা আমার খুব ভালো করে জানা আছে। আপনি বারবার আমার কাজে ডিস্টার্ব করছেন কেন? (দীপ্ত)


দীপ্তর কথায় আখি আরো রেগে গেলো। একঘন্টাও হয়নি অভিনয় শুরু করেছে। এর মধ্যেই এভাবে কথা বলা শুরু করে দিয়েছে যেন কত কিছু জানে। সে দীপ্তকে কিছু বলতে গেলে দিনা তার কাঁধে হাত রেখে শান্ত থাকতে বলে। ইশারায় বোঝায় চুপ করে থাকাই শ্রেয়।

- আচ্ছা স্যার, আপনি কোন প্লেনে করে এসেছেন? (ম্যানেজার)


মাহির কিছু বলার আগেই আখি বলে ওঠে-

- স্যার কোন প্লেনে এসেছেন সেটা জেনে আপনি কি করবেন? এটা কি আপনার কাজ? (আখি)


ম্যানেজারের মুখটা আবার চুন হয়ে গেলো। মাহির দীপ্তর কানে ফিসফিসিয়ে বললো-

- একটু বেশি বেশি করছে না? (মাহির)

- শুধু বেশি বেশি নয়, অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করছে। (দীপ্ত)

- এই, তোমরা সবাই এখন বের হও। স্যার একটু রিলাক্সে ফাইল চেক করতে দাও। (আখি)


আখির কথায় সবাই বাইরে চলে গেলো। তবে নিশি সবার অগোচরে আখিকে মুখ ভেঙচি দিলো। সবাই চলে যাওয়ার সাথে সাথে আখি গর্জে উঠে মাহিরের হাত থেকে ফাইলটা নিলো।

- এই,,,,তোমাকে এই ফাইলে হাত দিতে কে বলেছে? জানো কত important important জিনিস আছে এতে? (আখি)


আখির মাহিরের হাত থেকে ফাইলটা ওভাবে ছিনিয়ে নেওয়াতে তার প্রতি একটু রাগ হলো। কিন্তু নিজেকে সামলালো সে।

- একটু তো নেড়েই দেখেছি। ছিড়ে তো ফেলিনি। আর তাছাড়া আমি বস। একটু attitude তো দেখাতেই হবে। নাহলে সবাই তো সন্দেহ করবে। (মাহির)

- তোমাকে এত attitude তো কেউ নিতে বলেনি। (আখি)

- আরে আজব! উনি তো আমাদের বস, তাই না? উনি তো ফাইল নাড়াচাড়া করবেই। (দীপ্ত)


আখির পাশে দিনা দাঁড়িয়ে ছিলো। সে বললো-

- এই তুমি এত কথা বলো কেনো হ্যাঁ? তোমাকে এত কথা কেউ বলতে বলেছে? (দিনা)

- আর তাছাড়া এই অফিসের কোন ক্ষতি হয়ে গেলে তুমি তার দায় নেবে? (আখি)

- আপনি যে দু নম্বরী করে এই অফিসে বসে আছেন, তার বেলা? (দীপ্ত)

- হ্যাঁ, আমি দু নম্বরী করে এই চেয়ারে বসে আছি, তা ঠিক। কিন্তু আমি এই কোম্পানিকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। তাই তোমাদের আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছ, কোম্পানির কোনো ক্ষতি হলে কিন্তু....বুঝে নিও। (আখি)


মাহির কিছু বলতে যাবে তার আগেই ম্যানেজার কেবিনে ঢোকে।

- স্যার, কনফারেন্স রুম রেডি আছে। সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। (ম্যানেজার)

- আচ্ছা আপনি যান আমি আসছি। (মাহির)

- আচ্ছা স্যার। (ম্যানেজার)

ম্যানেজার চলে গেলে আখি নিজের চেয়ার থেকে উঠে মাহিরের সামনে আঙ্গুল তুলে বলে -

- এই শোনো, ওখানে গিয়ে বেশি কথা বলবে না। বেশ কথা বললে কিন্তু ধরা পড়ে যাবে। So, be careful. (দীপ্তর দিকে তাকিয়ে) আর এই যে গাঁজাখোর, তুমিও ভালো হয়ে যাও। (মাহিরের দিকে তাকিয়ে) আর শোনো, তুমি ওখানে গিয়ে বলবে আমি আখিকে অফিসের সব কাজ বুঝিয়ে দিয়েছি। আর হ্যাঁ, তুমি কিন্তু এমনভাবে বলবে যাতে মন হয় আমি তোমার খুব কাছের কেউ। (আখি)

মাহির ভালো ছেলের মতো মাথা দোলালো। কিন্তু মনে মনে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললো-

- স্বপ্ন দেখো। (মাহির)


৩৩.

- আপনাদের সবাইকে অনেক বেশি ধন্যবাদ। আমি আর আমার পরিবার এতদিন দেশে ছিলাম না। অথচ আপনারা কত ভালোভাবে কোম্পানিটাকে আগলে রেখেছেন। I'm really very gladful. (মাহির)

- আমরাও আপনাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছি, স্যার। (ম্যানেজার)

- তো আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, এতদিন যে যা করেছেন সবকিছু ভুলে যান। আজ থেকে যখন এই অফিসে পা রাখবেন, তখন মনে মনে বলবেন-আমায় দিয়ে যেন আজকে কোম্পানির 1% হলেও প্রফিট বাড়ে। এমনি অনেক পরিশ্রমী এমপ্লয়ি আমার অফিসে আছে, আমি সেটা জানি। কিন্তু সবাইকে ওমন পরিশ্রমী হতে হবে। কালকে যা করেছেন, চেষ্টা করবেন আজকে তার থেকে আরেকটু ভালো, আরেকটু বেশি কাজ করার। এতে আপনাদের স্যালারিও বাড়বে আর কোম্পানিরও লাভ হবে। (মাহির গম্ভীর কণ্ঠে)

মাহির আখির দিকে তাকিয়ে দেখলো আখি তার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে। তার কারণও সে জানে। সে আখির শিখিয়ে দেওয়া কথার কিছুই বলেনি। কিন্তু তার অগ্নিদৃষ্টিকে সে বিন্দু পরিমাণও গ্রাহ্য করলো না।

- এখন সিনিয়র এমপ্লয়িরা ছাড়া সবাই যেতে পারেন। (মাহির)


মাহিরের কথার ভাবার্থ কেউ বুঝতে পারলো না। তবে বস যেহেতু অর্ডার করেছে, সেহেতু তো তা পালন তো করতেই হবে। আখিসহ অন্যান্য কিছু এমপ্লয়ি কনফারেন্সে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

- যে কথাটার জন্য আলাদা করে আপনাদের ডাকা হয়েছে তা হলো-আপনাদের জন্য সামনে কিছু চমক আছে। আগামী পরশু আমাদের কোম্পানির CEO মানে আমার বাবা অফিসে আসছেন। তিনি এলেই আপনারা সেগুলো পাবেন। (মাহির)

- স্যার, আপনি তো এই কথাটা সবার সামনেই বলতে পারতেন। আমাদের শুধু আলাদা করে কেন বলতে গেলেন? (একজন এমপ্লয়ি)

- নিশ্চয়ই কিছু কারণ ছিলো। যেটা আপনাদের বলার মতো হলে আমি আগেই বলে দিতাম। আর কিছু বিষয় নিয়েও ডিসকাস করার আছে। (মাহির)


মাহির এমন কথা বলায় সবাই একদম চুপ করে গেলো। এরপর আধঘন্টার মতো কোম্পানি সম্পর্কিত নানা আলোচনা চললো। সবাই মাহিরের কথা শুনেই বুঝতে পারলো সে কাজ সম্পর্কে কতটা দক্ষ আর সিরিয়াস।

কনফারেন্স রুম থেকে মাহির যেই বের হলো তখন আখি তার হাত ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে কেবিনে নিয়ে গেলো। নিশি তা দেখে ম্যানেজারকে বললো-

- দেখেছেন, আদিক্ষেতা দেখেছেন? এদের এ সমস্ত নেকামি দেখলেই গা জ্বলে। (নিশি)

- হুম। আখি বসের ওপর নিজের অধিকারটা একটু বেশিই দেখাচ্ছে। (ম্যানেজার)

- স্যার দেখতে যত handsome, উনি আখির থেকে অনেক বেটার কাউকে ডিজার্ভ করেন। (নিশি)

- তা তো করেনই। আখির মধ্যে কি এমন যে উনি পেয়েছেন? যাই হোক, ওদের বিষয়ে আমাদের নাক গলিয়ে লাভ নেই। আমি কাজে গেলাম। (ম্যানেজার এই বলে চলে যায়)

- আমি তো একটু চেষ্টা করে দেখতেই পারি। নিজের রূপের জালে বসকে ফাসিয়ে যদি ওনাকে আখির থেকে ছিনিয়ে নিতে পারি। এমনিও আমি তো আর রূপে আখির থেকে কম নই। (নিশির মুখে একটি ডেভিল স্মাইল খেলে যায়)



চলবে........................

80 Views
2 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: