গাছতলির ডাক


গাইবান্ধার ধানপুর গ্রামের শেষ মাথায় একটা পুরনো বটগাছ ছিল। চারদিক জঙ্গলাক্রান্ত, গাছটার নিচে একটা ভাঙা সিমেন্টের বসার জায়গা। গ্রামের লোকেরা বলত, সন্ধ্যার পর ওই গাছের ধার দিয়ে হেঁটে গেলে নাকি অদ্ভুত এক “ডাক” শোনা যায়।

একদিন গ্রামের কলেজপড়ুয়া ছেলেটি রাফি, বন্ধুদের চ্যালেঞ্জে পড়ে ঠিক করল—সে রাত দশটায় একা যাবে বটগাছের কাছে।
বন্ধুরা বলল, “ভূতের ভয় লাগে না রে?”
রাফি হেসে বলল, “ভূত আবার কই? সব গুজব।”https://account.golposomahar.com/my_story.php

রাত দশটায়, হাতে টর্চ আর মোবাইল নিয়ে রাফি হাঁটতে শুরু করল। রাস্তা একদম ফাঁকা, মাঝে মাঝে পাতা মচমচে শব্দ করছে। হঠাৎ সে শুনতে পেল—
“রাফি... রাফি... ফিরে যা…”

সে থমকে দাঁড়াল। ভয় পেলেও ভাবল, হয়তো কেউ মজা করছে। সে টর্চ জ্বালিয়ে গাছটার কাছে গেল। গাছটা যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে, পাতাগুলো শব্দ করছে না, বরং যেন কাঁপছে।

হঠাৎ তার মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত ছবি—একটা মেয়ের মুখ, ফ্যাকাসে রঙ, চোখে লাল রক্ত। সে চিৎকার করে মোবাইল ফেলে দিল।

আর তখনই তার পিছনে কারো ঠান্ডা নিঃশ্বাসের ছোঁয়া। সে দৌড়াতে চাইল, কিন্তু পা যেন মাটিতে আটকে গেল।

“আমি শুধু চাই, কেউ আমায় মনে রাখুক…”—একটা মেয়ে কণ্ঠ শুনল সে।

পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন দেখতে পেল, রাফি বসে আছে গাছের নিচে—চোখ দুটো স্থির, মুখে কোনো কথা নেই। ডাক্তারেরা দেখে বলল, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

লোকজন আবার বলাবলি করতে শুরু করল—“গাছতলির ডাক কেউ অগ্রাহ্য করলে, এমনটাই হয়।”

102 Views
1 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(1)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (1)

Reader photo
Unknown
20-May-2025, 09:12 PM

ভালো লাগলো গল্পটি