মনুষ্যত্ব

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অফিস কলিগ ৫ হাজার টাকা ধার নিলো।দেওয়ার নাম নেই।লজ্জায় চাইতেও পারিনা।উনি আমার সামনে দিব্যি ঘুরে বেড়ান।

হা হুতাশ করতে লাগলাম।টাকা যে বড্ড প্রয়োজন।মুখ ফুটে বলাও যাচ্ছে না লজ্জায়।চিন্তিত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছি।রোজ অফিসে যে রিক্সায় যাই তিনি কল দিলেন।বললেন

" স্যার,রিক্সার টায়ার ফেটে গ্যাছে।রিং ও বেঁকে গেছে।কাল সকালে আমি আসতে পারবো না।আপনি কষ্ট করে অন্য রিক্সায় যাইয়েন "

" আচ্ছা "

কল কে'টে দিলাম।রিক্সাওয়ালা কিছুক্ষণ পর আবার কল করলো।

" স্যার আপনারে খুব মুশকিলে ফেলে দিলাম!ছুডো ছেলেটা রিক্সা গর্তে ফেলে দিয়ে এই অবস্থা করছে "

" সমস্যা নাই।রিক্সা ঠিক করুন,আমি অন্য রিক্সায় যাবোনি এই কয়েকদিন "

" জি স্যার "

কল কাটার কিছুক্ষণ পর আবারো কল।বিরক্ত হয়ে বললাম " কিছু বলতে চাইলে সরাসরি বলো "

" স্যার আমার এক হাজার টাকার প্রয়োজন।দিন মজুর,রিক্সা ঠিক করার টাকা নাই।ঘরে ভাত পানি বন্ধ হয়ে গেছে "

" বাড়ি এসে নিয়ে যাও "

রিক্সাওয়ালা টাকা নিতে আসলো।টাকা দিলাম।মনে মনে ভাবলাম,অফিসের ভদ্রলোক কলিগ যখন টাকা ফেরত দেয়নি এই রিক্সাওয়ালাও দিবে না।টাকা নিয়ে রিক্সাওয়ালা বললো

" স্যার এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দিবো "

চারদিনের দিন রিক্সাওয়ালা টাকা ফেরত দিলো।সাথে একটা পেঁয়ারা।হেসে বললো " স্যার,আপনে যে এই গরীবের কি যে উপকার করছেন!আপ্নে টাকাটা না দিলে রাস্তায় নামতে হইতো।আমার গাছের পেঁয়ারা স্যার,খান,খুব মিষ্টি "।পেঁয়ারা খাচ্ছি আর ভাবছি মনুষ্যত্ব জিনিসটা অন্যরকম।

আরো ছয় মাস কে'টে গেলো।কলিগ এখনো টাকা ফেরত দেয়নি।বুঝলাম দামী কাপড়,দামী পরিবেশে থেকেও অনেকে মনুষ্যত্বের অধিকারী হতে পারে না।

এটাই হলো গরিবের মনুষ্যত্ব...!!!
304 Views
8 Likes
1 Comments
3.8 Rating
Rate this: