আওয়াজ টা শুনতেই এবার আমি এক ঝটকায় পিছনে তাকালাম । আর পিছনে তাকাতেই আমি যা দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না ।
কারন আমি দেখলাম একটা ছেলে চিৎকার দিলো । ওখানে আরো কেউ আছে । কর্ণারে অন্ধকারের জন্য কিছুই বুঝা যাচ্ছে না ।
তাই বুঝার জন্য কাছে গেলাম । কাছে গিয়ে আমি আবার ঝটকা খেলাম । কারন এটা তো রাইসা । আর ওর দুইটা ছেলে বন্ধু ।
আমাকে আসতে দেখে একটা ছেলে রাইসার মুখ চেপে ধরছিল । আর রাইসা হাতে কামড় দিয়ে দেয় সেজন্য ছেলেটা চিৎকার করে ।
আমাকে দেখেই রাইসা কান্না করতে লাগলো । আর ছেলে দুইটা বললো,,,,,,,
ছেলেটিঃ এই তুই এখানে কি চাস ?
আমিঃ আপনারা এখানে ওর সাথে কি করছেন ?
ছেলেটিঃ আজ সুযোগ পেয়েছি । তাই সুযোগে সৎ ব্যবহার করছি ।
আমিঃ মানে ।
ছেলেটিঃ এতো মানে মানে করিস না । চাইলে তুই ও আমাদের সাথে জয়েন করতে পারিস ।
আমিঃ আপনারা তো ওর বন্ধু । আর বন্ধু হয়ে ওর এতোবড় সর্বনাশ কেন করছেন ।
ছেলেটিঃ হ্যাঁ বন্ধু ছিলাম । কিন্তু ওর বাবা যেদিন আমাদের অপমান করে বের করে দিয়েছে সেদিন ই ঠিক করে ছিলাম এর প্রতিশোধ আমরা ওর থেকে নিবোই । আর আজ সেটার সুযোগ পেয়েছি । আসলে ওকে ভোগ করার জন্যই বন্ধুত্বের নাটক করে গেছি ।
আমি তো ওদের কথা গুলো শুনে থ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম । এ আবার কেমন বন্ধুত্ব । এর চেয়ে আমাদের গ্রামের বন্ধুরাই অনেক ভালো । আমার চুপ থাকা দেখে ছেলেগুলো আবার বললো,,,,,,,,,,,,,
ছেলেটিঃ তোকেও তো ও সহ ওর বাবা অনেক অপমান করেছে । কতই অত্যাচার করছে । চাইলে তুই ও আমাদের সাথে জয়েন করতে পারিস । কি করবি তো ।
ওদের কথা শুনে রাইসা আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকালো । রাইসার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে । চোখ মুখ বিধস্ত । হাত গুলোও বাঁধা ।
দুইটা ছেলের শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ওর এমন অবস্থা হয়েছে । ওর সাথে আমার রাগ থাকতে পারে । কিন্তু এমন অবস্থায় এর সুযোগ নেওয়া মোটেও ঠিক হবে না।
ছেলে দুইটা আমার চেয়ে বড় হবে । এদের দুজনকে পরাজিত করতে হলে বুদ্ধি করে পরাজিত করতে হবে।
ছেলেটিঃ ওই এতো ভাবছিস কি ? হ্যাঁ না হয় না বল ?
রাইসা আবার আমার দিকে করুনভাবে তাকালো । হয়তো ভাবছে আমিও ওদের দলে যোগ দিবো।
আমি কোনো কথা না বলেই কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার তলপেটে লাথি মারলাম । আচমকা লাথি খেয়ে ছেলেটা একটু দূরে পড়ে গেল । এটা দেখে আরেকটা ছেলে আমাকে মা*র*তে এলো ।
গ্রামে আগে থেকেই মা*রা*মা*রি করতে অনেক ভালো লাগতো । কারণ ভালো মা*রা*মা*রি পারি । কিন্তু শহরে এসে তা কখনো দেখাই নি । এবার কারো বিপদে একটু মা*রা*মা*রি করায় যায় ।
এবারও ছেলেটাকে আচ্ছা মতো ধোলাই দিলাম।অবশ্য নিজেও কয়েকটা ঘুষি খেয়েছি । দুইটা ছেলে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওদের কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,,,
আমিঃ মেয়েদের সম্মান কর । তাহলে সম্মান পাবি ।
আমি রাইসার কাছে এসে ওর হাতের বাঁধন খুলে দিলাম আর রাইসা আমাকে সাথে সাথে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।
আমিঃ আরে কি করছেন । ছাড়ুন ।
কিছুক্ষন পর রাইসা আমাকে ছেড়ে দিলো ।
রাইসাঃ থ্যাংক ইউ সো মাচ । আমি ভাবছি তুমিও ওদের দলে যোগ দিবে ।
আমিঃ আরে সমস্যা নেই মেডাম । আসুন আপনাকে বাসায় পৌছে দেই ।
তারপর আমি রাইসাকে বাসায় নামিয়ে দিলাম । রাস্তায় আসার সময় আজকে রাইসা একদম চুপচাপ ছিল । একটা কথাও বলে নি ।
হয়তো সে অনেক ভয় পেয়ে আছে । বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি চলে আসতে লাগলাম এমন সময় রাইসা পিছন থেকে আমাকে ডাক দিলো,,,,,,,,,,
রাইসাঃ রাকিব ।
আমি পিছনে ঘুরে একটু কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ জ্বি মেডাম কিছু বলবেন ?
রাইসাঃ বাসায় আসো ।
আমিঃ ধন্যবাদ মেডাম । কিন্তু আমি যাবো না । আসছি ।
বলেই সেখান থেকে তাড়াতাড়ি করে চলে আসলাম । রাইসা পিছনে অনেকবার ডাকছে কিন্তু আর আমল দেই নি ।
রাইসা বাসায় যেতেই ওর এরকম অবস্থা দেখে আঙ্কেল আন্টি উতলা হয়ে বললেন,,,,,,,
আঙ্কেলঃ তোর কি হইছে মা । তোর এ অবস্থা কেন ?
রাইসা কোনো কথা না বলেই ওর বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করতে লাগলো । কিছুক্ষণ পর কান্না থামিয়ে আঙ্কেল আন্টি সব ঘটনা খুলে বললো ।
সব শুনে আঙ্কেল ছেলে গুলোর উপর অনেক রাগান্বিত হলো । আর সাথে সাথে পুলিশ কে ফোন করে ছেলেদের কে ধরিয়ে দেয় ।
আঙ্কেলঃ রাকিব আসছিল বাসায় নিয়ে আসিস নি কেন ?
রাইসাঃ আসতে বলছি কিন্তু আসে নি ।
আঙ্কেলঃ আমরা সত্যিই ওর ওপর অনেক অন্যায় করেছি । আর শেষ পর্যন্ত সে এগুলো ভুলে গিয়ে ওই তোর উপকার করলো । তোকে বলেছিলাম না গ্রামের মানুষ সত্যিই অনেক সহজসরল হয় ।
রাইসাঃ হুমম আব্বু এবার বুঝেছি গ্রামের মানুষ আর শহরের মানুষের পার্থক্য কোথায় ।
আঙ্কেলঃ যা মা এখন তুই তোর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নে ।
রাইসাঃ আব্বু আরেক টা কথা ?
আঙ্কেলঃ কি ?
রাইসাঃ আমি রাকিবকে..................
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,
কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
127
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating