সামাজিক ব্যাধি

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমার সন্তান যখন কৈশোর পার হয়ে প্রাপ্তবয়স্কের দিকে পর্দাপন করা শুরু করবে আমি তখন থেকে ধীরে ধীরে তার প্রতি সম্পর্কের গিট হাল্কা হাল্কা করে ছেড়ে দিতে শুরু করবো।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধন,আত্নীয় স্বজনের বন্ধন,friend circle থেকে তাকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করবো।

কারন,সময় ও বয়সের সাথে সাথে তখন সে কর্মজীবনের দিকে এগিয়ে যাবে। তার জীবনে নতুন কেউ আসবে। আর তার পূর্ণ অধিকার থাকবে আমার ছেলের জীবনে। তো আমি যদি আমার ছেলেকে শৈশবের কৈশোরের সেই বাধাধরা থেকে মুক্ত না করি,তাহলে নতুন জীবন সে উপভোগ করতে পারবে না। পারিবারিক, সঙ্গী, কর্মজীবন,friends, আড্ডা সবকিছুর চাপে সে মরে যাবে,হারিয়ে যাবে। তাই পুরোনো বন্ধন গুলো না হয় হাল্কা হয়ে যাক,,আর নতুন জীবন সে উপভোগ করুক🤍। এটা অভিভাবক হিসেবে, মা হিসেবে, শ্বাশুড়ি হিসেবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

দ্বিতীয়ত,, আমি আমার সন্তানের জীবনে এক সুন্দর রহমত মাত্র,, এক অতিথি মাত্র। তার মা হিসেবে আমি তাকে শৈশব থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ রুপে গড়ে তুলবো। তাকে শিক্ষিত করবো,তাকে train করবো, তাকে matured করবো,,দায়িত্ববান করবো,বাস্তবতা শিখাবো, বাস্তববাদী বানাবো।

তাকে সম্পর্কের প্রতি সম্মান করা শিখাবো,দায়িত্বশীল হওয়া শিক্ষা দিবো।সঙ্গীর প্রতি মনোযোগী ও সুন্দর, ধৈর্য্যশীল হওয়া শিখাবো। সকল মন্দ কে এড়িয়ে চলা, fight করা,নিজেকে আগলে রাখা, নিজের জীবনের সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া। যেকেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ন্যায় করা,বলা... Etc শিখাবো

তাকে এক সুন্দর মানুষ রুপে গড়ে তুলবো।যে সুন্দর মনুষ্যত্ব এর মধ্যে ভালো সন্তান, ভালো স্বামী, ভালো বাবা ভাই সব পরিচয় এমনিতেই ফুটে উঠবে।

তাকে আমি মায়ের গোলাম বানাবো না। তাকে আমি egoism বানাবো না যে কিনা,, পুরুষত্বের ঠেলায় ভুল স্বীকার করতে পারবে না,, উগ্র হবে, রাগ বেশি হবে, সবার সামনে ঠাটে থাকবetc.... এসব ভুলেও না।

আমাদের সমাজে মূলত ছেলেদের মানুষ রুপে বড় না করে,, মায়ের গোলাম/ আদরের সন্তান,, egoism (পুরুষত্ব ভাব) ভাবে বড় করা হয়। যা আমাদের সমাজের এক ব্যাধি। আর সেজন্যই তারা শুধু মা কে ছাড়া নিজের অস্তিত্ব কে চিনে না,,সঙ্গী কে মূল্যায়ন করে না। নারীদের অবলা ভাবে,,, আর সাংসারিক জীবনে অশান্তি। জীবনে প্যারা!!কারণ তারা তো খুব বড় ১টা অন্ধকারাচ্ছন্নে থাকে,শিক্ষার অভাবে। যার ভোগান্তি ভুগে পরনারীরা বা তাদের স্ত্রী গণেরা

ASP পলাশ সাহার ঘটনা আরও অনেক কিছু হতে পারে,, তবে পারিবারিক কারণ যেহেতু উঠেছে,, সেও এই একই মায়ের গোলাম / আদরের সন্তান এর শিকার। যার জীবনের বাস্তবিক শিক্ষার অভাব,, আর সঙ্গী সংসার,,নতুন জীবন গড়েই উঠলো না।

আমার জীবনে আমার ব্যাক্তিগত পুরুষটাও এমন। পারিবারিক শিক্ষার খুব অভাব তার..জানেনা সম্পর্কে কিভাবে দায়িত্ব শীল হতে হয়,,কিভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়,সঙ্গীর প্রতি কেমন আচরণ, কি করতে হবে, সঙ্গীর সুখ দুঃখের কোন হেলদোল নেই। maturity শিক্ষা পায়নি,বাস্তব ও সত্য কে চেনে না,,তার ক্যারিয়ার + etc..বিষয়েও তার মা সিদ্ধান্ত নেই, মায়ের স্বপ্ন,, সে নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। নিজের অস্তিত্ব বুঝে না। যতটুকু বুঝে তা হচ্ছে আমি পুরুষ.. আমি ভুল স্বীকার করবো না। আমি রাগ দেখাবো,মারবো,অত্যাচার করবো,ভেয়াদভ হবো,উগ্র হবো,আড্ডাবাজি করবো,মানুষ হবো না,আমার ঠাট থাকবে এসব!! আল্লাহ হেদায়েত করুক তাকে🤲।

যাই হোক, আমাদের সমাজ, দেশ,দুনিয়া থেকে এই সমাজিক ব্যাধি মুছে যাওয়া উচিত। প্রতিটি পরিবার এর ছেলে ও মেয়ে সন্তানের প্রতি ভালো প্যারেন্টিং হওয়া উচিত। তারা যেন জীব জড় সবকিছুর জন্য মঙ্গলজনক হয়, অন্ধকার নয়!!
ছেলেদেরও তাদের নিজেদের প্রতি সতর্ক হওয়া উচিত,, সে আদৌ সঠিক রাস্তায় আছে কি না,,পরিবার + সঙ্গী ২টোকেই সামলানোর দক্ষতা রাখা উচিত। ধর্মকে অনুসরণ করা উচিত।

আর,,নারীদেরও শ্বাশুড়ি পরিচয়ের মর্যাদাটা রাখা উচিত। নারী হয়ে আরেক নারীর(বউমাদের) ধ্বংস না করি!! ব্যাস!! তাহলেই যথেষ্ট।

57 Views
1 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: