সিমসাম

রাহুল
রাহুল
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
নিশ্চুপ রাত। চারপাশে নীরবতা, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় নিজের ছায়াটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আমার সাথে হেঁটে চলেছে আমাকে আগড়ে ধরে। যেনো কখনো ছাড়বে না। হাঁটতে হাঁটতে যখনই ল্যাম্পপোস্টের আলো অতিক্রম করি সামনে পিছনে চারদিকে তাকিয়ে দেখি ছায়াটা আর নাই। হারিয়ে গেছে।
হারিয়ে গেছে অন্ধকারে.. 😅😅

হেঁটে চলেছি বাসার উদ্দেশ্য.. অফিস থেকে বাসা বেশি দুরে না, ১০-১২ মিনিট হাঁটলে বাসা। রিকশা করে যাওয়া আশা কম এ হয়। রিকশা ভাড়া নিয়ে সমস্যা না, অফিস থেকে বাসা যাওয়া আসার পথে সিমসাম নদীর পাড় পড়ে সেখানে রিকশা প্রবেশ নিষিদ্ধ।

সেখানে কারো মুখে নেই ভাঁজ, নেই কোনো ব্যস্ততা, নেই কোনো শূন্যতা।
সবাই মুগ্ধ, ধীর, স্নিগ্ধ।

কেউ যদি এক আকাশ সমান মন খারাপ নিয়ে এই সিমসাম নদীর পাড়ে ওকি জমায় তবে এক মিনিট সময়ও লাগবে না তার মন খারাপ গুলো হাওয়ায় উড়তে। হাওয়ার ডানায় চড়ে উড়ে চলতে দূর বহুদূরে।
সম্পূর্ণ দুঃখ বিলাশ, হাজারো মন খারাপের কারণ, এক নিমিষেই শেষ করে দিবে। যে সিমসামের জগতে প্রবেশ করবে তার এই জগতের সম্পূর্ণ ক্লান্তি দুরে রেখে এক কল্পনাহীন জগতে প্রবেশ করবে । এই ভুবনে থেকেও যেনো থাকবে না এই ভুবনে। একটুখানি সুখের আশায়।

কিন্তু এই নদীর বাতাসে এক অদ্ভুত জাদু আছে।
তবে সিমসামের শহরের সবাই প্রবেশ করতে পারে না।
সিমসামের শহরের প্রবেশ করতে লাগবে এক ফোঁটা নিষ্পাপ কান্না, যেটা কেউ দেখেনি—শুধু হৃদয় অনুভব করেছে।
লাগে একটা হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, যেটা আজও সন্ধ্যা হলেই খুঁজেন।
আর সবচেয়ে বেশি লাগে—একটা নির্মল মন।
নদীর মাঝে ভেসে বেড়ানো স্বপ্ন, আর একটি বিশাল নীল চন্দ্র—যেটা শুধু এই শহরেই দেখা যায়।
ব্যস এগুলো থাকলেই হবে।

তবে হুঁমম…
এই শহরের সময় সীমিত।
আপনি চাইলেই চিরকাল থাকতে পারবে না।
হুট করে একসময় আপনাকে ফিরতে হবে,
এই যান্ত্রিক, বাস্তব শহরে।

কিন্তু যতবার আপনি মন খারাপ নিয়ে নদীর পাড়ে যাবেন,
সিমসাম আবার হাত বাড়িয়ে বলবে—
“চলেন… আবার একটু ঘুরে আসি।”

আপনি কি প্রস্তুত সিমসামের শহরের জন্য?
--
বাসায় ফিরেই ক্লান্ত শরীরে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম। প্রতিদিনের মতো নিয়ম করে খাওয়াদাওয়া সেরে নিলাম তাড়াতাড়ি। তারপর বইয়ের শেলফের সামনে দাঁড়িয়ে গেলাম—আজ কোনটা পড়া যায়? শেষমেশ হুমায়ুন আহমেদ স্যারের একটা বই তুলে নিলাম। উনার লেখা মানেই যেন এক অন্যরকম শান্তি, এক নরম আবরণে মোড়া অনুভব।

বিছানায় এসে নরম আলোতে বসে পড়লাম বইটা নিয়ে। ঘরের জানালাটা খুলে দিতেই যেন এক যাদু শুরু হলো। সাদা জোছনার আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে মেঝে, বিছানা, বইয়ের পাতা—সব কিছু জড়িয়ে ধরলো এক নীরব ভালোবাসায়। চারপাশটা কেমন মায়াবী হয়ে উঠলো, যেন কেউ অদৃশ্যভাবে এক চাদরের মতো আলোর পরশ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে গোটা ঘর।

হালকা করে একটু একটু করে বাতাস আসছে, জানালা দিয়ে পর্দা দুলছে মৃদু ছন্দে।
80 Views
1 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: