আকাশের নীলে প্রিয়ন্তী
পরীক্ষা শেষ। মাথায় কোনো চাপ নেই, পড়ার না, রাত জাগার না, এমনকি মেসেঞ্জারে “নতুন নোট পাস করবি?”—এই প্রশ্নটারও না। পুরো শরীরটাই হালকা লাগছে। কোলবালিশটাকে বুকে জড়িয়ে একরকম প্রশান্তির ঘুমে হারিয়ে গেছিলাম।
হঠাৎ খুব ভোরে অভ্যাসে ঘুম ভেঙে যায়। ফোনে দেখি, মাত্র ৬টা বাজে। ঘুমানোর আবার প্ল্যান করি—আর ঠিক তখনই ফোনটা বালিশের পাশে গুউগ গুউগ করে ভাইব্রেট করতে থাকে। চোখ আধা খুলেই স্ক্রিনে দেখি—"প্রিয়ন্তী কলিং..."
ঘুমের ঘোর হাওয়ায় উড়ে যায়।
– “হ্যালো?”
– “কিসের হ্যালো! কই থাকিস? রিং হচ্ছে অথচ ধরিস না!”
– “এই সাত সকালে কি তুই ঝগড়া করতে ফোন করেছিস?”
– “যদি তাই মনে হয়, তাহলে তাই! শোন, ঠিক সাড়ে আটটায় CNB-তে যেন তোর মুখ দেখতে পাই। এখন বাজে আটটা! মানে শুরু কর দৌড়।”
ফোন কেটে যায়।
তাকিয়ে থাকি ফোনটার দিকে। মাথা কাজ করছে না। লাফ দিয়ে উঠতেই খাটের পায়াতে পা ঠেকে গিয়েই ব্যথায় চিৎকার!
প্রিয়ন্তীর সাথে পরিচয় হয়েছিল মণি বাজারে মাসুম ভাইয়ের বইয়ের দোকানে। ফেসবুক রাইটারদের লেখা বইয়ে আমার একটা গল্প ছাপা হয়েছিল—"ওরা এখনও বন্ধু"। সেটা নিয়েই ঘটেছিল অদ্ভুত এক ঘটনার সূত্রপাত।
তবে সেই দিন, মাসুম ভাইয়ের দোকানে শুধু প্রিয়ন্তী ছিল না। আরও দুজন ছিল—
তানিম: প্রিয়ন্তীর ছোটভাই, যার বই নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই, সে এসেছিল শুধু ফুচকা খাওয়ার লোভে।
রাফিয়া: প্রিয়ন্তীর বান্ধবী, যার চেহারা রীতিমতো স্টাইল ম্যাগাজিনে ছাপানো যায়, কিন্তু কথা বলে যেন সোজা হিন্দি সিরিয়াল থেকে উঠে এসেছে।
তানিম আর রাফিয়া আসলে গিয়েছিল দোকানে, বই কেনার নাম করে, প্রিয়ন্তীর পেছনে পেছনে।
সেদিনের কথা যেন এখনো চোখে ভাসে।
প্রিয়ন্তী রাগে টগবগ করে বলল, “সব লেখক কি এমন লেট করে? এক ঘণ্টা ওয়েট করলাম!”
আমি তখন ভেতরে ভেতরে ভাবছি, “আকাশের রং যদি মেয়েরা হয়ে আসতো, তাহলে নিশ্চয় এমনই লাগত!”
তারপর সে আমার গল্পের কথা বলল। জানালো, কতবার পড়েছে! আমি তখন শুধু তাকিয়ে ছিলাম তার চশমার ভেতর লুকানো চোখের দিকে।
"আপনার লেখার প্রেমে পড়ে গেছি..."
এই একটা বাক্য আমার ভেতরের শিরা-উপশিরা সব কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
আজ প্রিয়ন্তী রিকশায় আমার পাশে বসে।
রাফিয়া আর তানিম CNB-র পাশেই ফুচকা খাচ্ছে, আর আমি গালে হাত বুলাচ্ছি—দশ দিন ধরে বড় করা দাড়ির ওপর।
প্রিয়ন্তী রাগে ফুঁসছে, “কিরে? আমার কথা কানে যাচ্ছে?”
আমি হেসে বলি, “দাড়ি কাটতে তোদের চেয়ে বেশি কষ্ট হয়...”
রিকশা থেমে যায়।
প্রিয়ন্তী নামতে নামতে বলে, “তোর গল্পের শেষ কি আমি জানি না? কিন্তু আমার গল্প তো তুই লিখিস না!”
আমি একটু থেমে বলি,
“তোর গল্পটা লিখছি... আকাশের নীলে, খুব যত্নে।”
আকাশের নীলে
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
58
Views
1
Likes
3
Comments
5.0
Rating